মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০২:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

মঙ্গলের রোভার যাচ্ছে চন্দ্রাভিযানে: নতুন ‘প্রমিস’ প্রজেক্ট উন্মোচন করল নাসা

লালগ্রহ মঙ্গলে সফল মিশন পরিচালনার লক্ষ্যে পৃথিবীতে ‘কিউরিওসিটি’ ও ‘পার্সিভ্যারেন্স’ রোভারের দুটি পূর্ণাঙ্গ রেপ্লিকা বা টেস্ট মডেল তৈরি করেছিল নাসা। এতকাল পৃথিবীতেই কারিগরি পরীক্ষার কাজে ব্যবহৃত এই মডেল দুটির সংমিশ্রণে ‘প্রমিস’ (PROMISE) নামের একটি হাইব্রিড রোভার বানিয়ে চাঁদে পাঠানোর প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তাব ঘোষণা করা হয়েছে। পূর্বে ‘অপটিমিজম’ নামে পরিচিত পার্সিভ্যারেন্সের এই ইঞ্জিনিয়ারিং মডেলটিতে দুটি রোভারেরই বেশ কিছু অনন্য ফিচার যুক্ত করা হচ্ছে। নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান জানান, মঙ্গলের রোভার পরিচালনায় অর্জিত দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও সরকারি অর্থে তৈরি মূল্যবান হার্ডওয়্যার সরাসরি চন্দ্রাভিযানে ব্যবহারের মাধ্যমে দ্রুত অনুসন্ধানের নতুন পথ খুলবে।

ভবিষ্যতে স্থায়ী চন্দ্রঘাঁটি গড়ার সম্ভাব্য উপযুক্ত স্থান হিসেবে চাঁদের দক্ষিণ মেরুকে চিহ্নিত করেছে নাসা। এই দক্ষিণ মেরুর চরম শীতল ও স্থায়ীভাবে ছায়াবৃত অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে বরফ-পানি রয়েছে। ‘প্রমিস’ রোভারটি মূলত এই বরফাচ্ছন্ন অঞ্চলের উপরিভাগ ও তলদেশের উপাদান পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে। চাঁদের দীর্ঘ ও চরম প্রতিকূল রাত কাটিয়ে টিকিয়ে রাখতে এই রোভারে যুক্ত করা হচ্ছে প্লুটোনিয়াম চালিত ‘মাল্টি-মিশন রেডিওআইসোটোপ থার্মোইলেকট্রিক জেনারেটর’ (MMRTG)। চন্দ্রঘাঁটি প্রকল্পের প্রোগ্রাম ম্যানেজার কার্লোস গার্সিয়া-গালান জানান, পারমাণবিক শক্তিচালিত এই প্রযুক্তির ফলে সূর্যালোক না থাকলেও রোভারটি অনায়াসে কাজ চালিয়ে যেতে পারবে।

তবে ‘প্রমিস’ রোভারের উৎক্ষেপণ বেশ কিছু কারিগরি ও অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে। পৃথিবীতে থাকা বর্তমান মডেলটিতে এখনও মহাকাশ অভিযানের উপযুক্ত বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি, যোগাযোগ ব্যবস্থা, তাপমাত্রা সেন্সর বা পারমাণবিক জেনারেটর বসানো হয়নি। পাশাপাশি চাঁদের ধারালো ক্ষতিকর ধূলিকণা সামলাতে রোভারটির আধুনিকায়ন করা জরুরি। প্ল্যানেটারি সোসাইটির হিসাব মতে, এই প্রকল্পে প্রায় ৭০ থেকে ১৩০ কোটি ডলার ব্যয় হতে পারে এবং সব প্রস্তুতি শেষে ২০৩০ সালের শুরুর আগে প্রমিস রোভারটির উৎক্ষেপণ সম্ভব নয়।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

নতজানু নয়, বাংলাদেশ সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপসহীন: শেখ হাসিনার দিল্লি সফর প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়া

মঙ্গলের রোভার যাচ্ছে চন্দ্রাভিযানে: নতুন ‘প্রমিস’ প্রজেক্ট উন্মোচন করল নাসা

আপডেট সময় : ০১:৩৯:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

লালগ্রহ মঙ্গলে সফল মিশন পরিচালনার লক্ষ্যে পৃথিবীতে ‘কিউরিওসিটি’ ও ‘পার্সিভ্যারেন্স’ রোভারের দুটি পূর্ণাঙ্গ রেপ্লিকা বা টেস্ট মডেল তৈরি করেছিল নাসা। এতকাল পৃথিবীতেই কারিগরি পরীক্ষার কাজে ব্যবহৃত এই মডেল দুটির সংমিশ্রণে ‘প্রমিস’ (PROMISE) নামের একটি হাইব্রিড রোভার বানিয়ে চাঁদে পাঠানোর প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তাব ঘোষণা করা হয়েছে। পূর্বে ‘অপটিমিজম’ নামে পরিচিত পার্সিভ্যারেন্সের এই ইঞ্জিনিয়ারিং মডেলটিতে দুটি রোভারেরই বেশ কিছু অনন্য ফিচার যুক্ত করা হচ্ছে। নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান জানান, মঙ্গলের রোভার পরিচালনায় অর্জিত দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও সরকারি অর্থে তৈরি মূল্যবান হার্ডওয়্যার সরাসরি চন্দ্রাভিযানে ব্যবহারের মাধ্যমে দ্রুত অনুসন্ধানের নতুন পথ খুলবে।

ভবিষ্যতে স্থায়ী চন্দ্রঘাঁটি গড়ার সম্ভাব্য উপযুক্ত স্থান হিসেবে চাঁদের দক্ষিণ মেরুকে চিহ্নিত করেছে নাসা। এই দক্ষিণ মেরুর চরম শীতল ও স্থায়ীভাবে ছায়াবৃত অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে বরফ-পানি রয়েছে। ‘প্রমিস’ রোভারটি মূলত এই বরফাচ্ছন্ন অঞ্চলের উপরিভাগ ও তলদেশের উপাদান পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে। চাঁদের দীর্ঘ ও চরম প্রতিকূল রাত কাটিয়ে টিকিয়ে রাখতে এই রোভারে যুক্ত করা হচ্ছে প্লুটোনিয়াম চালিত ‘মাল্টি-মিশন রেডিওআইসোটোপ থার্মোইলেকট্রিক জেনারেটর’ (MMRTG)। চন্দ্রঘাঁটি প্রকল্পের প্রোগ্রাম ম্যানেজার কার্লোস গার্সিয়া-গালান জানান, পারমাণবিক শক্তিচালিত এই প্রযুক্তির ফলে সূর্যালোক না থাকলেও রোভারটি অনায়াসে কাজ চালিয়ে যেতে পারবে।

তবে ‘প্রমিস’ রোভারের উৎক্ষেপণ বেশ কিছু কারিগরি ও অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে। পৃথিবীতে থাকা বর্তমান মডেলটিতে এখনও মহাকাশ অভিযানের উপযুক্ত বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি, যোগাযোগ ব্যবস্থা, তাপমাত্রা সেন্সর বা পারমাণবিক জেনারেটর বসানো হয়নি। পাশাপাশি চাঁদের ধারালো ক্ষতিকর ধূলিকণা সামলাতে রোভারটির আধুনিকায়ন করা জরুরি। প্ল্যানেটারি সোসাইটির হিসাব মতে, এই প্রকল্পে প্রায় ৭০ থেকে ১৩০ কোটি ডলার ব্যয় হতে পারে এবং সব প্রস্তুতি শেষে ২০৩০ সালের শুরুর আগে প্রমিস রোভারটির উৎক্ষেপণ সম্ভব নয়।