মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৫:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

ফিলিস্তিনিদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগে মামলা করেছেন বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী ও কর্মী। তাদের অভিযোগ, ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়ের সদস্যদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করছে।

নিউইয়র্কের একটি আদালতে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী ও কর্মীদের হয়রানি থেকে সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট ও অন্যায্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মামলাকারীদের দাবি, ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে কথা বলা এবং গাজায় ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদ করার কারণে অনেক শিক্ষার্থী ও কর্মীকে বিশেষভাবে নজরদারি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় এর আগে বৈষম্যের অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং সব ধরনের বিদ্বেষের নিন্দা জানিয়েছে। নতুন এই মামলার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা গাজায় ইসরাইলের হামলার প্রতিবাদ, ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন বন্ধ এবং ইসরাইল-সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনিয়োগ প্রত্যাহারের দাবি জানান। গত বছরের মে মাসে ফিলিস্তিনপন্থি একটি বিক্ষোভে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গ্রন্থাগার বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় কলম্বিয়া ৬৫ জনের বেশি শিক্ষার্থীকে সাময়িক বরখাস্ত করে। ওই সময় বিশ্ববিদ্যালয়টি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করছিল।

ট্রাম্প প্রশাসন ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভের সময় ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে কলম্বিয়ার ফেডারেল অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়। পরে তদন্ত নিষ্পত্তি এবং অধিকাংশ ফেডারেল অর্থায়ন পুনর্বহালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়টি মার্কিন সরকারের সঙ্গে ২০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ পরিশোধের একটি সমঝোতায় পৌঁছায়। তবে বিক্ষোভকারীদের একাংশ, যার মধ্যে কিছু ইহুদি সংগঠনও রয়েছে, বলছে—গাজায় ইসরাইলি হামলা বা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে দখলদারিত্বের সমালোচনা করাকে ইহুদিবিদ্বেষ হিসেবে দেখানো উচিত নয়। তাদের মতে, ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে কথা বলাকে উগ্রবাদ সমর্থনের সঙ্গে এক করে দেখা হচ্ছে, যা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তরুণরাই নতুন সভ্যতার চালিকাশক্তি, তাদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে রাষ্ট্রের দায়িত্ব: তথ্যমন্ত্রী

ফিলিস্তিনিদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট সময় : ০৩:১৮:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগে মামলা করেছেন বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী ও কর্মী। তাদের অভিযোগ, ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়ের সদস্যদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করছে।

নিউইয়র্কের একটি আদালতে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী ও কর্মীদের হয়রানি থেকে সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট ও অন্যায্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মামলাকারীদের দাবি, ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে কথা বলা এবং গাজায় ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদ করার কারণে অনেক শিক্ষার্থী ও কর্মীকে বিশেষভাবে নজরদারি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় এর আগে বৈষম্যের অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং সব ধরনের বিদ্বেষের নিন্দা জানিয়েছে। নতুন এই মামলার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা গাজায় ইসরাইলের হামলার প্রতিবাদ, ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন বন্ধ এবং ইসরাইল-সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনিয়োগ প্রত্যাহারের দাবি জানান। গত বছরের মে মাসে ফিলিস্তিনপন্থি একটি বিক্ষোভে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গ্রন্থাগার বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় কলম্বিয়া ৬৫ জনের বেশি শিক্ষার্থীকে সাময়িক বরখাস্ত করে। ওই সময় বিশ্ববিদ্যালয়টি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করছিল।

ট্রাম্প প্রশাসন ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভের সময় ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে কলম্বিয়ার ফেডারেল অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়। পরে তদন্ত নিষ্পত্তি এবং অধিকাংশ ফেডারেল অর্থায়ন পুনর্বহালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়টি মার্কিন সরকারের সঙ্গে ২০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ পরিশোধের একটি সমঝোতায় পৌঁছায়। তবে বিক্ষোভকারীদের একাংশ, যার মধ্যে কিছু ইহুদি সংগঠনও রয়েছে, বলছে—গাজায় ইসরাইলি হামলা বা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে দখলদারিত্বের সমালোচনা করাকে ইহুদিবিদ্বেষ হিসেবে দেখানো উচিত নয়। তাদের মতে, ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে কথা বলাকে উগ্রবাদ সমর্থনের সঙ্গে এক করে দেখা হচ্ছে, যা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী।