ঢাকা ১২:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

কারাগারে ইমরান খান সুস্থ, তবে বিচ্ছিন্ন: সাক্ষাতের পর বোন উজমা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩৪:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২৮ বার পড়া হয়েছে

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেও তাকে বিচ্ছিন্ন রাখা হচ্ছে এবং এতে তিনি মানসিক চাপে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার বোন উজমা খানম। কয়েক সপ্তাহ পরিবারকে সাক্ষাতের অনুমতি না দেওয়ার পর মঙ্গলবার আদিয়ালা কারাগারে স্বল্প সময়ের একটি তত্ত্বাবধায়ক সাক্ষাতে তিনি তার ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

ইমরান খানের তিন বোনের একজন উজমা পেশায় একজন চিকিৎসক। সাক্ষাতের পর তিনি বলেছেন, ইমরান খানকে দীর্ঘ সময় ঘরের ভেতরে রাখা হচ্ছে এবং পরিবারের সদস্য বা ঘনিষ্ঠ সহকারীদের সঙ্গে তার কোনও যোগাযোগ নেই। শারীরিকভাবে তিনি ভালো আছেন। কিন্তু তাকে সব সময় ভেতরে রাখা হয়, খুব অল্প সময়ের জন্য বাইরে যেতে দেওয়া হয়। কারও সঙ্গে যোগাযোগ নেই।

তিনি জানান, সাক্ষাৎটি কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠিত হয় এবং কোনও মোবাইল ডিভাইস ব্যবহার করা যায়নি। এর বেশি বিস্তারিত জানাতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন। এসময় কারাগারের বাইরে খানের দল পিটিআইয়ের সমর্থকেরা তার কারাবাসের শর্তাবলির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন।

৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান ২০১৮ থেকে ২০২২ পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ২০২৩ সালের আগস্টে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতারের পর থেকেই তিনি কারাগারে আছেন। তিনি একাধিক মামলায় দণ্ড ভোগ করছেন। তিনি এসব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। পিটিআই অভিযোগ করেছে, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কয়েক সপ্তাহ ধরে নিয়মিত সাক্ষাৎ বন্ধ রাখা হয়েছে, যা তার স্বাস্থ্য ও সম্ভাব্য স্থানান্তর নিয়ে গুঞ্জন বাড়িয়েছে।

তবে কর্তৃপক্ষ কোনও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তিনি কারাবন্দিদের সব সুবিধাই পাচ্ছেন। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী জানিয়েছেন, কারাগারে সাক্ষাতের সিদ্ধান্ত জেল কর্তৃপক্ষের বিষয়, সরকারের নয়।

গত সপ্তাহে খানের এক ছেলে রয়টার্সকে বলেছিলেন, তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় পরিবার তার সঙ্গে কোনও প্রত্যক্ষ বা নিশ্চিত যোগাযোগ করতে পারেনি এবং তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে একেবারে নিশ্চিত কোনও তথ্য নেই। 

পরিবার খানের ব্যক্তিগত চিকিৎসকের জন্যও নতুন করে সাক্ষাতের অনুমতি চেয়েছে। ওই চিকিৎসক এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তাকে দেখেননি।

স্বাধীন মানবাধিকার সংস্থা পাকিস্তান হিউম্যান রাইটস কমিশন এক্স-এ প্রকাশিত এক পোস্টে জানিয়েছে, খানের ওপর কঠোর কারাবাসের শর্ত এবং পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতে সীমাবদ্ধতা আরোপের অভিযোগে তারা গভীর উদ্বিগ্ন। তারা নিয়মিত পারিবারিক ও আইনজীবী সাক্ষাতের সুযোগ নিশ্চিত করতে আহ্বান জানিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দ্বন্দ্বে মধ্যস্থতায় তেহরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

কারাগারে ইমরান খান সুস্থ, তবে বিচ্ছিন্ন: সাক্ষাতের পর বোন উজমা

আপডেট সময় : ১০:৩৪:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেও তাকে বিচ্ছিন্ন রাখা হচ্ছে এবং এতে তিনি মানসিক চাপে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার বোন উজমা খানম। কয়েক সপ্তাহ পরিবারকে সাক্ষাতের অনুমতি না দেওয়ার পর মঙ্গলবার আদিয়ালা কারাগারে স্বল্প সময়ের একটি তত্ত্বাবধায়ক সাক্ষাতে তিনি তার ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

ইমরান খানের তিন বোনের একজন উজমা পেশায় একজন চিকিৎসক। সাক্ষাতের পর তিনি বলেছেন, ইমরান খানকে দীর্ঘ সময় ঘরের ভেতরে রাখা হচ্ছে এবং পরিবারের সদস্য বা ঘনিষ্ঠ সহকারীদের সঙ্গে তার কোনও যোগাযোগ নেই। শারীরিকভাবে তিনি ভালো আছেন। কিন্তু তাকে সব সময় ভেতরে রাখা হয়, খুব অল্প সময়ের জন্য বাইরে যেতে দেওয়া হয়। কারও সঙ্গে যোগাযোগ নেই।

তিনি জানান, সাক্ষাৎটি কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠিত হয় এবং কোনও মোবাইল ডিভাইস ব্যবহার করা যায়নি। এর বেশি বিস্তারিত জানাতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন। এসময় কারাগারের বাইরে খানের দল পিটিআইয়ের সমর্থকেরা তার কারাবাসের শর্তাবলির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন।

৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান ২০১৮ থেকে ২০২২ পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ২০২৩ সালের আগস্টে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতারের পর থেকেই তিনি কারাগারে আছেন। তিনি একাধিক মামলায় দণ্ড ভোগ করছেন। তিনি এসব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। পিটিআই অভিযোগ করেছে, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কয়েক সপ্তাহ ধরে নিয়মিত সাক্ষাৎ বন্ধ রাখা হয়েছে, যা তার স্বাস্থ্য ও সম্ভাব্য স্থানান্তর নিয়ে গুঞ্জন বাড়িয়েছে।

তবে কর্তৃপক্ষ কোনও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তিনি কারাবন্দিদের সব সুবিধাই পাচ্ছেন। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী জানিয়েছেন, কারাগারে সাক্ষাতের সিদ্ধান্ত জেল কর্তৃপক্ষের বিষয়, সরকারের নয়।

গত সপ্তাহে খানের এক ছেলে রয়টার্সকে বলেছিলেন, তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় পরিবার তার সঙ্গে কোনও প্রত্যক্ষ বা নিশ্চিত যোগাযোগ করতে পারেনি এবং তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে একেবারে নিশ্চিত কোনও তথ্য নেই। 

পরিবার খানের ব্যক্তিগত চিকিৎসকের জন্যও নতুন করে সাক্ষাতের অনুমতি চেয়েছে। ওই চিকিৎসক এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তাকে দেখেননি।

স্বাধীন মানবাধিকার সংস্থা পাকিস্তান হিউম্যান রাইটস কমিশন এক্স-এ প্রকাশিত এক পোস্টে জানিয়েছে, খানের ওপর কঠোর কারাবাসের শর্ত এবং পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতে সীমাবদ্ধতা আরোপের অভিযোগে তারা গভীর উদ্বিগ্ন। তারা নিয়মিত পারিবারিক ও আইনজীবী সাক্ষাতের সুযোগ নিশ্চিত করতে আহ্বান জানিয়েছে।