ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ফুটবল মহলের সাম্প্রতিক বিরোধিতাকে ‘আধিপত্য হারানোর ভয়’ হিসেবে দেখছেন তার উপদেষ্টা হিশাম খারজা। তার দাবি, বিশ্ব ফুটবলে অন্যান্য মহাদেশগুলোর ক্রমবর্ধমান উন্নতি ও এগিয়ে যাওয়ার প্রভাবই ইউরোপীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার উদ্বেগের মূল কারণ।
জানা গেছে, বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছিলেন ইনফান্তিনো। তবে তার সেই পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করে উয়েফা। এমনকি ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকিও দিয়েছিল। পরবর্তীতে একাধিক ফুটবল সংস্থার আপত্তির মুখে সে পরিকল্পনা থেকে সরে আসেন ফিফা সভাপতি। এরপরও ইনফান্তিনোকে ক্ষমতা থেকে সরানোর চেষ্টা চালানোর অভিযোগ ওঠে উয়েফার বিরুদ্ধে।
এই বিরোধের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ফিফা সভাপতির উপদেষ্টা এবং সংস্থাটির মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের পরিচালক হিশাম খারজা ইউরোপের মানসিকতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছেন। মরক্কো আন্তর্জাতিক দলের সাবেক এই ফুটবলারের মতে, ইউরোপ নিজেদের একক আধিপত্য হারানোর ভয়ে এবং অন্য মহাদেশের দেশগুলোর ফুটবল কাঠামো শক্তিশালী হতে দেখে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। খারজা বলেন, ‘আসল সমস্যা হলো ইউরোপ মনে করছে তারা হুমকির মুখে আছে। তারা অন্য মহাদেশের ফুটবলে অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছে।’
নিজের দেশের উদাহরণ টেনে তিনি আরও বলেন, ইউরোপে জন্ম নেওয়া ও প্রশিক্ষণ পাওয়া দ্বৈত নাগরিকত্বের অনেক তরুণ এখন মরক্কোর হয়ে খেলতে চাইছে। তাদের শিকড়ের দেশের প্রতিনিধিত্ব করার এই প্রবণতাই ইউরোপকে উদ্বিগ্ন করছে বলে মনে করেন তিনি। খারজার ভাষায়, ‘এটাই ইউরোপকে বিচলিত করছে। তারা স্বার্থপরের মতো কেবল নিজেদের স্বার্থের দিকে তাকাচ্ছে।’
ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে যারা সবচেয়ে বেশি সরব, তাদের নিয়েও সরাসরি মন্তব্য করেছেন ফিফার এই উপদেষ্টা। তার দাবি, আক্রমণকারীদের সবাই ইউরোপের এবং সামনে আসা প্রতিযোগিতায় নিজেদের প্রভাব কমে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই তারা এমন অবস্থান নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘তারা তাদের আধিপত্য হারানোর ভয় পাচ্ছে এবং ফুটবলের একক আধিপত্য ধরে রাখতে চায়। কিন্তু ফুটবল তো সবার।’ খারজার এই মন্তব্যে ফিফা ও উয়েফার চলমান দ্বন্দ্ব নতুন মাত্রা পেল। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রণ, বাণিজ্যিক স্বার্থ এবং বিভিন্ন মহাদেশের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে ঘিরে দুই পক্ষের মতপার্থক্য এখন আরও প্রকাশ্য হয়ে উঠছে।
রিপোর্টারের নাম 

























