ঢাকা ০৯:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

চার বছরের শিশুকে অপহরণের অভিযোগে সাত বছরের শিশু গ্রেফতার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম নগরীতে চার বছরের এক শিশুকে অপহরণের অভিযোগে সাত বছরের আরেক শিশুর নামে মামলা গ্রহণ, গ্রেফতার এবং আদালতে পাঠানো হয়েছে। শিশু আইন অনুযায়ী নয় বছরের কম বয়সী কোনও শিশুকে আসামি করা, গ্রেফতার বা আটক করার সুযোগ নেই। তবুও নগরীর পাঁচলাইশ থানা পুলিশ এ নিয়ম অমান্য করে ব্যবস্থা নেওয়ায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল নগরীর ষোলশহর রেলস্টেশন এলাকায় বসবাসরত আনোয়ারা বেগমের দুই সন্তানের মধ্যে বড় সন্তান অসুস্থ হলে সেদিন চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যান। সঙ্গে নিয়ে যান তার চার বছরের ছোট সন্তান মো. রামিমকেও। কিন্তু রামিম সেখান থেকে হারিয়ে যায়। এ ঘটনায় পাঁচলাইশ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও রামিমকে না পেয়ে ঘটনার সাত মাস পর গত শুক্রবার পাঁচলাইশ থানায় অপহরণ মামলা করেন তার মা আনোয়ারা বেগম।

মামলায় আসামি করা হয় সাত বছরের শিশুটিসহ তার মাকে। মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, তার ছেলেকে হাসপাতালের বারান্দা থেকে সাত বছরের ওই শিশু ও তার মা খেলার কথা বলে অপহরণ করে নিয়ে যান। মামলা হওয়ার পর ওইদিনই পাঁচলাইশ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এনামুল হক ষোলশহর এলাকা থেকে সাত বছরের শিশু ও তার মাকে গ্রেফতার করে।

শুক্রবারই তাদের হাজির করা হলে শিশুটিকে গাজীপুরের টঙ্গীতে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (বালক) এবং তার মাকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়ে দেন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।

চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মফিজুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘আদালতে শিশুটিকে আনা হলেও এজলাসে হাজির করা হয়নি। বিচারকের সই করা অন্তর্বর্তীকালীন পরোয়ানায় টঙ্গীতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি জানার পর রাষ্ট্রপক্ষ থেকে রবিবার (৭ ডিসেম্বর) আদালতে শিশুটির জামিনের আবেদন করা হয়। আদালত তা মঞ্জুর করেন।

আদালত সূত্র জানায়, রবিবার বিকালে দেওয়া এক আদেশে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ হাসানুল ইসলাম উল্লেখ করেন, ‘শিশু আইন ২০১৩-এর ৪৪ (১) ধারা মতে, নয় বছরের কম বয়সী কোনও শিশুকে গ্রেফতার ও আটকের সুযোগ নেই। পাঁচলাইশ থানার মামলায় সাত বছরের শিশুটি বর্তমানে গাজীপুরের টঙ্গীতে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে রয়েছে। তাকে তার বাবার জিম্মায় মুক্তি দেওয়া হোক।’

এ প্রসঙ্গে পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ সোলাইমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিষয়টি অসাবধানতায় ভুলবশত হয়ে গেছে। দেশের আইনে নয় বছরের নিচে কোনও শিশুর অপরাধকে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না।’

নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ বলেন, ‘বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আওয়ামী লীগকে কোথাও কার্যক্রম চালাতে দেওয়া হবে না: চট্টগ্রামে এনসিপি আহ্বায়ক

চার বছরের শিশুকে অপহরণের অভিযোগে সাত বছরের শিশু গ্রেফতার

আপডেট সময় : ১১:২৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫

চট্টগ্রাম নগরীতে চার বছরের এক শিশুকে অপহরণের অভিযোগে সাত বছরের আরেক শিশুর নামে মামলা গ্রহণ, গ্রেফতার এবং আদালতে পাঠানো হয়েছে। শিশু আইন অনুযায়ী নয় বছরের কম বয়সী কোনও শিশুকে আসামি করা, গ্রেফতার বা আটক করার সুযোগ নেই। তবুও নগরীর পাঁচলাইশ থানা পুলিশ এ নিয়ম অমান্য করে ব্যবস্থা নেওয়ায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল নগরীর ষোলশহর রেলস্টেশন এলাকায় বসবাসরত আনোয়ারা বেগমের দুই সন্তানের মধ্যে বড় সন্তান অসুস্থ হলে সেদিন চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যান। সঙ্গে নিয়ে যান তার চার বছরের ছোট সন্তান মো. রামিমকেও। কিন্তু রামিম সেখান থেকে হারিয়ে যায়। এ ঘটনায় পাঁচলাইশ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও রামিমকে না পেয়ে ঘটনার সাত মাস পর গত শুক্রবার পাঁচলাইশ থানায় অপহরণ মামলা করেন তার মা আনোয়ারা বেগম।

মামলায় আসামি করা হয় সাত বছরের শিশুটিসহ তার মাকে। মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, তার ছেলেকে হাসপাতালের বারান্দা থেকে সাত বছরের ওই শিশু ও তার মা খেলার কথা বলে অপহরণ করে নিয়ে যান। মামলা হওয়ার পর ওইদিনই পাঁচলাইশ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এনামুল হক ষোলশহর এলাকা থেকে সাত বছরের শিশু ও তার মাকে গ্রেফতার করে।

শুক্রবারই তাদের হাজির করা হলে শিশুটিকে গাজীপুরের টঙ্গীতে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (বালক) এবং তার মাকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়ে দেন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।

চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মফিজুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘আদালতে শিশুটিকে আনা হলেও এজলাসে হাজির করা হয়নি। বিচারকের সই করা অন্তর্বর্তীকালীন পরোয়ানায় টঙ্গীতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি জানার পর রাষ্ট্রপক্ষ থেকে রবিবার (৭ ডিসেম্বর) আদালতে শিশুটির জামিনের আবেদন করা হয়। আদালত তা মঞ্জুর করেন।

আদালত সূত্র জানায়, রবিবার বিকালে দেওয়া এক আদেশে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ হাসানুল ইসলাম উল্লেখ করেন, ‘শিশু আইন ২০১৩-এর ৪৪ (১) ধারা মতে, নয় বছরের কম বয়সী কোনও শিশুকে গ্রেফতার ও আটকের সুযোগ নেই। পাঁচলাইশ থানার মামলায় সাত বছরের শিশুটি বর্তমানে গাজীপুরের টঙ্গীতে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে রয়েছে। তাকে তার বাবার জিম্মায় মুক্তি দেওয়া হোক।’

এ প্রসঙ্গে পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ সোলাইমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিষয়টি অসাবধানতায় ভুলবশত হয়ে গেছে। দেশের আইনে নয় বছরের নিচে কোনও শিশুর অপরাধকে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না।’

নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ বলেন, ‘বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’