ঢাকা ১১:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

কারা হেফাজতে মৃত্যু: রাষ্ট্রের দায় ও করণীয়

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৫২:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২২ বার পড়া হয়েছে

দেশে কারাগারে হেফাজতে থাকা নাগরিকদের মৃত্যুর সংবাদ প্রায়ই গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। ৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে  জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোতে যুবদলের এক নেতার মৃত্যুর খবর এসেছে। এর ঠিক আগের সপ্তাহেই সংবাদমাধ্যমে আমরা দেখেছি আওয়ামী লীগের একজন নারী কর্মী এবং একই সঙ্গে ঢাকার ওয়ার্ড পর্যায়ের এক নেতার মৃত্যুর ঘটনা। দলমতের ভেদাভেদ এখানে মূল বিষয় নয়; মূল বিষয় হলো রাষ্ট্রের হেফাজতে থাকা প্রতিটি মানুষ নিরাপত্তা, মর্যাদা ও চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অধিকারী। এই অধিকার ক্ষুণ্ণ হলে তা শুধু পরিবার নয়, পুরো সমাজের মানবাধিকার পরিস্থিতি ও আইনের শাসনের প্রতি বিশ্বাসকে আঘাত করে।    

কারাগারে যে কোনও মৃত্যু স্বভাবতই উদ্বেগজনক। কারণ একজন নাগরিক একবার রাষ্ট্রের হেফাজতে গেলে তার নিরাপত্তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব রাষ্ট্রের ওপর বর্তায়। কেউ অপরাধী হোক বা অভিযোগের মুখোমুখি, তার মৌলিক অধিকার অক্ষুণ্ণ রাখার দায়িত্ব রাষ্ট্র এড়াতে পারে না। তাই হেফাজতে মৃত্যুর প্রতিটি ঘটনা শুধু মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, আইনি ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও রাষ্ট্রের জবাবদিহি দাবি করে।

সাম্প্রতিক সংবাদগুলোতে যা লক্ষ্য করা যায়, তা হলো কারাগারে অপ্রতুল চিকিৎসা সুবিধা, পর্যাপ্ত ডাক্তার ও মেডিকেল স্টাফের অভাব ও বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবার সীমাবদ্ধতা এবং সবচেয়ে বড় সমস্যা ধারণ ক্ষমতার চেয়েও বেশি বন্দি। ধারণা করা যায় এ সবের কারণে স্যানিটেশন, বিশুদ্ধ পানি, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পর্যাপ্ত বিশ্রামের জায়গা প্রতিটি মৌলিক বিষয়েই সংকট তৈরি হচ্ছে।

এমন পরিবেশে ‘স্বাভাবিক অসুস্থতা’ও অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি করে। এ অবস্থায় যদি মৃত্যুর ঘটনা ক্রমাগত বাড়তে থাকে, তবে রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের আস্থা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতির প্রতি সম্মান দুটোই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন কারাগারে কমপক্ষে ৯৫ জন নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৬৪ জন হাজতী এবং ৩১ জন কয়েদি। উল্লেখ্য, আসকের তথ্য মতে ২০২৪ সালে ৬৫ জন, ২০২৩ সালে ১০৬ জন এবং ২০২২ সালে ৬৫ জন নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে।

দেশের  প্রচলিত আইন অনুযায়ী কারা হেফাজতে মৃত্যুর প্রতিটি ঘটনা তদন্তযোগ্য। বাংলাদেশ সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ স্পষ্টভাবে বলে, রাষ্ট্র কাউকে হেফাজতে রেখে তার জীবন ও মানবিক মর্যাদা রক্ষায় বাধ্য।

কারাগারের ভেতরের চিকিৎসাব্যবস্থা সম্পর্কে বারবার সংবাদ মাধ্যমে প্রতিবেদন তৈরি হলেও কাঠামোগত পরিবর্তন এখনও খুব সীমিত। অনেক কারা হাসপাতালেই নেই পর্যাপ্ত সুবিধা,  ডাক্তার, আধুনিক ল্যাব সুবিধা কিংবা জরুরি চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। ফলে একটু গুরুতর অসুস্থ হলে বন্দীকে বাইরে হাসপাতালে নেওয়া ছাড়া উপায় থাকে না। কিন্তু সঠিক সময়ে হাসপাতালে নেওয়া, যথাসময়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা ও এর পরবর্তী চিকিৎসা, এসব অনেক সময়েই প্রশাসনিক জটিলতা, জনবল সংকট বা ক্ষেত্র বিশেষে অবহেলার কারণ বলে পরিবারগুলো অভিযোগ করে আসছে।

এ পরিস্থিতি থেকে আমরা উত্তোরণ চাই। আর সেজন্য  আমাদের কিছু পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। যার মধ্যে প্রথমত, কারাগারের চিকিৎসা ব্যবস্থা জরুরি ভিত্তিতে আধুনিকীকরণ করতে হবে। প্রতিটি কারা হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসক উপস্থিতি, প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের নিয়মিত ভিজিট, পর্যাপ্ত নার্স ও টেকনিশিয়ান থাকা বাধ্যতামূলক করা উচিত। বন্দীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বিশেষ করে প্রবীণ ও আগে থেকে অসুস্থ বন্দীদের জন্য আলাদা মেডিকেল মনিটরিং সিস্টেম চালু করা জরুরি।   

দ্বিতীয়ত, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। রাষ্ট্রের হেফাজতে মৃত্যুর প্রতিটি ঘটনায় একটি স্বতন্ত্র ‘কাস্টডিয়াল ডেথ ইনভেস্টিগেশন ইউনিট’ গঠনের প্রয়োজন রয়েছে। এই ইউনিট প্রশাসনের বাইরে থেকে পরিচালিত হবে এবং তাদের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা উচিত। এতে পরিবার, সমাজ ও আদালতের কাছে রাষ্ট্রের জবাবদিহি আরও প্রতিষ্ঠিত হবে।

তৃতীয়ত, ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি বন্দি কমাতে নীতিগত সংস্কার অত্যন্ত জরুরি। জামিনযোগ্য মামলায় অযথা দীর্ঘ কারাবাস এড়াতে বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত করার পাশাপাশি প্রবেশন, কমিউনিটি সার্ভিস, পুনর্বাসনমূলক বিকল্প শাস্তি এসব ব্যবস্থা আরও সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। নারী, প্রবীণ, অসুস্থ ও অপ্রত্যাশিতভাবে দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ায় আটকে থাকা বন্দীদের ক্ষেত্রে বিশেষ নীতি প্রণয়নও গুরুত্বপূর্ণ।

চতুর্থত, কারা প্রশাসনের প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা জরুরি। কারা কর্মকর্তাদের মানবাধিকার, ঝুঁকিপূর্ণ বন্দীদের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ, জরুরি চিকিৎসা সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড সম্পর্কে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিতে হবে। মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও পেশাগত দক্ষতা দুটিই এখানে সমান গুরুত্বপূর্ণ।

পঞ্চমত, কারাগারের অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো উন্নয়ন পর্যাপ্ত আলো বাতাস, নিরাপদ পানি, উন্নত স্যানিটেশন, পর্যাপ্ত জায়গা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এসবকে ‘অতিরিক্ত সুবিধা’ নয়, বরং মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

কারাগারে মৃত্যুহার কমানো এটি মানবিক ও ন্যায়বিচারের অংশ এবং রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারেরও প্রতিফলন। হেফাজতে মৃত্যুর প্রতিটি সংবাদ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, একজন মানুষ রাষ্ট্রের জিম্মায় থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু কোনোভাবেই কাম্য নয়।

এ অবস্থায় প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি, যা সম্মিলিতভাবে আমাদের কারাগার ব্যবস্থাকে আরও  জবাবদিহিমূলক ও নিরাপদ করতে পারে।   

লেখক: মানবাধিকার কর্মী

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পারমাণবিক ইস্যু অজুহাত, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইরান

কারা হেফাজতে মৃত্যু: রাষ্ট্রের দায় ও করণীয়

আপডেট সময় : ১১:৫২:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫

দেশে কারাগারে হেফাজতে থাকা নাগরিকদের মৃত্যুর সংবাদ প্রায়ই গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। ৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে  জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোতে যুবদলের এক নেতার মৃত্যুর খবর এসেছে। এর ঠিক আগের সপ্তাহেই সংবাদমাধ্যমে আমরা দেখেছি আওয়ামী লীগের একজন নারী কর্মী এবং একই সঙ্গে ঢাকার ওয়ার্ড পর্যায়ের এক নেতার মৃত্যুর ঘটনা। দলমতের ভেদাভেদ এখানে মূল বিষয় নয়; মূল বিষয় হলো রাষ্ট্রের হেফাজতে থাকা প্রতিটি মানুষ নিরাপত্তা, মর্যাদা ও চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অধিকারী। এই অধিকার ক্ষুণ্ণ হলে তা শুধু পরিবার নয়, পুরো সমাজের মানবাধিকার পরিস্থিতি ও আইনের শাসনের প্রতি বিশ্বাসকে আঘাত করে।    

কারাগারে যে কোনও মৃত্যু স্বভাবতই উদ্বেগজনক। কারণ একজন নাগরিক একবার রাষ্ট্রের হেফাজতে গেলে তার নিরাপত্তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব রাষ্ট্রের ওপর বর্তায়। কেউ অপরাধী হোক বা অভিযোগের মুখোমুখি, তার মৌলিক অধিকার অক্ষুণ্ণ রাখার দায়িত্ব রাষ্ট্র এড়াতে পারে না। তাই হেফাজতে মৃত্যুর প্রতিটি ঘটনা শুধু মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, আইনি ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও রাষ্ট্রের জবাবদিহি দাবি করে।

সাম্প্রতিক সংবাদগুলোতে যা লক্ষ্য করা যায়, তা হলো কারাগারে অপ্রতুল চিকিৎসা সুবিধা, পর্যাপ্ত ডাক্তার ও মেডিকেল স্টাফের অভাব ও বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবার সীমাবদ্ধতা এবং সবচেয়ে বড় সমস্যা ধারণ ক্ষমতার চেয়েও বেশি বন্দি। ধারণা করা যায় এ সবের কারণে স্যানিটেশন, বিশুদ্ধ পানি, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পর্যাপ্ত বিশ্রামের জায়গা প্রতিটি মৌলিক বিষয়েই সংকট তৈরি হচ্ছে।

এমন পরিবেশে ‘স্বাভাবিক অসুস্থতা’ও অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি করে। এ অবস্থায় যদি মৃত্যুর ঘটনা ক্রমাগত বাড়তে থাকে, তবে রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের আস্থা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতির প্রতি সম্মান দুটোই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন কারাগারে কমপক্ষে ৯৫ জন নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৬৪ জন হাজতী এবং ৩১ জন কয়েদি। উল্লেখ্য, আসকের তথ্য মতে ২০২৪ সালে ৬৫ জন, ২০২৩ সালে ১০৬ জন এবং ২০২২ সালে ৬৫ জন নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে।

দেশের  প্রচলিত আইন অনুযায়ী কারা হেফাজতে মৃত্যুর প্রতিটি ঘটনা তদন্তযোগ্য। বাংলাদেশ সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ স্পষ্টভাবে বলে, রাষ্ট্র কাউকে হেফাজতে রেখে তার জীবন ও মানবিক মর্যাদা রক্ষায় বাধ্য।

কারাগারের ভেতরের চিকিৎসাব্যবস্থা সম্পর্কে বারবার সংবাদ মাধ্যমে প্রতিবেদন তৈরি হলেও কাঠামোগত পরিবর্তন এখনও খুব সীমিত। অনেক কারা হাসপাতালেই নেই পর্যাপ্ত সুবিধা,  ডাক্তার, আধুনিক ল্যাব সুবিধা কিংবা জরুরি চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। ফলে একটু গুরুতর অসুস্থ হলে বন্দীকে বাইরে হাসপাতালে নেওয়া ছাড়া উপায় থাকে না। কিন্তু সঠিক সময়ে হাসপাতালে নেওয়া, যথাসময়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা ও এর পরবর্তী চিকিৎসা, এসব অনেক সময়েই প্রশাসনিক জটিলতা, জনবল সংকট বা ক্ষেত্র বিশেষে অবহেলার কারণ বলে পরিবারগুলো অভিযোগ করে আসছে।

এ পরিস্থিতি থেকে আমরা উত্তোরণ চাই। আর সেজন্য  আমাদের কিছু পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। যার মধ্যে প্রথমত, কারাগারের চিকিৎসা ব্যবস্থা জরুরি ভিত্তিতে আধুনিকীকরণ করতে হবে। প্রতিটি কারা হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসক উপস্থিতি, প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের নিয়মিত ভিজিট, পর্যাপ্ত নার্স ও টেকনিশিয়ান থাকা বাধ্যতামূলক করা উচিত। বন্দীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বিশেষ করে প্রবীণ ও আগে থেকে অসুস্থ বন্দীদের জন্য আলাদা মেডিকেল মনিটরিং সিস্টেম চালু করা জরুরি।   

দ্বিতীয়ত, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। রাষ্ট্রের হেফাজতে মৃত্যুর প্রতিটি ঘটনায় একটি স্বতন্ত্র ‘কাস্টডিয়াল ডেথ ইনভেস্টিগেশন ইউনিট’ গঠনের প্রয়োজন রয়েছে। এই ইউনিট প্রশাসনের বাইরে থেকে পরিচালিত হবে এবং তাদের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা উচিত। এতে পরিবার, সমাজ ও আদালতের কাছে রাষ্ট্রের জবাবদিহি আরও প্রতিষ্ঠিত হবে।

তৃতীয়ত, ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি বন্দি কমাতে নীতিগত সংস্কার অত্যন্ত জরুরি। জামিনযোগ্য মামলায় অযথা দীর্ঘ কারাবাস এড়াতে বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত করার পাশাপাশি প্রবেশন, কমিউনিটি সার্ভিস, পুনর্বাসনমূলক বিকল্প শাস্তি এসব ব্যবস্থা আরও সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। নারী, প্রবীণ, অসুস্থ ও অপ্রত্যাশিতভাবে দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ায় আটকে থাকা বন্দীদের ক্ষেত্রে বিশেষ নীতি প্রণয়নও গুরুত্বপূর্ণ।

চতুর্থত, কারা প্রশাসনের প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা জরুরি। কারা কর্মকর্তাদের মানবাধিকার, ঝুঁকিপূর্ণ বন্দীদের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ, জরুরি চিকিৎসা সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড সম্পর্কে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিতে হবে। মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও পেশাগত দক্ষতা দুটিই এখানে সমান গুরুত্বপূর্ণ।

পঞ্চমত, কারাগারের অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো উন্নয়ন পর্যাপ্ত আলো বাতাস, নিরাপদ পানি, উন্নত স্যানিটেশন, পর্যাপ্ত জায়গা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এসবকে ‘অতিরিক্ত সুবিধা’ নয়, বরং মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

কারাগারে মৃত্যুহার কমানো এটি মানবিক ও ন্যায়বিচারের অংশ এবং রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারেরও প্রতিফলন। হেফাজতে মৃত্যুর প্রতিটি সংবাদ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, একজন মানুষ রাষ্ট্রের জিম্মায় থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু কোনোভাবেই কাম্য নয়।

এ অবস্থায় প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি, যা সম্মিলিতভাবে আমাদের কারাগার ব্যবস্থাকে আরও  জবাবদিহিমূলক ও নিরাপদ করতে পারে।   

লেখক: মানবাধিকার কর্মী