মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১২:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলায় বসতি ও বনভূমি ধ্বংসের অভিযোগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪৩:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

বৈরুত: দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগিয়ে বসতি ও বনভূমি ধ্বংসের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা, ফায়ার সার্ভিস ও জরুরি সেবার কর্মীদের ভাষ্যমতে, ইসরাইলি হামলায় বনাঞ্চল ও কৃষিজমিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ছে। এর আগে এসব এলাকায় বোমাবর্ষণ ও বুলডোজার চালানোর অভিযোগও রয়েছে।

পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর দাবি, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর অগ্নিকাণ্ড বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ লেবাননের পরিবেশ ও বনাঞ্চল ধ্বংসের যে অভিযোগ ইসরাইলের বিরুদ্ধে রয়েছে, নতুন ঘটনাগুলো তারই ধারাবাহিকতা।

গতকাল মঙ্গলবার খিয়াম এলাকার বাইরে একটি বনাঞ্চলে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ফ্লেয়ার বা অগ্নিগোলক ছোড়ে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এর পরপরই সেখানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। নাবাতিয়েহ অঞ্চলের সিভিল ডিফেন্সের প্রধান হুসেইন ফাকিহ জানান, আগুন নেভাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ড্রোন হামলার মুখে পড়েন। হামলাটি তাদের খুব কাছেই চালানো হয়। পরে নিরাপত্তার কারণে কর্মীদের সরে যেতে হয়।

ফাকিহ বলেন, বর্তমানে তাদের বেশির ভাগ অভিযানই আগুন নেভানোকে ঘিরে। সীমান্ত ও যুদ্ধক্ষেত্রের কাছাকাছি এলাকার প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ জমি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তাঁর ধারণা। তবে এর সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান তাঁর কাছে নেই।

গত ১৭ জুন হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর দুই পক্ষের সরাসরি লড়াই অনেকটাই কমে আসে। তবে উদ্ধারকর্মীদের বক্তব্য ও ভিডিও ফুটেজে দক্ষিণ লেবাননে আগুন লাগার ঘটনা অব্যাহত থাকার চিত্র পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে জলপাইবাগান ও কৃষিজমিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, ইসরাইলি ড্রোন ও গোলাবারুদের আঘাতে শুকনো ঝোপঝাড় ও বনাঞ্চলে আগুন ধরে যাচ্ছে।

দাবানল সৃষ্টির অভিযোগের বিষয়ে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তবে তারা কোনো জবাব দেয়নি। হুসেইন ফাকিহের ভাষ্য, যুদ্ধবিরতির পরপরই এ ধরনের তৎপরতা শুরু হয়। তাঁর অভিযোগ, এখন প্রায় প্রতিদিনই অগ্নিবোমা ফেলা হচ্ছে। ছোট ড্রোনের মাধ্যমে দাহ্য পদার্থ ছড়ানো হচ্ছে। বনাঞ্চল লক্ষ্য করে সাদা ফসফরাস শেলও নিক্ষেপ করা হচ্ছে। দিনের বেলায় ইলুমিনেশন ফ্লেয়ার ছোড়া হচ্ছে, যাতে গাছপালায় আগুন সহজে ছড়িয়ে পড়ে। দক্ষিণ লেবাননের কাফরশুবা এলাকার সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের প্রধান সমীর হারদানও একই ধরনের ঘটনার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গত শুক্রবার বিকেলে একটি বনাঞ্চলে ইসরাইলি বাহিনী আগুন লাগিয়ে দেয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাবার মৃত্যুশোক কাটিয়ে মেসির প্রত্যাবর্তন, মিয়ামির হার

দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলায় বসতি ও বনভূমি ধ্বংসের অভিযোগ

আপডেট সময় : ১০:৪৩:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

বৈরুত: দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগিয়ে বসতি ও বনভূমি ধ্বংসের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা, ফায়ার সার্ভিস ও জরুরি সেবার কর্মীদের ভাষ্যমতে, ইসরাইলি হামলায় বনাঞ্চল ও কৃষিজমিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ছে। এর আগে এসব এলাকায় বোমাবর্ষণ ও বুলডোজার চালানোর অভিযোগও রয়েছে।

পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর দাবি, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর অগ্নিকাণ্ড বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ লেবাননের পরিবেশ ও বনাঞ্চল ধ্বংসের যে অভিযোগ ইসরাইলের বিরুদ্ধে রয়েছে, নতুন ঘটনাগুলো তারই ধারাবাহিকতা।

গতকাল মঙ্গলবার খিয়াম এলাকার বাইরে একটি বনাঞ্চলে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ফ্লেয়ার বা অগ্নিগোলক ছোড়ে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এর পরপরই সেখানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। নাবাতিয়েহ অঞ্চলের সিভিল ডিফেন্সের প্রধান হুসেইন ফাকিহ জানান, আগুন নেভাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ড্রোন হামলার মুখে পড়েন। হামলাটি তাদের খুব কাছেই চালানো হয়। পরে নিরাপত্তার কারণে কর্মীদের সরে যেতে হয়।

ফাকিহ বলেন, বর্তমানে তাদের বেশির ভাগ অভিযানই আগুন নেভানোকে ঘিরে। সীমান্ত ও যুদ্ধক্ষেত্রের কাছাকাছি এলাকার প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ জমি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তাঁর ধারণা। তবে এর সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান তাঁর কাছে নেই।

গত ১৭ জুন হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর দুই পক্ষের সরাসরি লড়াই অনেকটাই কমে আসে। তবে উদ্ধারকর্মীদের বক্তব্য ও ভিডিও ফুটেজে দক্ষিণ লেবাননে আগুন লাগার ঘটনা অব্যাহত থাকার চিত্র পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে জলপাইবাগান ও কৃষিজমিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, ইসরাইলি ড্রোন ও গোলাবারুদের আঘাতে শুকনো ঝোপঝাড় ও বনাঞ্চলে আগুন ধরে যাচ্ছে।

দাবানল সৃষ্টির অভিযোগের বিষয়ে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তবে তারা কোনো জবাব দেয়নি। হুসেইন ফাকিহের ভাষ্য, যুদ্ধবিরতির পরপরই এ ধরনের তৎপরতা শুরু হয়। তাঁর অভিযোগ, এখন প্রায় প্রতিদিনই অগ্নিবোমা ফেলা হচ্ছে। ছোট ড্রোনের মাধ্যমে দাহ্য পদার্থ ছড়ানো হচ্ছে। বনাঞ্চল লক্ষ্য করে সাদা ফসফরাস শেলও নিক্ষেপ করা হচ্ছে। দিনের বেলায় ইলুমিনেশন ফ্লেয়ার ছোড়া হচ্ছে, যাতে গাছপালায় আগুন সহজে ছড়িয়ে পড়ে। দক্ষিণ লেবাননের কাফরশুবা এলাকার সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের প্রধান সমীর হারদানও একই ধরনের ঘটনার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গত শুক্রবার বিকেলে একটি বনাঞ্চলে ইসরাইলি বাহিনী আগুন লাগিয়ে দেয়।