মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৪:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

ব্যাংকের বিনিয়োগ সরকারি সিকিউরিটিজে: বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ হ্রাস

একসময় শিল্প খাতে বিনিয়োগ ছিল বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর আয়ের প্রধান উৎস। কিন্তু বর্তমানে সেই চিত্র বদলে গেছে। দেশের প্রধান ব্যাংকগুলো এখন সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করে অধিক মুনাফা অর্জন করছে। এর ফলে ব্যাংকগুলোর অর্থায়নের একটি বড় অংশ উৎপাদনশীল খাত থেকে সরকারি সিকিউরিটিজে স্থানান্তরিত হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমছে, তেমনি নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান ব্যাংকগুলোকে নতুন ঋণ বৃদ্ধির নির্দেশ দিয়েছেন।

তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাস শেষে ব্যাংকগুলোর মোট বিনিয়োগের ৯১.৩২ শতাংশই ছিল সরকারি সিকিউরিটিজে, যেখানে অন্যান্য খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ মাত্র ৮.৬৮ শতাংশ। মার্চ প্রান্তিকে সরকারি সিকিউরিটিজে ব্যাংকের বিনিয়োগ ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও অন্যান্য খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ ০.৮৩ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে ব্যাংকগুলোর ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ০.৩৭ শতাংশ।

বাংলাদেশ স্টিল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শেখ মাসাদুল আলম বলেছেন, ব্যাংকগুলো বর্তমানে নতুন ঋণ বিতরণে খুব একটা আগ্রহী নয়। তারা মূলত সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করছে এবং নতুন ঋণ দেওয়ার পরিবর্তে বিদ্যমান ঋণ আদায়ের দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। এর ফলে শিল্প ও ব্যবসা খাত প্রয়োজনীয় অর্থায়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে দেশে উল্লেখযোগ্য কোনো নতুন উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়নি। পূর্বে দেশের ৬০-৭০ শতাংশ উন্নয়ন কার্যক্রম সরকারি উদ্যোগে পরিচালিত হতো, যার ইতিবাচক প্রভাব বেসরকারি খাতেও পড়ত। কিন্তু উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা দেখা দেওয়ায় শিল্প ও ব্যবসায় মন্দাভাব সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের সময় ডলারের বিনিময় হার ৮০ টাকা থেকে বেড়ে ১২৫ টাকায় ওঠায় ব্যবসায়ীদের মূলধনের প্রায় ৪০ শতাংশ ক্ষয় হয়ে গেছে।

নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম উল্লেখ করেছেন যে, ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা ঋণ নিতে দ্বিধাগ্রস্ত, কারণ গ্যাস-বিদ্যুতের অভাবের কারণে তাদের বিনিয়োগ ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। শিল্পে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হলে আগে জ্বালানির নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জনতার রায় উপেক্ষা করে কেউ টিকতে পারেনি, ফ্যাসিবাদ রুখবে যুবসমাজ: জামায়াত আমির

ব্যাংকের বিনিয়োগ সরকারি সিকিউরিটিজে: বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ হ্রাস

আপডেট সময় : ০২:১৯:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

একসময় শিল্প খাতে বিনিয়োগ ছিল বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর আয়ের প্রধান উৎস। কিন্তু বর্তমানে সেই চিত্র বদলে গেছে। দেশের প্রধান ব্যাংকগুলো এখন সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করে অধিক মুনাফা অর্জন করছে। এর ফলে ব্যাংকগুলোর অর্থায়নের একটি বড় অংশ উৎপাদনশীল খাত থেকে সরকারি সিকিউরিটিজে স্থানান্তরিত হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমছে, তেমনি নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান ব্যাংকগুলোকে নতুন ঋণ বৃদ্ধির নির্দেশ দিয়েছেন।

তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাস শেষে ব্যাংকগুলোর মোট বিনিয়োগের ৯১.৩২ শতাংশই ছিল সরকারি সিকিউরিটিজে, যেখানে অন্যান্য খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ মাত্র ৮.৬৮ শতাংশ। মার্চ প্রান্তিকে সরকারি সিকিউরিটিজে ব্যাংকের বিনিয়োগ ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও অন্যান্য খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ ০.৮৩ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে ব্যাংকগুলোর ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ০.৩৭ শতাংশ।

বাংলাদেশ স্টিল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শেখ মাসাদুল আলম বলেছেন, ব্যাংকগুলো বর্তমানে নতুন ঋণ বিতরণে খুব একটা আগ্রহী নয়। তারা মূলত সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করছে এবং নতুন ঋণ দেওয়ার পরিবর্তে বিদ্যমান ঋণ আদায়ের দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। এর ফলে শিল্প ও ব্যবসা খাত প্রয়োজনীয় অর্থায়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে দেশে উল্লেখযোগ্য কোনো নতুন উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়নি। পূর্বে দেশের ৬০-৭০ শতাংশ উন্নয়ন কার্যক্রম সরকারি উদ্যোগে পরিচালিত হতো, যার ইতিবাচক প্রভাব বেসরকারি খাতেও পড়ত। কিন্তু উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা দেখা দেওয়ায় শিল্প ও ব্যবসায় মন্দাভাব সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের সময় ডলারের বিনিময় হার ৮০ টাকা থেকে বেড়ে ১২৫ টাকায় ওঠায় ব্যবসায়ীদের মূলধনের প্রায় ৪০ শতাংশ ক্ষয় হয়ে গেছে।

নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম উল্লেখ করেছেন যে, ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা ঋণ নিতে দ্বিধাগ্রস্ত, কারণ গ্যাস-বিদ্যুতের অভাবের কারণে তাদের বিনিয়োগ ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। শিল্পে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হলে আগে জ্বালানির নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে।