ঢাকা ০৫:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

‘স্ত্রী সুখী করতে পারে না, যৌনতায় একাকী’: শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের অভিযোগ

ঢাকার সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগের প্রভাষক মো. লিমন হোসেনের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন নারী শিক্ষার্থী। তাদের অভিযোগ, ক্লাসে বিভিন্ন অশালীন কথা বলা ও ফেসবুকে আপত্তিকর বার্তা পাঠান ওই শিক্ষক।

রবিবার (৭ ডিসেম্বর) গণ বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে করা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, প্রভাষক লিমন হোসেন বিভিন্নভাবে শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানি করছেন। তিনি তার কেবিনে নারী শিক্ষার্থীদের ডেকে নিয়ে বিভিন্ন অশালীন মন্তব্য করেন। অনেক সময় তাদের বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন অশালীন বার্তা পাঠাতেন। যেমন- তার স্ত্রী তাকে সুখী করতে পারে না, তিনি যৌনতার ক্ষেত্রে অনেক একাকী, এ ছাড়াও অনেক আপত্তিকর কথা, যা প্রকাশ করার মতো নয়। 

এ ছাড়াও অপর একটি লিখিত অভিযোগ করা হয় আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে। পাঁচটি দফা উল্লেখ করা ওই অভিযোগে বলা হয়, শিক্ষক লিমন হোসেন ধর্ষণে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের সশরীরে থানায় গিয়ে ছাড়ানোর চেষ্টা করেছেন। অপরাধীকে বাঁচানোর চেষ্টাও অপরাধের শামিল। এ ছাড়া ক্লাসে পড়ানোর ছলে তিনি শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত জীবনে জোরপূর্বক প্রবেশ করে শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত বিষয়ে সবার সামনে উপস্থাপন করে শিক্ষার্থীদের হেয় করেন। একজন শিক্ষক হিসেবে তার পড়ানোর পদ্ধতি কোনোভাবেই গবেষণা কেন্দ্রিক নয় উল্টো তিনি গলাধঃকরণ পদ্ধতিতে বিশ্বাস করেন। যা শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল মেধাকে বিনষ্ট করে।

তিনি স্বজনপ্রীতি নীতি ব্যবহার করে, ব্রিটিশ পদ্ধতি ডিভাইড অ্যান্ড রুল পলিসি (Divide and Rule policy) প্রয়োগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করেন যা পরে বড় অপরাধের জন্ম দেয়। 

ক্যাম্পাসে বিগত দিনে ঘটে যাওয়া প্রায় সব অপরাধের সঙ্গে জড়িত চক্রের সঙ্গে এমনকি সম্প্রতি বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও প্রভাষক লিমন হোসেনের একান্ত সম্পর্ক বিদ্যমান এবং তাদের প্রকাশ্য মদতদাতা তিনিই- যা শিক্ষার্থী মনে ক্রমশ ভীতি সঞ্চার করছে।

এর আগে রবিবার (৭ ডিসেম্বর) ক্যাম্পাসের একটি মিলনায়তনে শিক্ষার্থীরা লিমন হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিস্তারিত তুলে ধরে বক্তব্য দেন। সেখানে তারা দ্রুত তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান। 

একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, উনি মানুষের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আগ্রহী। যা আমাদের বিব্রত করে। এমনকি নিজের ব্যক্তিগত জীবনের প্রেম-বিচ্ছেদের গল্পও বারবার বলে বিব্রত করতে থাকেন। কে কার সঙ্গে মিশবে না মিশবে সে বিষয়েও তিনি হস্তক্ষেপ করেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষক লিমন হোসেন বলেন, ‘এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে আমি অবগত নই। আমি এ ধরনের কোনও কথা বলিনি। অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য এ ধরনের অভিযোগ তোলা হয়েoviছে।’

যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলের প্রধান ড. ওয়াহিদা জামান লস্কর বলেন, ‘আজই তাকে যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলের সভাপতির দায়িত্বের বিষয়ে প্রশাসন থেকে চিঠি প্রদান করা হয়েছে।’ তবে উপাচার্যের কাছে দেওয়া অভিযোগ পত্রের বিষয়ে তিনি এখনো অবগত নন। 

সার্বিক বিষয়ে জানতে গণ বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হোসেনের মোবাইল নম্বরে কল করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। 

এদিকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে গণ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে সাত দিন সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত চলাকালে আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. রফিকুল আলম ও প্রভাষক লিমন হোসেনকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। এই সময়ে তারা একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবেন। 

তদন্ত কমিটিতে ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. জহিরুল ইসলাম খানকে সভাপতি ও বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবু রায়হানকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পশ্চিম তীরে ইসরাইলি আগ্রাসন, অর্ধশতাধিক ফিলিস্তিনি আটক

‘স্ত্রী সুখী করতে পারে না, যৌনতায় একাকী’: শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৬:৩৪:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫

ঢাকার সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগের প্রভাষক মো. লিমন হোসেনের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন নারী শিক্ষার্থী। তাদের অভিযোগ, ক্লাসে বিভিন্ন অশালীন কথা বলা ও ফেসবুকে আপত্তিকর বার্তা পাঠান ওই শিক্ষক।

রবিবার (৭ ডিসেম্বর) গণ বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে করা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, প্রভাষক লিমন হোসেন বিভিন্নভাবে শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানি করছেন। তিনি তার কেবিনে নারী শিক্ষার্থীদের ডেকে নিয়ে বিভিন্ন অশালীন মন্তব্য করেন। অনেক সময় তাদের বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন অশালীন বার্তা পাঠাতেন। যেমন- তার স্ত্রী তাকে সুখী করতে পারে না, তিনি যৌনতার ক্ষেত্রে অনেক একাকী, এ ছাড়াও অনেক আপত্তিকর কথা, যা প্রকাশ করার মতো নয়। 

এ ছাড়াও অপর একটি লিখিত অভিযোগ করা হয় আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে। পাঁচটি দফা উল্লেখ করা ওই অভিযোগে বলা হয়, শিক্ষক লিমন হোসেন ধর্ষণে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের সশরীরে থানায় গিয়ে ছাড়ানোর চেষ্টা করেছেন। অপরাধীকে বাঁচানোর চেষ্টাও অপরাধের শামিল। এ ছাড়া ক্লাসে পড়ানোর ছলে তিনি শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত জীবনে জোরপূর্বক প্রবেশ করে শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত বিষয়ে সবার সামনে উপস্থাপন করে শিক্ষার্থীদের হেয় করেন। একজন শিক্ষক হিসেবে তার পড়ানোর পদ্ধতি কোনোভাবেই গবেষণা কেন্দ্রিক নয় উল্টো তিনি গলাধঃকরণ পদ্ধতিতে বিশ্বাস করেন। যা শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল মেধাকে বিনষ্ট করে।

তিনি স্বজনপ্রীতি নীতি ব্যবহার করে, ব্রিটিশ পদ্ধতি ডিভাইড অ্যান্ড রুল পলিসি (Divide and Rule policy) প্রয়োগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করেন যা পরে বড় অপরাধের জন্ম দেয়। 

ক্যাম্পাসে বিগত দিনে ঘটে যাওয়া প্রায় সব অপরাধের সঙ্গে জড়িত চক্রের সঙ্গে এমনকি সম্প্রতি বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও প্রভাষক লিমন হোসেনের একান্ত সম্পর্ক বিদ্যমান এবং তাদের প্রকাশ্য মদতদাতা তিনিই- যা শিক্ষার্থী মনে ক্রমশ ভীতি সঞ্চার করছে।

এর আগে রবিবার (৭ ডিসেম্বর) ক্যাম্পাসের একটি মিলনায়তনে শিক্ষার্থীরা লিমন হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিস্তারিত তুলে ধরে বক্তব্য দেন। সেখানে তারা দ্রুত তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান। 

একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, উনি মানুষের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আগ্রহী। যা আমাদের বিব্রত করে। এমনকি নিজের ব্যক্তিগত জীবনের প্রেম-বিচ্ছেদের গল্পও বারবার বলে বিব্রত করতে থাকেন। কে কার সঙ্গে মিশবে না মিশবে সে বিষয়েও তিনি হস্তক্ষেপ করেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষক লিমন হোসেন বলেন, ‘এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে আমি অবগত নই। আমি এ ধরনের কোনও কথা বলিনি। অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য এ ধরনের অভিযোগ তোলা হয়েoviছে।’

যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলের প্রধান ড. ওয়াহিদা জামান লস্কর বলেন, ‘আজই তাকে যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলের সভাপতির দায়িত্বের বিষয়ে প্রশাসন থেকে চিঠি প্রদান করা হয়েছে।’ তবে উপাচার্যের কাছে দেওয়া অভিযোগ পত্রের বিষয়ে তিনি এখনো অবগত নন। 

সার্বিক বিষয়ে জানতে গণ বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হোসেনের মোবাইল নম্বরে কল করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। 

এদিকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে গণ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে সাত দিন সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত চলাকালে আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. রফিকুল আলম ও প্রভাষক লিমন হোসেনকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। এই সময়ে তারা একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবেন। 

তদন্ত কমিটিতে ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. জহিরুল ইসলাম খানকে সভাপতি ও বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবু রায়হানকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।