ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া, নেত্রকোনার দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা এবং শেরপুরের নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল বর্তমানে দেশের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ ও অরক্ষিত সীমান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সঙ্গে সংযুক্ত দীর্ঘ এই সীমান্তের বাংলাদেশ অংশে নিজস্ব কাঁটাতারের বেড়া নেই। বিপরীতে ভারত আন্তর্জাতিক সীমারেখা বা জিরো লাইন থেকে প্রায় দেড়শ গজ ভেতরে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করায় দুদেশের মাঝখানে তৈরি হয়েছে বিস্তীর্ণ উন্মুক্ত এলাকা।
সীমান্তবাসীদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে এসব উন্মুক্ত অংশ সংঘবদ্ধ চোরাকারবারি চক্র নিরাপদ করিডোর হিসেবে ব্যবহার করছে। একই পথ দিয়ে অবৈধ অস্ত্র, মাদক, ভোগ্যপণ্য, গবাদিপশু ও অন্যান্য চোরাই মালামাল দুদেশের মধ্যে আনা-নেওয়া হচ্ছে। উন্মুক্ত এই সীমান্ত এখন শুধু চোরাচালানের পথ নয়, মানবাধিকার ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সীমান্তের অনেক স্থানে আন্তর্জাতিক সীমারেখা স্পষ্টভাবে চিহ্নিত নয়। পর্যাপ্ত সীমান্ত পিলার, সাইনবোর্ড কিংবা দৃশ্যমান চিহ্নের অভাবে স্থানীয় কৃষক, শ্রমিক, জেলে ও সাধারণ মানুষ অনেক সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে আন্তর্জাতিক সীমারেখা অতিক্রম করে ভারতের কাঁটাতারের বেড়ার কাছাকাছি চলে যান। স্থানীয়দের ভাষ্য, এ কারণে অতীতে বহু বাংলাদেশি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে আটক, নির্যাতন কিংবা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় চোরাচালানের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক, অবৈধ পণ্য পরিবহনের রুট, সীমান্তকেন্দ্রিক বাজার ও নিরাপত্তাঝুঁকির চিত্র উঠে এসেছে। সরেজমিন পরিদর্শন, ভিডিও ও আলোকচিত্র সংগ্রহ এবং স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, নিরাপত্তা বিশ্লেষক, অর্থনীতিবিদ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, এসব সীমান্ত দিয়ে প্রতিনিয়ত আগ্নেয়াস্ত্র, ভারতীয় ভোগ্যপণ্য, শিল্প ও কৃষিপণ্য, মাদক, ওষুধ, মদ, গবাদিপশুসহ অন্যান্য চোরাই পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকেও মাছ, কৃষিপণ্য, প্লাস্টিক সামগ্রী, ঢাকাই জামদানি, মসলিন এবং বিদেশ থেকে চোরাপথে আসা স্বর্ণসহ বিভিন্ন পণ্য ভারতের ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ও মিজোরামে পাচার হচ্ছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে গড়ে উঠেছে এক আন্তঃসীমান্ত নেটওয়ার্ক।
রিপোর্টারের নাম 
























