ঢাকা ১২:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সড়ক অবরোধ, সতর্ক অবস্থানে পুলিশ

প্রস্তাবিত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকায় এবং অধ্যাদেশ জারিতে কোনও দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় হাইকোর্টের সামনে শিক্ষা ভবন মোড় ব্লকেড করেছেন ৭ কলেজের শিক্ষার্থীরা। অবরোধ ঘিরে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে শিক্ষাভবনের সামনে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ। প্রস্তুত রাখা হয়েছে জলকামান এবং রায়ট কার।

রবিবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে আন্দোলনকারীরা শিক্ষা ভবন ঘেরাও করতে গেলে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। পরে তারা ভবনের পাশের সড়ক অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

এর মাঝে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কোনও কর্মকর্তা যোগাযোগ না করায় রাস্তা ব্লকেড করেন শিক্ষার্থীরা। তারা দ্রুত অধ্যাদেশের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। এতে হাইকোর্টের মাজার রোড, সচিবালয়ের সামনের সড়কসহ আশপাশের এলাকার যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

শিক্ষার্থী‌দের দাবি, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ জারিতে কালক্ষেপণের ফলে নতুন শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়েই আন্দোলনে নামতে হয়েছে। আর যতক্ষণ পর্যন্ত দাবি আদায় না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে।

রবিউল ইসলাম নামের ঢাকা কলেজের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা বারবার জানিয়েছি, আমরা টেবিলে যেতে চাই। কিন্তু আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যেভাবে পরীক্ষা–নিরীক্ষা চলছে, সেটা মেনে নেওয়া যায় না। কর্তৃপক্ষ যদি সত্যিই আমাদের কথা শুনতেন, তাহলে এতদিনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতো। আমরা দাবি নিয়ে রাজপথে নেমেছি। এখন দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবেই।’

ইডেন কলেজের শিক্ষার্থী স্মৃতি আক্তার। আন্দোল‌নে অংশ নেওয়া এই শিক্ষার্থী বলেন, ‘অধ্যাদেশের দীর্ঘসূত্রতা আমাদের পড়াশোনা, ক্যারিয়ারসহ সবকিছুতে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। জবাবদিহি না থাকলে প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।’

শিক্ষার্থীদের এক দফা দাবি, দ্রুত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ জারি করতে হবে। শিক্ষার্থীরা জানান, প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির খসড়া আইন শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রকাশ করলেও এখনও চূড়ান্ত অধ্যাদেশের কোনও অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। এতে পরিচয় সংকট, অ্যাকাডেমিক অনিশ্চয়তা এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন প্রায় দেড় লক্ষাধিক শিক্ষার্থী।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালকের সৌজন্য সাক্ষাৎ

চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সড়ক অবরোধ, সতর্ক অবস্থানে পুলিশ

আপডেট সময় : ০৫:২১:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫

প্রস্তাবিত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকায় এবং অধ্যাদেশ জারিতে কোনও দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় হাইকোর্টের সামনে শিক্ষা ভবন মোড় ব্লকেড করেছেন ৭ কলেজের শিক্ষার্থীরা। অবরোধ ঘিরে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে শিক্ষাভবনের সামনে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ। প্রস্তুত রাখা হয়েছে জলকামান এবং রায়ট কার।

রবিবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে আন্দোলনকারীরা শিক্ষা ভবন ঘেরাও করতে গেলে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। পরে তারা ভবনের পাশের সড়ক অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

এর মাঝে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কোনও কর্মকর্তা যোগাযোগ না করায় রাস্তা ব্লকেড করেন শিক্ষার্থীরা। তারা দ্রুত অধ্যাদেশের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। এতে হাইকোর্টের মাজার রোড, সচিবালয়ের সামনের সড়কসহ আশপাশের এলাকার যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

শিক্ষার্থী‌দের দাবি, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ জারিতে কালক্ষেপণের ফলে নতুন শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়েই আন্দোলনে নামতে হয়েছে। আর যতক্ষণ পর্যন্ত দাবি আদায় না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে।

রবিউল ইসলাম নামের ঢাকা কলেজের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা বারবার জানিয়েছি, আমরা টেবিলে যেতে চাই। কিন্তু আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যেভাবে পরীক্ষা–নিরীক্ষা চলছে, সেটা মেনে নেওয়া যায় না। কর্তৃপক্ষ যদি সত্যিই আমাদের কথা শুনতেন, তাহলে এতদিনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতো। আমরা দাবি নিয়ে রাজপথে নেমেছি। এখন দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবেই।’

ইডেন কলেজের শিক্ষার্থী স্মৃতি আক্তার। আন্দোল‌নে অংশ নেওয়া এই শিক্ষার্থী বলেন, ‘অধ্যাদেশের দীর্ঘসূত্রতা আমাদের পড়াশোনা, ক্যারিয়ারসহ সবকিছুতে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। জবাবদিহি না থাকলে প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।’

শিক্ষার্থীদের এক দফা দাবি, দ্রুত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ জারি করতে হবে। শিক্ষার্থীরা জানান, প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির খসড়া আইন শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রকাশ করলেও এখনও চূড়ান্ত অধ্যাদেশের কোনও অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। এতে পরিচয় সংকট, অ্যাকাডেমিক অনিশ্চয়তা এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন প্রায় দেড় লক্ষাধিক শিক্ষার্থী।