টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে সংবাদ প্রকাশের জেরে মিথ্যা মামলায় মধ্যরাতে বাড়ির গেট ভেঙে ঢুকে সাংবাদিককে মারধর ও গ্রেফতারের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। রবিবার (৭ ডিসেম্বর) বিকালে জাহাঙ্গীর আলম নামের ওই সাংবাদিককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে শনিবার রাত ২টার দিকে উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের নারান্দিয়ার এলাকার নিজ বাড়ি থেকে ‘দৈনিক নিরপেক্ষ’ পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেফতার করে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ।
গ্রেফতার সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম কালিহাতী প্রেসক্লাবের সদস্য। প্রাথমিক তদন্ত ছাড়াই এভাবে একজন সাংবাদিককে মিথ্যা মামলায় গভীর রাতে গ্রেফতার ও মারধরের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে সাংবাদিক সমাজ।
জানা গেছে, গত ২০ আগস্ট কালিহাতী এলাকার শওকত তালুকদার তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেছিলেন, তার স্ত্রী ৩০ লাখ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন। পরে তার ওই সংবাদ সম্মেলনের সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশ করেন সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম। এর পরই জাহাঙ্গীরকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকেন শওকতের স্ত্রী। পরে ওই সংবাদের জের ধরে গত ১৭ নভেম্বর শওকত তালুকদারের স্ত্রী বাদী হয়ে জাঙ্গাঙ্গীরের নামে মিথ্যা ধর্ষণের চেষ্টার মামলা দায়ের করেন।
সাংবাদিক জাহাঙ্গীরের ছোট ভাই আলমগীর হোসেন বলেন, ‘টাঙ্গাইল সদর থানার উপ-পরিদর্শক রিপন কুমার দাসের নেতৃত্বে একদল পুলিশ মধ্যরাতে বাড়ির দরজা ও টিনের বেড়া ভেঙে বাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় আমার বাবা-মা ডাকাত বলে ডাক-চিৎকার করেন। পরে আমি ও আমার ভাই বাইরে বের হই। এ সময় তারা আমার ভাইয়ের সঙ্গে ধস্তাধস্তি এবং মারধর করে নিয়ে যায়। কিন্তু কোন মামলার কিংবা কী কারণে গ্রেফতার করেছে বিষয়টি পুলিশ জানায়নি। পুলিশের এমনকাণ্ড দেখে আমরা অবাক। আমার ভাইয়ের দ্রুত মুক্তির দাবি করছি।’
স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, সাংবাদিক জাহাঙ্গীর একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। ওই প্রতিষ্ঠানে বই দেখে পরীক্ষা দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার হয়। ওই ঘটনায় জাহাঙ্গীরকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। সে সময় থেকেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং তার ব্যবসায়িক সহযোগী টাঙ্গাইল শহরে গড়ে ওঠা একাধিক বহুতল ভবনের মালিকরা। পরে একজন নারীকে ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা মামলা করা হয়। এর আগেও কোনও গ্রেফতারি পরোয়ানা না থাকলেও কালিহাতী থানা পুলিশের সদস্যরা বল্লা এলাকায় একজনের বাড়িতে গেট ভেঙে প্রবেশ করেন।
পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী ওই নারী প্রথমে টাঙ্গাইল আদালতে মামলা দায়ের করেন। পরে আদালত টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশকে মামলাটি এফআইআর করার নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে কালিহাতী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোল্লা মুশফিকুর রহমান মিল্টন বলেন, ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একজন নারীকে দিয়ে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। ওই নারীর নামে তার স্বামীর কাছ থেকে প্রতারণা করে টাকা আত্মসাতের ঘটনায় আদালতে মামলা রয়েছে। মূলত ওই নারীর নামে সংবাদ প্রকাশ করায় এমন মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। সাংবাদিক জাহাঙ্গীরের দ্রুত মুক্তি দাবি করছি।’
টাঙ্গাইল সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রিপন কুমার দাস বলেন, ‘পেছনের টিন সরিয়ে দিয়ে কালিহাতী থানার পুলিশের সহযোগিতায় আমরা জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করেছি। তার নামে ধর্ষণ চেষ্টার মামলা রয়েছে। জাহাঙ্গীরকে মারধর করা হয়নি। বরং তারা আমাদের দেখে উত্তেজিত হয়েছিল।’
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার (এসপি) মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা মামলা হয়েছে। তবে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ, সেটা তদন্ত করে দোষী প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
রিপোর্টারের নাম 






















