দেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের পরিবেশ সহজ করতে অপ্রয়োজনীয় নিয়ম, অনুমোদন ও প্রশাসনিক জটিলতা চিহ্নিত করে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার। এ লক্ষ্যে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর সভাপতিত্বে ২২ সদস্যের ‘বিনিয়ন্ত্রণ ও ব্যবসা সহজীকরণ-বিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্স’ গঠন করা হয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট, ২০২৬) এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নবগঠিত টাস্কফোর্স বিভিন্ন খাতে বিনিয়ন্ত্রণ ও ব্যবসা সহজীকরণসংক্রান্ত সংস্কার রোডম্যাপ অনুমোদন করবে এবং এর বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করবে। একই সঙ্গে ব্যবসা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি লাইসেন্স, অনুমোদন, ছাড়পত্র ও প্রশাসনিক ধাপ চিহ্নিত করে সেগুলো কমানোর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেবে।
টাস্কফোর্সে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন; শিল্প ও বাণিজ্য এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এছাড়া অর্থ ও পরিকল্পনা; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টারাও এতে যুক্ত হয়েছেন।
কমিটিতে আরও রয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান, বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ, নৌপরিবহন ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা।
বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সভাপতিকেও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই), ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই), মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই), বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) ও বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)-এর সভাপতিরা রয়েছেন। অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (সামষ্টিক ও টিডিএম) এই টাস্কফোর্সের সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, লাইসেন্স, অনুমোদন, ছাড়পত্র, কর, শুল্ক, ব্যাংকিং, পুঁজিবাজার, নির্মাণ, পরিবেশ ও স্থানীয় সেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় ধাপ চিহ্নিত করে তা কমানোর উদ্যোগ নেবে টাস্কফোর্স। একই সঙ্গে সিঙ্গেল উইন্ডো, সার্ভিস লেভেল এগ্রিমেন্ট (এসএলএ), ডিমড বা অটোমেটিক অ্যাপ্রুভাল এবং অনলাইন ট্র্যাকিং ব্যবস্থা কার্যকরে প্রয়োজনীয় নীতিগত দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। এছাড়া আন্তঃমন্ত্রণালয় ও আন্তঃসংস্থাগত জটিলতা দ্রুত নিষ্পত্তির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সংস্কার প্রস্তাবও দেবে এই টাস্কফোর্স।
রিপোর্টারের নাম 

























