মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১২:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

হোয়াইট হাউসের শান্তি পরিকল্পনা: নেতানিয়াহুর আপত্তি সত্ত্বেও অগ্রগতি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪৬:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার বর্তমানে ক্ষমতায় থাকা অবস্থায়, হোয়াইট হাউস ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আপত্তি সত্ত্বেও তাদের শান্তি পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে চায়। এই মুহূর্তে তারা ইসরাইলের অবস্থানের সঙ্গে প্রকাশ্যে সংঘাতে না গিয়ে ধাপে ধাপে নিজেদের কূটনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের কৌশল নিয়েছে।

হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের মতে, নেতানিয়াহুর বক্তব্যের চেয়ে ইসরাইল বাস্তবে কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, সেটিই তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যদিও যুক্তরাষ্ট্র শুরুতে গাজায় হামলা বেড়ে যাওয়ায় হতাশ হয়েছিল, তবে পরে ইসরাইলি হামলার মাত্রা কমানোকে তারা ইতিবাচক হিসেবে দেখছে।

প্রস্তাবিত ১৫ দফা শান্তি পরিকল্পনায় হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, গাজার শাসন থেকে সরে দাঁড়ানো এবং ধাপে ধাপে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নিয়ে বড় জটিলতা দেখা দিয়েছে। হামাস বলছে, ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের সঙ্গে নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি যুক্ত থাকতে হবে। অন্যদিকে, নেতানিয়াহু বলছেন, হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরাইল গাজা থেকে সেনা সরাবে না।

হোয়াইট হাউসের একটি সূত্র জানিয়েছে, নেতানিয়াহু আগামী নির্বাচনের আগে কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন এবং ডানপন্থি মিত্রদের সমর্থন ধরে রাখতে তাকে কঠোর অবস্থান নিতে হচ্ছে। এ কারণে তিনি প্রকাশ্যে শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করলেও, পর্দার আড়ালে পরিকল্পনার কিছু অংশ নিয়ে আলোচনা ও অগ্রগতি চলতে পারে বলে ওয়াশিংটন আশা করছে।

মার্কিন প্রশাসনের ধারণা, হামাসকে নীতিগতভাবে নিরস্ত্রীকরণে রাজি করানো একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। যদিও বাস্তবে হামাস এই প্রতিশ্রুতি কতটা পালন করবে, তা নিয়ে ইসরাইলের গভীর সন্দেহ রয়েছে। এ কারণে পুরো প্রক্রিয়াটি এখনো অনিশ্চয়তায় রয়েছে।

পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ‘বোর্ড অব পিস’ জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর প্রকাশ্য আপত্তি সত্ত্বেও ইসরাইলের সঙ্গে পৃথক আলোচনা চলছে এবং পরিকল্পনাটি এখনো কার্যকর রয়েছে। তাদের লক্ষ্য হলো গাজায় অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ এবং ভবিষ্যতে সেখান থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের পথ তৈরি করা।

তবে এই অবস্থান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের মধ্যেও উদ্বেগ রয়েছে। তাদের আশঙ্কা, মার্কিন শান্তি পরিকল্পনা প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করা সত্ত্বেও যদি ইসরাইল কোনো বড় চাপের মুখে না পড়ে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। সব মিলিয়ে, নেতানিয়াহুর প্রকাশ্য প্রত্যাখ্যানকে এখনই শান্তি উদ্যোগের চূড়ান্ত ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হচ্ছে না।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাবার মৃত্যুশোক কাটিয়ে মেসির প্রত্যাবর্তন, মিয়ামির হার

হোয়াইট হাউসের শান্তি পরিকল্পনা: নেতানিয়াহুর আপত্তি সত্ত্বেও অগ্রগতি

আপডেট সময় : ১১:৪৬:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার বর্তমানে ক্ষমতায় থাকা অবস্থায়, হোয়াইট হাউস ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আপত্তি সত্ত্বেও তাদের শান্তি পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে চায়। এই মুহূর্তে তারা ইসরাইলের অবস্থানের সঙ্গে প্রকাশ্যে সংঘাতে না গিয়ে ধাপে ধাপে নিজেদের কূটনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের কৌশল নিয়েছে।

হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের মতে, নেতানিয়াহুর বক্তব্যের চেয়ে ইসরাইল বাস্তবে কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, সেটিই তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যদিও যুক্তরাষ্ট্র শুরুতে গাজায় হামলা বেড়ে যাওয়ায় হতাশ হয়েছিল, তবে পরে ইসরাইলি হামলার মাত্রা কমানোকে তারা ইতিবাচক হিসেবে দেখছে।

প্রস্তাবিত ১৫ দফা শান্তি পরিকল্পনায় হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, গাজার শাসন থেকে সরে দাঁড়ানো এবং ধাপে ধাপে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নিয়ে বড় জটিলতা দেখা দিয়েছে। হামাস বলছে, ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের সঙ্গে নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি যুক্ত থাকতে হবে। অন্যদিকে, নেতানিয়াহু বলছেন, হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরাইল গাজা থেকে সেনা সরাবে না।

হোয়াইট হাউসের একটি সূত্র জানিয়েছে, নেতানিয়াহু আগামী নির্বাচনের আগে কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন এবং ডানপন্থি মিত্রদের সমর্থন ধরে রাখতে তাকে কঠোর অবস্থান নিতে হচ্ছে। এ কারণে তিনি প্রকাশ্যে শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করলেও, পর্দার আড়ালে পরিকল্পনার কিছু অংশ নিয়ে আলোচনা ও অগ্রগতি চলতে পারে বলে ওয়াশিংটন আশা করছে।

মার্কিন প্রশাসনের ধারণা, হামাসকে নীতিগতভাবে নিরস্ত্রীকরণে রাজি করানো একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। যদিও বাস্তবে হামাস এই প্রতিশ্রুতি কতটা পালন করবে, তা নিয়ে ইসরাইলের গভীর সন্দেহ রয়েছে। এ কারণে পুরো প্রক্রিয়াটি এখনো অনিশ্চয়তায় রয়েছে।

পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ‘বোর্ড অব পিস’ জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর প্রকাশ্য আপত্তি সত্ত্বেও ইসরাইলের সঙ্গে পৃথক আলোচনা চলছে এবং পরিকল্পনাটি এখনো কার্যকর রয়েছে। তাদের লক্ষ্য হলো গাজায় অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ এবং ভবিষ্যতে সেখান থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের পথ তৈরি করা।

তবে এই অবস্থান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের মধ্যেও উদ্বেগ রয়েছে। তাদের আশঙ্কা, মার্কিন শান্তি পরিকল্পনা প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করা সত্ত্বেও যদি ইসরাইল কোনো বড় চাপের মুখে না পড়ে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। সব মিলিয়ে, নেতানিয়াহুর প্রকাশ্য প্রত্যাখ্যানকে এখনই শান্তি উদ্যোগের চূড়ান্ত ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হচ্ছে না।