মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৮:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬

প্রযুক্তিনির্ভর সবুজ অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বাংলার উর্বর ভূমি কৃষিনির্ভর সমৃদ্ধ অর্থনীতি এবং মানুষ-প্রকৃতির গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল। তবে অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের ফলে এই ধারাবাহিকতা ভেঙে পড়ে এবং প্রায় দুই শতাব্দী অর্থনৈতিক স্থবিরতা বিরাজ করে। ১৯৪৭ সালের বিভাজনের পর পুনরুদ্ধারের সূচনা হলেও প্রকৃত অগ্রগতি ঘটে স্বাধীনতার পর। ১৯৭১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে।

তবে ২০২৬ সালে এসে দেশটি নতুন এক সংকটময় সন্ধিক্ষণে অবস্থান করছে, যেখানে প্রযুক্তিগত বিপ্লব ও পরিবেশগত পরিবর্তন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে সামনে এসেছে। এ পরিস্থিতিতে টেকসই সবুজ অর্থনীতি গড়ে তুলতে শিক্ষা ও অর্থনৈতিক কাঠামোকে প্রযুক্তিনির্ভর মানবসম্পদ উন্নয়নের দিকে কৌশলগতভাবে রূপান্তর করা এখন অত্যন্ত জরুরি।

১৯৭১ সালের স্বাধীনতার সময়ে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছিল প্রায় ১০০ ডলার, যেখানে ভারত (১২১ ডলার), থাইল্যান্ড (২১৩ ডলার), মালয়েশিয়া (৪০৭ ডলার) এবং সিঙ্গাপুর (১,১০০ ডলার) এগিয়ে ছিল। ধারাবাহিক উন্নয়ন নীতির ফলে বাংলাদেশ এ ব্যবধান কমাতে সক্ষম হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের মতে, ২০২৫–২৬ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় প্রায় ৩,০০০ ডলারে পৌঁছাবে, যেখানে মালয়েশিয়ায় ১৫,০০০ এবং সিঙ্গাপুরে ৯৬,০০০ ডলার হতে পারে।

অতীতে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার প্রধান সম্পদ ছিল অদক্ষ শ্রমশক্তি, কিন্তু তারা অত্যন্ত সফলভাবে সেই অদক্ষ জনশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করে অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে। তাদের তুলনায় বাংলাদেশ এখনো কাঠামোগত ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার মানদণ্ডে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশ তার নিজস্ব অর্থনীতি ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সিঙ্গাপুর এবং মালয়েশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতির রূপান্তরমূলক মডেলগুলোকে আদর্শ মানদণ্ড বা ‘বেঞ্চমার্ক মডেল’ হিসেবে গ্রহণ করতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন, উচ্চ-মূল্য সংযোজন রপ্তানি এবং দক্ষ মানবপুঁজি গঠন, যা ২০৩৫ সালের মধ্যে ১.০ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি অর্জনে সহায়ক হবে। বাংলাদেশ এখন ১.০ ট্রিলিয়ন ডলারের একটি স্বনির্ভর ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর সবুজ নগর গঠনের আহ্বানে কামরাঙ্গীরচরে ১০ হাজার বৃক্ষরোপণ

প্রযুক্তিনির্ভর সবুজ অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ

আপডেট সময় : ০৭:১৯:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বাংলার উর্বর ভূমি কৃষিনির্ভর সমৃদ্ধ অর্থনীতি এবং মানুষ-প্রকৃতির গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল। তবে অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের ফলে এই ধারাবাহিকতা ভেঙে পড়ে এবং প্রায় দুই শতাব্দী অর্থনৈতিক স্থবিরতা বিরাজ করে। ১৯৪৭ সালের বিভাজনের পর পুনরুদ্ধারের সূচনা হলেও প্রকৃত অগ্রগতি ঘটে স্বাধীনতার পর। ১৯৭১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে।

তবে ২০২৬ সালে এসে দেশটি নতুন এক সংকটময় সন্ধিক্ষণে অবস্থান করছে, যেখানে প্রযুক্তিগত বিপ্লব ও পরিবেশগত পরিবর্তন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে সামনে এসেছে। এ পরিস্থিতিতে টেকসই সবুজ অর্থনীতি গড়ে তুলতে শিক্ষা ও অর্থনৈতিক কাঠামোকে প্রযুক্তিনির্ভর মানবসম্পদ উন্নয়নের দিকে কৌশলগতভাবে রূপান্তর করা এখন অত্যন্ত জরুরি।

১৯৭১ সালের স্বাধীনতার সময়ে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছিল প্রায় ১০০ ডলার, যেখানে ভারত (১২১ ডলার), থাইল্যান্ড (২১৩ ডলার), মালয়েশিয়া (৪০৭ ডলার) এবং সিঙ্গাপুর (১,১০০ ডলার) এগিয়ে ছিল। ধারাবাহিক উন্নয়ন নীতির ফলে বাংলাদেশ এ ব্যবধান কমাতে সক্ষম হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের মতে, ২০২৫–২৬ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় প্রায় ৩,০০০ ডলারে পৌঁছাবে, যেখানে মালয়েশিয়ায় ১৫,০০০ এবং সিঙ্গাপুরে ৯৬,০০০ ডলার হতে পারে।

অতীতে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার প্রধান সম্পদ ছিল অদক্ষ শ্রমশক্তি, কিন্তু তারা অত্যন্ত সফলভাবে সেই অদক্ষ জনশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করে অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে। তাদের তুলনায় বাংলাদেশ এখনো কাঠামোগত ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার মানদণ্ডে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশ তার নিজস্ব অর্থনীতি ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সিঙ্গাপুর এবং মালয়েশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতির রূপান্তরমূলক মডেলগুলোকে আদর্শ মানদণ্ড বা ‘বেঞ্চমার্ক মডেল’ হিসেবে গ্রহণ করতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন, উচ্চ-মূল্য সংযোজন রপ্তানি এবং দক্ষ মানবপুঁজি গঠন, যা ২০৩৫ সালের মধ্যে ১.০ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি অর্জনে সহায়ক হবে। বাংলাদেশ এখন ১.০ ট্রিলিয়ন ডলারের একটি স্বনির্ভর ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।