জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে উষ্ণতা বাড়লেও, ইউরোপে তা অন্যান্য মহাদেশের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন নিঃসরণ বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত তাপ আটকে থাকার কারণেই এমনটা ঘটছে। এরই মধ্যে চলতি গ্রীষ্মে ইউরোপে তাপপ্রবাহে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
ইউরোপ এখন শিল্পযুগের আগের সময়ের তুলনায় প্রায় ২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণ, যা বৈশ্বিক গড় উষ্ণায়নের প্রায় দ্বিগুণ। এর পেছনে প্রধানত চারটি কারণ কাজ করছে: আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতির পরিবর্তন, আর্কটিকের নৈকট্য, তুষার আচ্ছাদন কমে যাওয়া এবং বায়ুদূষণ হ্রাস।
ইউরোপের ওপর বায়ুমণ্ডলীয় প্রবাহের ধরন বদলে যাওয়ায় গ্রীষ্মে তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ বাড়ছে। ২০২৬ সালের জুনে ‘হিট ডোম’-এর কারণে ইউরোপে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ দেখা যায়। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে জেট স্ট্রিমসহ বায়ুপ্রবাহের পরিবর্তনের যোগসূত্র ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে।
আর্কটিক পৃথিবীর দ্রুততম উষ্ণায়নশীল অঞ্চল। ইউরোপ আর্কটিকের কাছাকাছি হওয়ায় এর প্রভাবও বেশি পড়ছে। তুষার কমে যাওয়াও উষ্ণতা বাড়ার অন্যতম কারণ। তুষার সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে ভূমিকে ঠান্ডা রাখে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনে ইউরোপে তুষার আচ্ছাদন দ্রুত কমছে। ২০২৫ সালের মার্চে ইউরোপের তুষার আচ্ছাদন দীর্ঘমেয়াদি গড়ের তুলনায় প্রায় ১৩ লাখ বর্গকিলোমিটার কম ছিল।
বায়ুদূষণ কমে যাওয়াও একটি কারণ। দূষণের ক্ষতিকর দিক থাকলেও বায়ুর কণাগুলো সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে কিছুটা শীতলতা তৈরি করত। ইউরোপে বায়ুদূষণ কমায় সেই শীতল প্রভাবও কমেছে, ফলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের কারণে আটকে থাকা তাপ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
বিজ্ঞানীরা এখনো নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি এই চার কারণের কোনটির ভূমিকা কতটা। তবে দ্রুত উষ্ণায়নের ফলে মৃত্যু, দাবানল, খরা, অতিবৃষ্টি ও বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। জাতিসংঘের জলবায়ুপ্রধান সাইমন স্টিয়েল কার্বন নিঃসারণ কমিয়ে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে যেতে এবং তাপপ্রবাহ থেকে মানুষকে সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 






















