মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৪:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

শিক্ষায় নৈরাজ্য: মাফিয়া শাসনামলে ধ্বংসের মুখে শিক্ষাব্যবস্থা

মাফিয়া শাসক শেখ হাসিনার আমলে পরিকল্পিতভাবে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষক নামধারী দলবাজদের আখড়ায় পরিণত হয়েছিল। বুয়েটের মতো দেশের গৌরবময় প্রতিষ্ঠানেও নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের নির্দেশনায় প্রশাসন পরিচালিত হতো। আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এটি স্পষ্ট হয়েছিল যে, কীভাবে সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ ও মেরুদণ্ডহীন দলবাজ শিক্ষকরা দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জিম্মি করে ফেলেছিল।

প্রায় দেড় যুগ ধরে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক নিয়োগের প্রধান যোগ্যতা ছিল দলীয় পরিচয়। শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্ত দলীয়করণের ফলে ক্লাসে প্রথম হওয়া বা মেধাবী হওয়াটা একপ্রকার অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে বিপুল পরিমাণ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে। এমনকি ২ কোটি টাকার বিনিময়ে ভিসি ও অর্ধকোটি টাকার বিনিময়ে অধ্যক্ষ নিয়োগের মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে। দলীয় অযোগ্যদের নিয়োগের জন্য নিয়োগের শর্ত শিথিল করাসহ যা করা হয়েছে, তা ছিল জাতির সঙ্গে চূড়ান্ত তামাশা। সরাসরি দলীয় সন্ত্রাসী ও অস্ত্রবাজদের উচ্চশিক্ষাঙ্গনে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজে পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থীকে গুলি করার ঘটনা এর একটি নজির।

শুধু উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, প্রাথমিক পর্যায় থেকে শুরু করে সর্বস্তরে শিক্ষক নিয়োগ, বদলি এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে পদায়নের জন্য সীমাহীন দুর্নীতি ও দলীয়করণ করা হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে প্রায় সব পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। পঞ্চম শ্রেণি থেকে পাবলিক পরীক্ষা চালু, সৃজনশীল ব্যবস্থা প্রবর্তন, নতুন শিক্ষানীতি, বারবার পরীক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তন, পাঠ্যবই পরিবর্তনসহ বিভিন্ন অরাজকতার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ওপর ভয়াবহ হয়রানি ও বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাঠ্যপুস্তকের মান বলতে কিছু ছিল না। অযোগ্য দলীয় লোকদের মাধ্যমে লিখিত নিম্নমানের পাঠ্যবই এবং শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে জাতির ওপর মুজিববন্দনা চাপিয়ে দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠা করা হয় ব্যক্তি, পরিবার ও দলীয় বয়ান। বিকৃত করা হয় ইতিহাস। সৃজনশীল ব্যবস্থা চালুর নামে শিক্ষাব্যবস্থাকে মহা-অরাজকতার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়। সৃজনশীলতার নামে যা ইচ্ছে তাই পরীক্ষার খাতায় লেখার সুযোগ তৈরি হয়, যেখানে উত্তর সঠিক হোক বা না হোক, পরীক্ষক তাতেই নম্বর দেবেন বলে আশা করা হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জনতার রায় উপেক্ষা করে কেউ টিকতে পারেনি, ফ্যাসিবাদ রুখবে যুবসমাজ: জামায়াত আমির

শিক্ষায় নৈরাজ্য: মাফিয়া শাসনামলে ধ্বংসের মুখে শিক্ষাব্যবস্থা

আপডেট সময় : ০২:১৮:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

মাফিয়া শাসক শেখ হাসিনার আমলে পরিকল্পিতভাবে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষক নামধারী দলবাজদের আখড়ায় পরিণত হয়েছিল। বুয়েটের মতো দেশের গৌরবময় প্রতিষ্ঠানেও নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের নির্দেশনায় প্রশাসন পরিচালিত হতো। আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এটি স্পষ্ট হয়েছিল যে, কীভাবে সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ ও মেরুদণ্ডহীন দলবাজ শিক্ষকরা দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জিম্মি করে ফেলেছিল।

প্রায় দেড় যুগ ধরে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক নিয়োগের প্রধান যোগ্যতা ছিল দলীয় পরিচয়। শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্ত দলীয়করণের ফলে ক্লাসে প্রথম হওয়া বা মেধাবী হওয়াটা একপ্রকার অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে বিপুল পরিমাণ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে। এমনকি ২ কোটি টাকার বিনিময়ে ভিসি ও অর্ধকোটি টাকার বিনিময়ে অধ্যক্ষ নিয়োগের মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে। দলীয় অযোগ্যদের নিয়োগের জন্য নিয়োগের শর্ত শিথিল করাসহ যা করা হয়েছে, তা ছিল জাতির সঙ্গে চূড়ান্ত তামাশা। সরাসরি দলীয় সন্ত্রাসী ও অস্ত্রবাজদের উচ্চশিক্ষাঙ্গনে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজে পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থীকে গুলি করার ঘটনা এর একটি নজির।

শুধু উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, প্রাথমিক পর্যায় থেকে শুরু করে সর্বস্তরে শিক্ষক নিয়োগ, বদলি এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে পদায়নের জন্য সীমাহীন দুর্নীতি ও দলীয়করণ করা হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে প্রায় সব পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। পঞ্চম শ্রেণি থেকে পাবলিক পরীক্ষা চালু, সৃজনশীল ব্যবস্থা প্রবর্তন, নতুন শিক্ষানীতি, বারবার পরীক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তন, পাঠ্যবই পরিবর্তনসহ বিভিন্ন অরাজকতার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ওপর ভয়াবহ হয়রানি ও বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাঠ্যপুস্তকের মান বলতে কিছু ছিল না। অযোগ্য দলীয় লোকদের মাধ্যমে লিখিত নিম্নমানের পাঠ্যবই এবং শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে জাতির ওপর মুজিববন্দনা চাপিয়ে দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠা করা হয় ব্যক্তি, পরিবার ও দলীয় বয়ান। বিকৃত করা হয় ইতিহাস। সৃজনশীল ব্যবস্থা চালুর নামে শিক্ষাব্যবস্থাকে মহা-অরাজকতার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়। সৃজনশীলতার নামে যা ইচ্ছে তাই পরীক্ষার খাতায় লেখার সুযোগ তৈরি হয়, যেখানে উত্তর সঠিক হোক বা না হোক, পরীক্ষক তাতেই নম্বর দেবেন বলে আশা করা হয়।