দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) নৈতিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে একটি জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত “বিল্ডিং ইক্যুইটি: অ্যাসেসিং দ্য এক্সটেন্ডেড ইনক্লুসিভ এডুকেশন টুলকিট” শীর্ষক দু’দিনের কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এ তথ্য জানান।
ব্রিটিশ কাউন্সিলের অর্থায়নে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্যের নটিংহাম ট্র্যান্ট ইউনিভার্সিটি এবং সৌদি আরবের কিং ফাহাদ ইউনিভার্সিটি অব পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মিনারেলস যৌথভাবে কর্মশালাটির আয়োজন করে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, সমতাভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভূমিকা অপরিসীম। এই প্রেক্ষাপটে, উচ্চশিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের জন্য একটি সুদূরপ্রসারী জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে, যা শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনে এর নৈতিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করবে।
তিনি আরও জানান, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এবং শিক্ষক ও একাডেমিক নেতৃত্বের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, গ্রামীণ শিক্ষায় প্রবেশাধিকার, ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা ও সম্পদের সমবণ্টনের মতো স্থানীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা হচ্ছে। ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারে জাতীয় লক্ষ্য ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখতে প্রাতিষ্ঠানিক নির্দেশিকা ও গুণগত মান নিশ্চয়তা কাঠামো প্রণয়নেও কাজ করছে কমিশন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে শিক্ষা কেবল প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সমতাভিত্তিক প্রবেশাধিকার, অর্থবহ অংশগ্রহণ এবং সবার জন্য সফল ফলাফল নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য। শিক্ষায় অন্তর্ভুক্তি এখন আর বিকল্প নয়, এটি টেকসই উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায্যতার পূর্বশর্ত। ‘এক্সটেন্ডেড ইনক্লুসিভ এডুকেশন টুলকিট’ অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাদান পদ্ধতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিক ব্যবহার এবং নীতিমালাসম্মত কার্যপ্রণালীকে একীভূত করে শিক্ষা ক্ষেত্রে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা যায়।
রিপোর্টারের নাম 




















