আজ ৭ ডিসেম্বর, মাগুরামুক্ত দিবস। মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা ও মিত্র বাহিনীর বিমান হামলায় মাগুরা হানাদার মুক্ত হয়। জেলাকে শত্রুমুক্ত করতে মুক্তিযোদ্ধারা হানাদার ও রাজাকার আলবদর বাহিনীর সঙ্গে প্রাণপণ যুদ্ধ করেন। মিত্রবাহিনী মাগুরা শহরের পাকিস্তানি সেনাদের বিভিন্ন ক্যাম্প লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায়। চারিদিক দিক থেকে আক্রমণের চাপে দিশেহারা হানাদার বাহিনী। ৬ ডিসেম্বর দুপুরের পর মাগুরা থেকে ফরিদপুরের দিকে পালিয়ে যায় তারা। এর মধ্য দিয়ে জেলাটি হানাদার মুক্ত হয়।
স্থানীয় ইতিহাসবিদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধের সময় মহম্মদপুর থানার টিটিডিসি, নহাটা-জয়রামপুর রাস্তা, বিনোদপুর বাজার ক্যাম্প, তৎকালীন ঝিনেদা মহকুমার শৈলকুপা থানা, একই থানার কামান্না, মাগুরা আনসার ক্যাম্প, আরালিয়া-শ্রীমন্তপুর, ফরিদপুরের রামদিয়া-সোনাপুর, শ্রীপুর থানা, মীনগ্রাম মান্দারতলা, খামারপাড়া ও কাদিরপাড়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে পাকিস্তানি বাহিনীর যুদ্ধ হয়।
৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চলাকালে মুক্তিযোদ্ধাদের হামলা হানাদার বাহিনী আর তাদের দোসরদের কোণঠাসা করে ফেলে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে যশোর থেকে পাকিস্তানি সেনাদের একটি অংশ তাড়া খেয়ে মাগুরায় পালিয়ে আসে। একপর্যায়ে মাগুরায়ও তারা তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়ে। মিত্রবাহিনীর সঙ্গে মাগুরার মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা প্রবল আক্রমণে শত্রুবাহিনীকে মাগুরা থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছিল।
৭ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসররা মাগুরা ছেড়ে ফরিদপুরের কামারখালী অভিমুখে চলে যেতে বাধ্য হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় আকবর হোসেন মিয়া এবং মোল্লা নবুয়ত আলীর নেতৃত্বে শ্রীপুর বাহিনী মাগুরায় প্রবেশ করে প্রশাসনিক দায়িত্বভার গ্রহণ করে। পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসররা মাগুরা থেকে পালিয়ে গেলে মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে। এ সময় মুক্তিকামী জনতা ‘জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে রাস্তায় নেমে আসে। এভাবেই ৭ ডিসেম্বর ১৯৭১ মাগুরা হানাদারমুক্ত হয়। মাগুরার মুক্তিযোদ্ধারা মাগুরা ও ঝিনাইদহ মহকুমার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও ফরিদপুর জেলার একটি অংশকে শত্রুমুক্ত করার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখেন।
দিবসটি উপলক্ষে মাগুরার বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন র্যালি, আলোচনা সভা, প্রদীপ প্রজ্জ্বলনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন।
রিপোর্টারের নাম 























