জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণে প্রতিষ্ঠিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। রোববার দুপুরে তিনি দলীয় সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে নিয়ে জাদুঘরটি পরিদর্শন করেন।
জাদুঘর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ফ্যাসিবাদের দুঃসহ স্মৃতিগুলো আমাদের সামনে ভাস্বর হয়ে উঠেছে। কীভাবে মানুষের ওপর জুলুম-নির্যাতন ও পাশবিকতা পরিচালনা করা হতো, কীভাবে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ বাংলাদেশের এই জনপদ থেকে মায়ের কোল খালি করে সন্তানকে তুলে নিয়ে হত্যা করা হতো এবং হত্যার পর সেই লাশের সঙ্গেও কী বর্বর আচরণ করা হতো—তার একটি ভয়াল চিত্র এখানে তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা মনে করি, এই জাদুঘর বাংলাদেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য, বিশেষ করে রাষ্ট্রের শাসকদের জন্য একটি শিক্ষণীয় পাঠশালা। বিগত শেখ হাসিনার শাসনামলের যে ভয়াবহ পৈশাচিকতা ও নির্মমতার নিদর্শন এখানে রয়েছে, তা যেকোনো বিবেকবান মানুষের হৃদয়কে ব্যথাতুর করবে।
জাদুঘরের সংরক্ষণ ও নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, এখানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম ও স্মৃতিচিহ্ন অত্যন্ত মামুলিভাবে প্রদর্শিত হচ্ছে এবং অনেক মূল্যবান জিনিস মানুষের হাতের নাগালে রয়েছে। এগুলো প্রদর্শনের পাশাপাশি সংরক্ষণের প্রতিও গুরুত্ব দিতে হবে।
মাওলানা মামুনুল হক অভিযোগ করেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস যথাযথভাবে সংরক্ষিত হয়নি। তিনি বলেন, ইতিহাসকে তার নিজস্ব গতিতে প্রবাহিত হতে দেওয়া দরকার। কোনো পক্ষের মুখের দিকে তাকিয়ে নয়, বরং সত্য ও বাস্তবতার ভিত্তিতে সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ করা উচিত।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ২০১৩ সালে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর সারাদেশে যে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল, তার পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস এখানে সংরক্ষিত হয়নি। একইভাবে ২০১৫-১৬ সালে বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাড়ির সামনে বালুর ট্রাক দিয়ে অবরুদ্ধ করার পর সারাদেশে যে আন্দোলন হয়েছিল, সেটিও যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি। এছাড়া, বিগত শেখ হাসিনার শাসনামলের বড় আন্দোলনগুলোর একটি ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলনেরও উল্লেখযোগ্য কোনো স্মৃতি এখানে অনুপস্থিত।
রিপোর্টারের নাম 























