মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১১:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটে নাগরিক জীবনে চরম দুর্ভোগ, জামায়াতের নিন্দা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:২১:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

দেশে বর্তমানে বিরাজমান তীব্র বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে নাগরিকদের চরম দুর্ভোগের প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বিদ্যুৎ খাতে সরকারের ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে যে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে, তাতে জনদুর্ভোগ বেড়েছে। গত ৯ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া ব্যাপক লোডশেডিং অব্যাহত রয়েছে। তথ্যমতে, ৯ আগস্ট ৩৬৭১ মেগাওয়াট, ১০ আগস্ট ৩৭৫৭ মেগাওয়াট, ১১ আগস্ট ৩৪৬৫ মেগাওয়াট এবং ১২ আগস্ট ৩৪৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি ছিল, যা গড়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট। এই ঘাটতির ফলে দেশীয় শিল্পখাত ও সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, গত ১২ আগস্ট ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল মাত্র ২০৩ কোটি ঘনফুট। সরকারের অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা, অদূরদর্শিতা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক দুর্নীতি এবং দলীয়করণের কারণেই দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট চরমে উঠেছে। সরকারের এমন অব্যবস্থাপনায় নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবন বিপর্যস্ত হওয়ায় তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন এবং সরকারের ব্যর্থতার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশে জ্বালানি সংকট বেড়ে যাওয়ায় জনরোষ বাড়ছে। ইতোমধ্যে দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে নিরাপত্তা জোরদার করতে পুলিশ সদর দপ্তরে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন, যা সরকারের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতার চিত্রকেই তুলে ধরে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা নীলফামারীতে ৮০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাচ্ছেন ৪৫ থেকে ৫৫ মেগাওয়াট, কুষ্টিয়ায় ১৫৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৮৫ থেকে ৯৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেওয়া হচ্ছে—এমন চিত্র দেশের সর্বত্র।

তিনি বলেন, সরকার বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দেশের শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, নাগরিকরা বাসা বাড়িতে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে নিয়মিত রান্নাবান্নাসহ নিত্যকর্ম পরিচালনা করতে পারছে না, শিক্ষার্থীদের অধ্যয়নে ব্যাঘাত ঘটছে। সর্বোপরি নাগরিক জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। এমতাবস্থায় সরকার সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্যাংক ও পুঁজিবাজারে লুটপাট, অর্থপাচার নিয়ে এপিজি’র উদ্বেগ

বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটে নাগরিক জীবনে চরম দুর্ভোগ, জামায়াতের নিন্দা

আপডেট সময় : ০৬:২১:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

দেশে বর্তমানে বিরাজমান তীব্র বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে নাগরিকদের চরম দুর্ভোগের প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বিদ্যুৎ খাতে সরকারের ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে যে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে, তাতে জনদুর্ভোগ বেড়েছে। গত ৯ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া ব্যাপক লোডশেডিং অব্যাহত রয়েছে। তথ্যমতে, ৯ আগস্ট ৩৬৭১ মেগাওয়াট, ১০ আগস্ট ৩৭৫৭ মেগাওয়াট, ১১ আগস্ট ৩৪৬৫ মেগাওয়াট এবং ১২ আগস্ট ৩৪৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি ছিল, যা গড়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট। এই ঘাটতির ফলে দেশীয় শিল্পখাত ও সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, গত ১২ আগস্ট ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল মাত্র ২০৩ কোটি ঘনফুট। সরকারের অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা, অদূরদর্শিতা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক দুর্নীতি এবং দলীয়করণের কারণেই দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট চরমে উঠেছে। সরকারের এমন অব্যবস্থাপনায় নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবন বিপর্যস্ত হওয়ায় তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন এবং সরকারের ব্যর্থতার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশে জ্বালানি সংকট বেড়ে যাওয়ায় জনরোষ বাড়ছে। ইতোমধ্যে দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে নিরাপত্তা জোরদার করতে পুলিশ সদর দপ্তরে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন, যা সরকারের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতার চিত্রকেই তুলে ধরে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা নীলফামারীতে ৮০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাচ্ছেন ৪৫ থেকে ৫৫ মেগাওয়াট, কুষ্টিয়ায় ১৫৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৮৫ থেকে ৯৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেওয়া হচ্ছে—এমন চিত্র দেশের সর্বত্র।

তিনি বলেন, সরকার বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দেশের শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, নাগরিকরা বাসা বাড়িতে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে নিয়মিত রান্নাবান্নাসহ নিত্যকর্ম পরিচালনা করতে পারছে না, শিক্ষার্থীদের অধ্যয়নে ব্যাঘাত ঘটছে। সর্বোপরি নাগরিক জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। এমতাবস্থায় সরকার সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।