মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০২:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বাণিজ্য ঘাটতি, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি ও রপ্তানি আয় হ্রাস

দেশের বাণিজ্য ঘাটতি গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও রপ্তানি আয় কমে যাওয়ায় এক বছরে বাণিজ্য ঘাটতি ৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সদ্য শেষ হওয়া অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৭.২৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের (২০২৪-২৫) ২০.৩৯ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে বেশি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশ থেকে পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৪৩.৮৫ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১ শতাংশ কম। বিপরীতে আমদানি ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭১.১৪ বিলিয়ন ডলারে, যা এক বছরে ১০.৫ শতাংশ বৃদ্ধি। এটি ২০২১-২২ অর্থবছরের পর আমদানি বৃদ্ধির সর্বোচ্চ হার। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ঘাটতি বৃদ্ধির পেছনে বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাবই বেশি, যেমন – জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, পশ্চিমা দেশগুলোতে উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় তৈরি হওয়া সংকট। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রেতাদের চাহিদা ও নতুন আদেশ কমেছে, যা রপ্তানি আয় বাড়াতে পারেনি। অন্যদিকে জ্বালানি ও বিভিন্ন পণ্যের আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি আরও বড় হয়েছে।

তবে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়লেও দেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে (ব্যালান্স অব পেমেন্টস) বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়নি। এর অন্যতম কারণ রেমিট্যান্সের শক্তিশালী প্রবাহ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে রেকর্ড ৩৫.৫৮ বিলিয়ন ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে, যা চলতি হিসাবের ঘাটতি প্রায় ১.৬ বিলিয়ন ডলারে সীমাবদ্ধ রাখতে সাহায্য করেছে। গত অর্থবছরে দেশের আর্থিক হিসাবে ৭৮৯ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের ৩৫৯ কোটি ডলারের চেয়ে বেশি। এটি মূলত প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই), বিদেশি অনুদান ও বিদেশি ঋণের ওপর ভর করেই তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে পুরো ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের সামগ্রিক বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে ৬.৬ বিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্ত হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ব্যালান্স অব পেমেন্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হচ্ছে চলতি হিসাব, যা একটি দেশের বৈদেশিক লেনদেনের অবস্থা নির্দেশ করে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নতজানু নয়, বাংলাদেশ সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপসহীন: শেখ হাসিনার দিল্লি সফর প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়া

তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বাণিজ্য ঘাটতি, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি ও রপ্তানি আয় হ্রাস

আপডেট সময় : ০১:০৭:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

দেশের বাণিজ্য ঘাটতি গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও রপ্তানি আয় কমে যাওয়ায় এক বছরে বাণিজ্য ঘাটতি ৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সদ্য শেষ হওয়া অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৭.২৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের (২০২৪-২৫) ২০.৩৯ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে বেশি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশ থেকে পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৪৩.৮৫ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১ শতাংশ কম। বিপরীতে আমদানি ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭১.১৪ বিলিয়ন ডলারে, যা এক বছরে ১০.৫ শতাংশ বৃদ্ধি। এটি ২০২১-২২ অর্থবছরের পর আমদানি বৃদ্ধির সর্বোচ্চ হার। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ঘাটতি বৃদ্ধির পেছনে বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাবই বেশি, যেমন – জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, পশ্চিমা দেশগুলোতে উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় তৈরি হওয়া সংকট। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রেতাদের চাহিদা ও নতুন আদেশ কমেছে, যা রপ্তানি আয় বাড়াতে পারেনি। অন্যদিকে জ্বালানি ও বিভিন্ন পণ্যের আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি আরও বড় হয়েছে।

তবে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়লেও দেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে (ব্যালান্স অব পেমেন্টস) বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়নি। এর অন্যতম কারণ রেমিট্যান্সের শক্তিশালী প্রবাহ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে রেকর্ড ৩৫.৫৮ বিলিয়ন ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে, যা চলতি হিসাবের ঘাটতি প্রায় ১.৬ বিলিয়ন ডলারে সীমাবদ্ধ রাখতে সাহায্য করেছে। গত অর্থবছরে দেশের আর্থিক হিসাবে ৭৮৯ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের ৩৫৯ কোটি ডলারের চেয়ে বেশি। এটি মূলত প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই), বিদেশি অনুদান ও বিদেশি ঋণের ওপর ভর করেই তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে পুরো ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের সামগ্রিক বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে ৬.৬ বিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্ত হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ব্যালান্স অব পেমেন্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হচ্ছে চলতি হিসাব, যা একটি দেশের বৈদেশিক লেনদেনের অবস্থা নির্দেশ করে।