রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে বিশ্ব হাতি দিবস উপলক্ষে এক জনসচেতনতামূলক র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। বক্তারা বলেছেন, সংরক্ষিত বনাঞ্চলে হাতির সংখ্যা বাড়লেও খাদ্যসংকটসহ নানা কারণে হাতি লোকালয়ে চলে আসছে। তারা হাতির চলাচলের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করা, আবাসস্থল ধ্বংস না করা এবং হাতির কাছাকাছি গিয়ে মোবাইল ফোনে ছবি বা ভিডিও ধারণ করে জীবনের ঝুঁকি না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বুধবার (বিশ্ব হাতি দিবস) সকালে কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের কাপ্তাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. জামাল হোসেন তালুকদার। সভাটি সঞ্চালনা করেন সহকারী তথ্য কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মামুনুর রহমান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন, কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি লোকমান আহমেদ এবং কর্ণফুলী রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা ফজলে রাব্বি সরকার।
বক্তারা জানান, ২০২৪ সালে কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে হাতির সংখ্যা ছিল ৩৬টি, যা বর্তমানে আনুমানিক ৪২ থেকে ৪৫টিতে দাঁড়িয়েছে। বনাঞ্চলে হাতির সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও খাবারের সংকটের কারণে প্রায়শই হাতি লোকালয়ে চলে আসে। এতে মানুষ ও হাতির মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়। তারা বলেন, নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় হাতিকে বাঁচাতে হবে। মানুষের প্রয়োজনে বন উজাড় করার ফলে হাতির প্রাকৃতিক আবাসস্থল ও খাবারের উৎস সংকুচিত হচ্ছে। তাই হাতির আবাসস্থল রক্ষা এবং বন সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা।
এর আগে বিশ্ব হাতি দিবস উপলক্ষে স্কুলশিক্ষার্থী, বন বিভাগের কর্মী, সরকারি কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী এবং বনের ওপর নির্ভরশীল উপকারভোগীদের অংশগ্রহণে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে শেষ হয়। আলোচনা সভা শেষে ১০০ শিক্ষার্থীর মাঝে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
রিপোর্টারের নাম 



















