বেলারুশ থেকে নিয়মিত বিরতিতে পাচারকারীদের পাঠানো গ্যাস বেলুন নিয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে লিথুয়ানিয়া। পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশটিতে মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। একইসঙ্গে পুলিশ ও সীমান্তরক্ষীদের সহায়তার জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েনের অনুমতি দিতে পার্লামেন্টের কাছে আবেদন করেছে সরকার।
ইতস্তত ভেসে আসা এসব আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ বেলুনের কারণে লিথুয়ানিয়ার ভিলনিয়াস বিমানবন্দর বেশ কয়েকবার কার্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে। তাদের অভিযোগ, বেলারুশ থেকে এসব বেলুনের মাধ্যমে সিগারেট পাঠায় চোরাকারবারিরা। দেশটি এগুলোকে “হাইব্রিড হামলা” হিসেবে দেখছে।
উল্লেখ্য, বেলারুশ রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র।
লিথুয়ানিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভ্লাদিস্লাভ কন্দ্রাতোভিচ বলেন, জরুরি অবস্থা শুধু বেসামরিক বিমান চলাচল বিঘ্নিত হওয়ার কারণে নয়, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেও ঘোষণা করা হয়েছে। তাই সরকার পার্লামেন্টকে অনুরোধ করেছে, জরুরি অবস্থায় সেনাবাহিনীকে একক বা যৌথভাবে পুলিশ, সীমান্তরক্ষী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে কাজের ক্ষমতা দিতে।
পার্লামেন্ট অনুমোদন দিলে সেনাবাহিনী নির্দিষ্ট এলাকার প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ, যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি, ব্যক্তির পরিচয়পত্র ও মালপত্র পরীক্ষা, এবং অপরাধ সন্দেহভাজন বা প্রতিরোধকারীদের আটকের ক্ষমতা পাবে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্টাস কাউনাস বলেন, এসব দায়িত্ব পালনে সেনাবাহিনী বলপ্রয়োগের অনুমতিও পাবে। সরকার জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করার আগ পর্যন্ত এই অবস্থা কার্যকর থাকবে।
অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বেলারুশ বলেছে, লিথুয়ানিয়া বরং পাল্টা উস্কানিমূলক কাজ করেছে। তারা একটি ড্রোন ব্যবহার করে “চরমপন্থি উপকরণ” ফেলেছে। লিথুয়ানিয়া আবার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
মঙ্গলবার বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো বলেন, চোরাকারবারি বেলুন নিয়ে লিথুয়ানিয়া অতিরঞ্জিত মন্তব্য করছে।
রাষ্ট্রীয় সংস্থা বেল্টায় প্রচারিত ভাষণে তিনি আরও বলেন, লিথুয়ানিয়ানরা যা বলছে তা অসম্ভব এবং অবাস্তব। বিষয়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে। মিনস্ক প্রতিবেশীদের সঙ্গে যুদ্ধ চায় না।
লিথুয়ানিয়া ২০২১ সালেও বেলারুশ সীমান্ত অঞ্চলে জরুরি অবস্থা জারি করেছিল। সে সময় মিনস্কের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে অভিবাসীদের ঠেলে পাঠানোর অভিযোগ করেছিল দেশটি।
পরের বছর ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরু হলে, হামলার পরবর্তী শিকার হওয়ার আশঙ্কায় জরুরি অবস্থা জারি করেছিল ভিলনিয়াস।
সূত্র: রয়টার্স
রিপোর্টারের নাম 



















