টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও ফরহাদ ইকবালের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। প্রথম দফায় গত ৩ নভেম্বর টাঙ্গাইলের আটটি আসনের মধ্যে টাঙ্গাইল সদর আসনটি বাদ রেখে সাতটিতে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে বিএনপি। সদর আসনে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা না করায় ওই দিন থেকেই কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবালের কর্মী-সমর্থকরা দফায় দফায় বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল কর্মসূচি পালন করেন।
অনেকের ধারণা ছিল- গুরুত্বপূর্ণ টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনটি বিএনপি তাদের শরিক দলকে দিয়ে দেবে- এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল পুরো জেলাজুড়ে। কিন্তু নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। টুকুর নাম ঘোষণার পরপরই ফরহাদ ইকবালের কর্মীসমর্থকরা টাঙ্গাইল শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে মশাল মিছিল বের করেন। তারা সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর মনোনয়ন বাতিল করে ফরহাদ ইকবালকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানান।
স্থানীয়রা জানান, কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের বাসিন্দা। তার গ্রামের বাড়ি জেলার গোপালপুরে। সে আসনে তার বড় ভাই বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এবার প্রথম সুলতান সালাউদ্দিন টুকু টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে মনোনয়ন পেলেন।
টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে ত্যাগী নেতা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল মনোনয়ন দৌড়ে থেকেও শেষ মুহূর্তে ছিটকে পড়েন। টুকুর বাড়ি গোপালপুরে হওয়ায় টাঙ্গাইল সদরের বাসিন্দা ফরহাদ ইকবালের সমর্থকরা বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক টাঙ্গাইল সদর আসনের বাসিন্দা ফরহাদ ইকবালকে মনোনয়ন না দেওয়ায় তার কর্মী-সমর্থকরা ফুঁসে উঠেছেন। বিষয়টি নিয়ে টুকু ও ফরহাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। ফরহাদ ইকবাল কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখিপুর) আসনে মনোনীত প্রার্থী আহমেদ আযম খানের অনুসারী। আর সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এর আগে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ও যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
নেতাকর্মীরা বলছেন, দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করায় কেন্দ্রীয় শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নেতার সঙ্গে তার সুসম্পর্ক রয়েছে। তিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুর ছোট ভাই। এ জন্য মনোনয়ন বাগিয়ে নিতে তার সহজ হয়েছে।
অপরদিকে, টাঙ্গাইল জেলার আটটি আসনের মধ্যে দুটি আসনে একই পরিবারের দুই ভাইকে মনোনয়ন দেওয়ায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপিতে। মনোনয়নবঞ্চিত ফরহাদ ইকবাল সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর পক্ষে কাজ করবেন কি না বিষয়টি নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে নির্বাচনি মাঠে। অন্য আসনের বাসিন্দা হওয়ায় ভোটের মাঠে টুকুকে কিছুটা বেগ পোহাতে হতে পারে। আর যদি ফরহাদ ইকবাল ও সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর এই দ্বন্দ্ব লেগেই থাকে তাহলে আসনটি দখলে নিতে বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। অন্য আসনের বাসিন্দাকে মনোনয়ন ও টুকু-ফরহাদের দ্বন্দ্বকে কাজে লাগাতে পারে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী দলের জেলা আমির আহসান হাবীব মাসুদ। ভোটের মাঠে লড়তে জামায়াতে ইসলামীর এই প্রার্থীর জন্য অনেকটা সহজ হবে বলে ধারণা অনেকের।
ফরহাদ ইকবালের কর্মী-সমর্থকদের অভিযোগ, ফরহাদ ইকবাল একজন ত্যাগী ও কারা নির্যাতিত নেতা। তিনি বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের দুর্দিনে পাশে ছিলেন। খুব সহজেই তাকে কাছে পাওয়া যায়। হঠাৎ করে বহিরাগত একজনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে যা স্থানীয় নেতাকর্মীরা মেনে নেবে না।
মনোনয়ন বঞ্চিত জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল বলেন, ‘যেহেতু দল সিদ্ধান্ত দিয়েছে। আমি আমার নেতাকর্মী-সমর্থকদের নিয়ে বসবো। বসে তারা একটি সিদ্ধান্ত দেবে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে এখনও চিন্তা করতেছি না- নেতাকর্মীদের ওপর আস্থা রেখে যেটা করার সেটা করবো।’
মনোনয়ন পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সুলতান সালাউদ্দিন টুকু গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। জিয়া পরিবার আমার ওপর আস্থা রেখেছে। সর্বোপরি আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসুন, আল্লাহর কাছে এই দোয়া করি। আগামীতে টাঙ্গাইল সদরে ধানের শিষের বিজয় নিশ্চিত করতে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে চাই।’ সেই সঙ্গে এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের কোনও আনন্দ মিছিল, মিষ্টি বিতরণ না করার জন্য অনুরোধ জানান তিনি।
রিপোর্টারের নাম 























