মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৯:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

মক্কা চুক্তির প্রভাবে ভারত-ইসরাইলের কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা

মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে ভারত ও ইসরাইলের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা চুক্তি’ নামে পরিচিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিটি দিল্লি ও জেরুজালেমকে নতুন করে কৌশলগত হিসাব-নিকাশে বাধ্য করছে।

এই প্রেক্ষাপটে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে সাম্প্রতিক ফোনালাপ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। গত বৃহস্পতিবার মোদি এক্সে জানান, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তিনি পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেছেন এবং ভারত-ইসরাইল ‘বিশেষ কৌশলগত অংশীদারত্বের’ অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছেন। বার্তাটি ইংরেজি ও হিব্রু দুই ভাষায় প্রকাশ পায় এবং নেতানিয়াহুও তা পুনঃপ্রকাশ করেন।

পরদিনই সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক মক্কায় একটি বিস্তৃত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে, যেখানে ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের আদলে একটি ধারা রয়েছে বলে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে। এর অর্থ হলো, জোটের কোনো একটি দেশের ওপর হামলাকে সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় এই নতুন জোটের প্রভাব মোদি-নেতানিয়াহুর আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেয়েছে। দীর্ঘকাল ধরে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল, সৌদি আরবসহ আরব দেশগুলোকে একটি অভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় আনার পক্ষে কাজ করলেও, মক্কায় গঠিত জোট সেই পরিকল্পনার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর আস্থায় টানাপোড়েন এবং ইরান ও তার মিত্রদের সঙ্গে সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব বিকল্প নিরাপত্তা অংশীদার খুঁজছে। এই কারণেই রিয়াদ তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার করছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, একাধিক অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতি ও আহত

মক্কা চুক্তির প্রভাবে ভারত-ইসরাইলের কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা

আপডেট সময় : ০৭:৫০:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে ভারত ও ইসরাইলের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা চুক্তি’ নামে পরিচিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিটি দিল্লি ও জেরুজালেমকে নতুন করে কৌশলগত হিসাব-নিকাশে বাধ্য করছে।

এই প্রেক্ষাপটে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে সাম্প্রতিক ফোনালাপ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। গত বৃহস্পতিবার মোদি এক্সে জানান, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তিনি পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেছেন এবং ভারত-ইসরাইল ‘বিশেষ কৌশলগত অংশীদারত্বের’ অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছেন। বার্তাটি ইংরেজি ও হিব্রু দুই ভাষায় প্রকাশ পায় এবং নেতানিয়াহুও তা পুনঃপ্রকাশ করেন।

পরদিনই সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক মক্কায় একটি বিস্তৃত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে, যেখানে ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের আদলে একটি ধারা রয়েছে বলে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে। এর অর্থ হলো, জোটের কোনো একটি দেশের ওপর হামলাকে সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় এই নতুন জোটের প্রভাব মোদি-নেতানিয়াহুর আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেয়েছে। দীর্ঘকাল ধরে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল, সৌদি আরবসহ আরব দেশগুলোকে একটি অভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় আনার পক্ষে কাজ করলেও, মক্কায় গঠিত জোট সেই পরিকল্পনার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর আস্থায় টানাপোড়েন এবং ইরান ও তার মিত্রদের সঙ্গে সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব বিকল্প নিরাপত্তা অংশীদার খুঁজছে। এই কারণেই রিয়াদ তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার করছে বলে মনে করা হচ্ছে।