রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তনকে সামনে রেখে তিনটি ভবন ও স্টেডিয়ামে চলমান রঙের কাজ হঠাৎ বন্ধ করে দিয়েছেন একদল ঠিকাদার। রবিবার (৭ ডিসেম্বর) সকালে তারা জোর করে রঙের কাজ থামিয়ে দেন। এসময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করতে গেলে ক্যাম্পাসের এক সাংবাদিক হেনস্তার শিকার হন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকের নাম সোহাগ আলী। তিনি চ্যানেল টোয়েন্টিফোর ও দৈনিক সোনার দেশের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি। অন্যদিকে হেনস্থাকারী ঠিকাদাররা হলেন রানা নামে একজনসহ আরও কয়েকজন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন উপলক্ষে তিনটি ভবন (প্রশাসন ভবন-১, প্রশাসন ভবন-২ ও সিনেট ভবন) ও স্টেডিয়ামে রঙের কাজ করছে বার্জার নামে একটি কোম্পানি। এ ধরনের কাজ সাধারণত যে ঠিকাদাররা নিয়মিত কাজ করেন, তারাই দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু এবার সময় খুব কম থাকায় এবং দ্রুত কাজ শেষ করার চাপ থাকায় গুণগতমান বজায় রাখার স্বার্থে বার্জার কোম্পানির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কমিটি একটি চুক্তির মাধ্যমে কাজটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে যারা নিয়মিত ঠিকাদারি কাজ করেন, তারা দাবি তুলেছেন, তারা সারা বছর কাজ করেন, তাই কাজটি তাদের দেওয়া উচিত। এই দাবিতে তারা বার্জার কোম্পানির কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। পরে তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান। সেখানে প্রক্টরের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন উপস্থিত কয়েকজন। সেটার ভিডিও করার সময় চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের রাবি প্রতিনিধি সোহাগ আলীকে হেনস্তা করেন কয়েকজন ঠিকাদার।
সাংবাদিককে হেনস্তার ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবিতে প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিয়াশীল তিনটি সাংবাদিক সংগঠন রাবি প্রেসক্লাব, রাবি রিপোর্টার্স ইউনিটি, রাবি সাংবাদিক সমিতি।
সার্বিক বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, আলোচনার মাঝখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কয়েকজন ঠিকাদারের জুনিয়র কর্মী বিভিন্ন অসৌজন্যমূলক কথা বলতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমি একজনকে জিজ্ঞেস করি তার লাইসেন্স আছে কি-না। যদি লাইসেন্স থাকে, তবে নিয়ম অনুযায়ী তাকে ব্ল্যাকলিস্ট করার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। এরপর আরও কয়েকজন উচ্চস্বরে কথা বলতে থাকে। তারা হইচই করতে করতে আমার অফিসে এক ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করে।
তিনি বলেন, সেখানে উপস্থিত একজন ক্যাম্পাস সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছে। ওই সাংবাদিক যখন মোবাইলে ভিডিও করছিল, তার মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয় এবং তাকে অবরুদ্ধ করারও চেষ্টা করা হয়। সাংবাদিকরা আমার কক্ষে আসবে, শিক্ষার্থীরা আমার পাশে থাকবে এটা তাদের অধিকার। আমি কখনও তাদের এই অধিকার অস্বীকার করতে পারি না। তাই পরিস্থিতি বুঝে আমি দুজন সহকারী প্রক্টরকে নির্দেশ দিই তাকে দ্রুত উদ্ধার করতে। তারা এগিয়ে গিয়ে তাকে নিরাপদে বের করে আনে। আমি মনে করি, পুরো ঘটনাটি অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত এবং এমন ঘটনা হওয়া উচিত ছিল না।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক সোহাগ আলী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দফতরের ভেতরেই আমার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে আমার ওপর চড়াও হন কয়েকজন ঠিকাদার। যদিও অন্য কয়েকজন ঠিকাদার তাদের থামানোর চেষ্টা করেছিল। আমি এই ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবি জানাচ্ছি।
রঙ করার কাজ সোমবার থেকে শুরু হবে কিনা জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরের প্রশাসক অধ্যাপক ড. আখতার হোসেন মজুমদার বলেন, সোমবার থেকে রঙের কাজ পুনরায় শুরু হবে। সমাবর্তন ১৭ ডিসেম্বর। কাজগুলো দ্রুত শেষ করতে হবে।
সরাসরি কোম্পানিকে দিয়ে কাজ করানোয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনও ভুল হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে আমাদের কোনও ভুল হয়নি। সিন্ডিকেটের অনুমোদন নিয়েই কাজটি করানো হচ্ছে। জরুরি এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজ হওয়ায় কোম্পানির মাধ্যমে কাজটি করানো হচ্ছে। এই কাজটা টেন্ডারের মাধ্যমে করানোর বাধ্যবাধকতা ছিলো না। যেসব কাজ টেন্ডারের মাধ্যমে করানো উচিত, সেগুলো টেন্ডারের মাধ্যমেই করানো হয়। আর বহুল প্রচলিত কোম্পানিগুলো থেকে কোনও জিনিস কিনলে সেগুলোর একটা সিস্টেম আছে।
রিপোর্টারের নাম 

























