ঢাকা ০৪:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতার বাড়িতে ৪৫০ বস্তা সার জব্দ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩৭:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহীর বাগমারায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতার বাড়ি থেকে ৪৫০ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) রাতে পুলিশ ও কৃষি বিভাগ যৌথ অভিযান চালিয়ে কালো বাজারে বিক্রির জন্য বাড়িতে মজুত করা এসব সার জব্দ করা হয়।

এ সময় স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা পালিয়ে যান। তার নাম ওয়ারেস আলী (৩৫) ওরফে মুরগি বাবু। তিনি ভবানীগঞ্জ পৌরসভার চার নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি এবং দানগাছি গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে।

তিনি এক সময় মুরগির ব্যবসা করার কারণে এলাকায় ‘মুরগি বাবু’ হিসেবে পরিচিত। তিনি ভবানীগঞ্জ গরুহাটায় খুচরা সার বিক্রি করতেন। গত বছরের ৫ আগস্টে ছাত্র- জনতার ওপর হামলার অভিযোগে তিনি গ্রেফতার হয়েছিলেন।

বাগমারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক জানান, বাবু খুচরা সার বিক্রেতা। বিসিআইসি ডিলারদের কাছ থেকে সার কিনে তা খুচরা বিক্রি করতে পারেন। তার বাসা থেকে যে পরিমাণ সার জব্দ করা হয়েছে তা কালো বাজারে বিক্রি করার জন্য মজুত করা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা ওয়ারেস আলী দাবি, জব্দ করা সব সার বৈধ, কাগজপত্রও রয়েছে। তবে উপজেলা বিএনপির এক নেতার এবং ভবানীগঞ্জ পৌরসভার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের এক নেতার লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করেন। সারগুলো রাজশাহী বিএডিসি গুদাম থেকে উত্তোলন করা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) রাত ১১টার দিকে দানগাছি গ্রামে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতার বাড়িতে সার মজুত করা হয়েছে বলে প্রশাসনের কাছে খবর আসে। খবর পেয়ে উপজেলা কৃষি অফিসের লোকজন ও বাগমারা থানার পুলিশ অভিযান চালায়। অভিযানের খবর পেয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা পালিয়ে যান। পরে বাড়ি সংলগ্ন একটি গোডাউনে অভিযান চালিয়ে মজুত করা সার দেখতে পাওয়া যায়। সেখানে অবৈধ ভাবে মজুত করা ২০০ বস্তা টিএসপি, ২০০ বস্তা ডিএপি ও ৪৪ বস্তা এমওপি সার পেয়ে তা জব্দ করে প্রশাসন। পরে সেখানে তা সিলগালা করা হয়।
সারগুলো বেশি দামে বিক্রির জন্য সেখানে মজুত করা হয়েছিল বলে ধারণা করছেন অনেকেই। সংকট সৃষ্টি বা অধিক মুনাফার কারণে সারগুলো মজুত করা হয়েছিল।

পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, দুই ডিলারের লাইসেন্স ব্যবহার করে মুরগি বাবু সারের ব্যবসা করে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছেন। তবে সারগুলো কালোবাজারির জন্য নিজের বাড়িতে মজুত করা হয়েছিল এটা স্পষ্ট।

অভিযুক্ত ওয়ারেস আলী ওরফে মুরগি বাবু আরও বলেন, ভবানীগঞ্জ বাজারের দোকানে সার রাখার পরিবেশ না থাকায় বাড়িতে রেখেছিলেন।

এ প্রসঙ্গে বাগমারা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, সমন্বিত সার নীতিমালা ও সার ব্যবস্থাপনায় বলা হয়েছে, অনুমোদিত ডিলার পয়েন্টের বাইরে সার মজুত বা রাখা যাবে না। তিনি (মুরগি বাবু) নিজ বাড়িতে রেখেছেন যা অবৈধ।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক বলেন, ওয়ারেস আলীর খুচরা বিক্রেতা হিসেবে নিবন্ধন রয়েছে। ডিলারদের কাছ থেকে সার কিনে দোকানে রেখে খুচরা বিক্রেতা করতে পারবেন। তবে বাড়িতে মজুত করা রহস্যজনক।

বাগমারা থানার ওসি তৌহিদুল ইসলাম জানান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বাদী হয়ে ওয়ারেছ ওরফে বাবুর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নাতানজ পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা, ইরানের পাল্টা জবাবের ইঙ্গিত

স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতার বাড়িতে ৪৫০ বস্তা সার জব্দ

আপডেট সময় : ১০:৩৭:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫

রাজশাহীর বাগমারায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতার বাড়ি থেকে ৪৫০ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) রাতে পুলিশ ও কৃষি বিভাগ যৌথ অভিযান চালিয়ে কালো বাজারে বিক্রির জন্য বাড়িতে মজুত করা এসব সার জব্দ করা হয়।

এ সময় স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা পালিয়ে যান। তার নাম ওয়ারেস আলী (৩৫) ওরফে মুরগি বাবু। তিনি ভবানীগঞ্জ পৌরসভার চার নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি এবং দানগাছি গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে।

তিনি এক সময় মুরগির ব্যবসা করার কারণে এলাকায় ‘মুরগি বাবু’ হিসেবে পরিচিত। তিনি ভবানীগঞ্জ গরুহাটায় খুচরা সার বিক্রি করতেন। গত বছরের ৫ আগস্টে ছাত্র- জনতার ওপর হামলার অভিযোগে তিনি গ্রেফতার হয়েছিলেন।

বাগমারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক জানান, বাবু খুচরা সার বিক্রেতা। বিসিআইসি ডিলারদের কাছ থেকে সার কিনে তা খুচরা বিক্রি করতে পারেন। তার বাসা থেকে যে পরিমাণ সার জব্দ করা হয়েছে তা কালো বাজারে বিক্রি করার জন্য মজুত করা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা ওয়ারেস আলী দাবি, জব্দ করা সব সার বৈধ, কাগজপত্রও রয়েছে। তবে উপজেলা বিএনপির এক নেতার এবং ভবানীগঞ্জ পৌরসভার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের এক নেতার লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করেন। সারগুলো রাজশাহী বিএডিসি গুদাম থেকে উত্তোলন করা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) রাত ১১টার দিকে দানগাছি গ্রামে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতার বাড়িতে সার মজুত করা হয়েছে বলে প্রশাসনের কাছে খবর আসে। খবর পেয়ে উপজেলা কৃষি অফিসের লোকজন ও বাগমারা থানার পুলিশ অভিযান চালায়। অভিযানের খবর পেয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা পালিয়ে যান। পরে বাড়ি সংলগ্ন একটি গোডাউনে অভিযান চালিয়ে মজুত করা সার দেখতে পাওয়া যায়। সেখানে অবৈধ ভাবে মজুত করা ২০০ বস্তা টিএসপি, ২০০ বস্তা ডিএপি ও ৪৪ বস্তা এমওপি সার পেয়ে তা জব্দ করে প্রশাসন। পরে সেখানে তা সিলগালা করা হয়।
সারগুলো বেশি দামে বিক্রির জন্য সেখানে মজুত করা হয়েছিল বলে ধারণা করছেন অনেকেই। সংকট সৃষ্টি বা অধিক মুনাফার কারণে সারগুলো মজুত করা হয়েছিল।

পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, দুই ডিলারের লাইসেন্স ব্যবহার করে মুরগি বাবু সারের ব্যবসা করে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছেন। তবে সারগুলো কালোবাজারির জন্য নিজের বাড়িতে মজুত করা হয়েছিল এটা স্পষ্ট।

অভিযুক্ত ওয়ারেস আলী ওরফে মুরগি বাবু আরও বলেন, ভবানীগঞ্জ বাজারের দোকানে সার রাখার পরিবেশ না থাকায় বাড়িতে রেখেছিলেন।

এ প্রসঙ্গে বাগমারা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, সমন্বিত সার নীতিমালা ও সার ব্যবস্থাপনায় বলা হয়েছে, অনুমোদিত ডিলার পয়েন্টের বাইরে সার মজুত বা রাখা যাবে না। তিনি (মুরগি বাবু) নিজ বাড়িতে রেখেছেন যা অবৈধ।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক বলেন, ওয়ারেস আলীর খুচরা বিক্রেতা হিসেবে নিবন্ধন রয়েছে। ডিলারদের কাছ থেকে সার কিনে দোকানে রেখে খুচরা বিক্রেতা করতে পারবেন। তবে বাড়িতে মজুত করা রহস্যজনক।

বাগমারা থানার ওসি তৌহিদুল ইসলাম জানান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বাদী হয়ে ওয়ারেছ ওরফে বাবুর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।