মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০১:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

এসএসসি পরীক্ষায় নেত্রকোনা জেলায় সর্বোচ্চ পাসের হার: ময়মনসিংহ বিভাগে শীর্ষ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:১৯:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত সর্বশেষ এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী, বিভাগের চার জেলার মধ্যে নেত্রকোনা জেলায় পাসের হার সর্বোচ্চ। এবার নেত্রকোনা জেলায় পাসের হার ৬০.৪৯ শতাংশ অর্জিত হয়েছে।

প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ময়মনসিংহ জেলায় পাসের হার ৫৭.৮০ শতাংশ, জামালপুরে ৫৫.৬০ শতাংশ, শেরপুরে ৫৫.৪১ শতাংশ এবং নেত্রকোনায় এই হার দাঁড়িয়েছে ৬০.৪৯ শতাংশ।

জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ, যা নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, এবার এসএসসি পরীক্ষায় ৩৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল এবং তাদের সকলেই উত্তীর্ণ হয়েছে।

উপজেলাভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, নেত্রকোনা সদরে পাসের হার ৬৪.৩১ শতাংশ, বারহাট্টায় ৪৯.৩১, মদনে ৬০.৮২, মোহনগঞ্জে ৬৮.৩৬, খালিয়াজুরীতে ৪৯.৪১, আটপাড়ায় ৫০.৮২, কেন্দুয়ায় ৫৫.০৭, দুর্গাপুরে ৫৮.৩০, কলমাকান্দায় ৫৯.২৮ এবং পূর্বধলায় ৬০.৪৯ শতাংশ। উল্লেখযোগ্যভাবে, জেলায় কোনো বিদ্যালয় থেকে শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়নি।

অন্যদিকে, দাখিল পরীক্ষায় নেত্রকোনা জেলায় পাসের হার ৫৩.৬১ শতাংশ এবং ভোকেশনাল শাখায় পাসের হার ৪৬.৬০ শতাংশ। তবে, জেলা শহরের মালনী কারিগরি স্কুল থেকে এবার কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি; প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৩১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল এবং সবাই অকৃতকার্য হয়েছে।

শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক আশাদুজ্জামান তাঁর প্রতিষ্ঠানের ভালো ফলাফলের কারণ হিসেবে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদানের ওপর জোর দেন এবং ভবিষ্যতে এই ধারা অব্যাহত রাখার আশা প্রকাশ করেন।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর কবীর আহাম্মদ বলেন, শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনতে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে এবং নিয়মিত উপস্থিতির মাধ্যমে ফলাফল আরও উন্নত হবে বলে তিনি আশাবাদী।

নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান জানিয়েছেন, উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে বিতর্ক, বিজ্ঞান, ভাষা ও সাংস্কৃতিক ক্লাব গঠন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যসূচির পাশাপাশি সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে, যা তাদের মেধা বিকাশে সহায়ক হবে এবং সামগ্রিকভাবে ফলাফল উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সীতাকুণ্ডে ক্যাডেট কলেজের সাফল্যের বিপরীতে সরকারি স্কুলের ফল বিপর্যয়: শিক্ষক ও ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন

এসএসসি পরীক্ষায় নেত্রকোনা জেলায় সর্বোচ্চ পাসের হার: ময়মনসিংহ বিভাগে শীর্ষ

আপডেট সময় : ১২:১৯:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত সর্বশেষ এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী, বিভাগের চার জেলার মধ্যে নেত্রকোনা জেলায় পাসের হার সর্বোচ্চ। এবার নেত্রকোনা জেলায় পাসের হার ৬০.৪৯ শতাংশ অর্জিত হয়েছে।

প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ময়মনসিংহ জেলায় পাসের হার ৫৭.৮০ শতাংশ, জামালপুরে ৫৫.৬০ শতাংশ, শেরপুরে ৫৫.৪১ শতাংশ এবং নেত্রকোনায় এই হার দাঁড়িয়েছে ৬০.৪৯ শতাংশ।

জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ, যা নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, এবার এসএসসি পরীক্ষায় ৩৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল এবং তাদের সকলেই উত্তীর্ণ হয়েছে।

উপজেলাভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, নেত্রকোনা সদরে পাসের হার ৬৪.৩১ শতাংশ, বারহাট্টায় ৪৯.৩১, মদনে ৬০.৮২, মোহনগঞ্জে ৬৮.৩৬, খালিয়াজুরীতে ৪৯.৪১, আটপাড়ায় ৫০.৮২, কেন্দুয়ায় ৫৫.০৭, দুর্গাপুরে ৫৮.৩০, কলমাকান্দায় ৫৯.২৮ এবং পূর্বধলায় ৬০.৪৯ শতাংশ। উল্লেখযোগ্যভাবে, জেলায় কোনো বিদ্যালয় থেকে শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়নি।

অন্যদিকে, দাখিল পরীক্ষায় নেত্রকোনা জেলায় পাসের হার ৫৩.৬১ শতাংশ এবং ভোকেশনাল শাখায় পাসের হার ৪৬.৬০ শতাংশ। তবে, জেলা শহরের মালনী কারিগরি স্কুল থেকে এবার কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি; প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৩১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল এবং সবাই অকৃতকার্য হয়েছে।

শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক আশাদুজ্জামান তাঁর প্রতিষ্ঠানের ভালো ফলাফলের কারণ হিসেবে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদানের ওপর জোর দেন এবং ভবিষ্যতে এই ধারা অব্যাহত রাখার আশা প্রকাশ করেন।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর কবীর আহাম্মদ বলেন, শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনতে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে এবং নিয়মিত উপস্থিতির মাধ্যমে ফলাফল আরও উন্নত হবে বলে তিনি আশাবাদী।

নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান জানিয়েছেন, উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে বিতর্ক, বিজ্ঞান, ভাষা ও সাংস্কৃতিক ক্লাব গঠন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যসূচির পাশাপাশি সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে, যা তাদের মেধা বিকাশে সহায়ক হবে এবং সামগ্রিকভাবে ফলাফল উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।