ঢাকা ০৭:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

নিরাপত্তা নিয়ে আপস নয়: তাইওয়ান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:০৬:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

তাইওয়ানের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র আদর্শগত বিতর্কের বিষয় নয় এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে কোনও ধরনের আপসের সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট লাই ছিং তে। মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) সেনাবাহিনীর রিজার্ভ সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে এ কথা বলেন তিনি। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

গত সপ্তাহে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক হুমকির মুখে তাইওয়ানের আত্মরক্ষার সংকল্প জোরদার করতে ৪০ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা বাজেটের ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট লাই। চীন গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত এই দ্বীপকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইলান কাউন্টিতে রিজার্ভ সদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্যে তিনি বলেন, চীনের চাপ ও হয়রানির মুখে তারা প্রতিরক্ষায় আরও ব্যয় বৃদ্ধি করছেন এবং সম্ভাব্য যেকোনও পরিস্থিতির জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুত হতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তায় কোনও আপস চলে না। জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের মূল মূল্যবোধ আমাদের রাষ্ট্রের ভিত্তি। এগুলো কোনও আদর্শগত বিতর্ক নয়; এগুলো তাইওয়ানের জনগণের যৌথ অবস্থান।

প্রেসিডেন্ট বলেন, প্রকৃত শান্তি নিশ্চিত করতে তাইওয়ানকে শক্তির ওপর নির্ভর করতে হবে। কারণ শান্তি কোনও চুক্তিনামা দিয়ে অর্জিত হয় না, এবং তা কোনও আগ্রাসীর দাবির কাছে নতি স্বীকার করেও অর্জিত হবে না।

তিনি আরও বলেন, সমঝোতার পথেও হাঁটতে হলে সামর্থ্য থাকতে হবে, যেন জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা যায়। পর্যাপ্ত শক্তি ছাড়া কথিত সমঝোতা শেষ পর্যন্ত আত্মসমর্পণে পর্যবসিত হবে।

২০২১ সালে তাইওয়ান সরকার রিজার্ভ বাহিনীর প্রশিক্ষণে সংস্কার আনে, যার মধ্যে ছিল যুদ্ধ ও গুলি ছোড়ার প্রশিক্ষণ জোরদার করা। পরের বছর বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার মেয়াদ চার মাস থেকে বাড়িয়ে এক বছর করা হয়।

বক্তব্যের পর রিজার্ভ সদস্যদের ড্রোন ওড়ানো, অস্ত্র চালানো, গ্রেনেড নিক্ষেপ এবং প্রশিক্ষণের সময় সহযোদ্ধাদের টুর্নিকেট বেঁধে প্রাথমিক চিকিৎসা দক্ষণা পর্যবেক্ষণ করেন প্রেসিডেন্ট।

চীন কখনও বলপ্রয়োগের সম্ভাবনা বাতিল করে দেয়নি। লাই ও তার সরকার বেইজিংয়ের সার্বভৌমত্ব দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, তাইওয়ানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে শুধুই তাদের জনগণ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়: সিরিজে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ, লক্ষ্য সিরিজ জয়

নিরাপত্তা নিয়ে আপস নয়: তাইওয়ান

আপডেট সময় : ০১:০৬:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫

তাইওয়ানের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র আদর্শগত বিতর্কের বিষয় নয় এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে কোনও ধরনের আপসের সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট লাই ছিং তে। মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) সেনাবাহিনীর রিজার্ভ সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে এ কথা বলেন তিনি। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

গত সপ্তাহে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক হুমকির মুখে তাইওয়ানের আত্মরক্ষার সংকল্প জোরদার করতে ৪০ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা বাজেটের ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট লাই। চীন গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত এই দ্বীপকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইলান কাউন্টিতে রিজার্ভ সদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্যে তিনি বলেন, চীনের চাপ ও হয়রানির মুখে তারা প্রতিরক্ষায় আরও ব্যয় বৃদ্ধি করছেন এবং সম্ভাব্য যেকোনও পরিস্থিতির জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুত হতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তায় কোনও আপস চলে না। জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের মূল মূল্যবোধ আমাদের রাষ্ট্রের ভিত্তি। এগুলো কোনও আদর্শগত বিতর্ক নয়; এগুলো তাইওয়ানের জনগণের যৌথ অবস্থান।

প্রেসিডেন্ট বলেন, প্রকৃত শান্তি নিশ্চিত করতে তাইওয়ানকে শক্তির ওপর নির্ভর করতে হবে। কারণ শান্তি কোনও চুক্তিনামা দিয়ে অর্জিত হয় না, এবং তা কোনও আগ্রাসীর দাবির কাছে নতি স্বীকার করেও অর্জিত হবে না।

তিনি আরও বলেন, সমঝোতার পথেও হাঁটতে হলে সামর্থ্য থাকতে হবে, যেন জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা যায়। পর্যাপ্ত শক্তি ছাড়া কথিত সমঝোতা শেষ পর্যন্ত আত্মসমর্পণে পর্যবসিত হবে।

২০২১ সালে তাইওয়ান সরকার রিজার্ভ বাহিনীর প্রশিক্ষণে সংস্কার আনে, যার মধ্যে ছিল যুদ্ধ ও গুলি ছোড়ার প্রশিক্ষণ জোরদার করা। পরের বছর বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার মেয়াদ চার মাস থেকে বাড়িয়ে এক বছর করা হয়।

বক্তব্যের পর রিজার্ভ সদস্যদের ড্রোন ওড়ানো, অস্ত্র চালানো, গ্রেনেড নিক্ষেপ এবং প্রশিক্ষণের সময় সহযোদ্ধাদের টুর্নিকেট বেঁধে প্রাথমিক চিকিৎসা দক্ষণা পর্যবেক্ষণ করেন প্রেসিডেন্ট।

চীন কখনও বলপ্রয়োগের সম্ভাবনা বাতিল করে দেয়নি। লাই ও তার সরকার বেইজিংয়ের সার্বভৌমত্ব দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, তাইওয়ানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে শুধুই তাদের জনগণ।