মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৫:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬

খেলাপি ঋণ আদায়ে বিদেশে সম্পদ অনুসন্ধানে আট আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সক্রিয়তা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের আমলে খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যে দুই শতাধিক কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে এমন ৪২টি প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে বিদেশে তাদের সম্পদ অনুসন্ধানের কাজ শুরু হয়েছে। আটটি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান এই অনুসন্ধানে নিয়োজিত আছে, যার উদ্দেশ্য হলো এসব সম্পদ শনাক্ত করার পাশাপাশি আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা জব্দ করে দেশে ফিরিয়ে আনা।

সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের বিদেশে থাকা সম্পদের অবস্থান, ধরন এবং পরিমাণ শনাক্ত করছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এসব সম্পদ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

এই কার্যক্রমে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে গ্রান্ট থর্নটন, আরআই কনসোর্টিয়াম, বেকার ম্যাকেঞ্জি অ্যান্ড পিডব্লিউসি, ডিএলএ পাইপার অ্যান্ড ক্রল, ইওয়াই অ্যান্ড ডেন্টনস, রহমান রাভেল্লি অ্যান্ড ইন্টারপাথ, বিসিজি অ্যান্ড এইচএইচআর এবং অ্যানিমাস অ্যাসোসিয়েটস। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো অগ্রিম ফি বা খরচ নেবে না; বরং বিদেশে থাকা সম্পদ শনাক্ত ও উদ্ধার করতে পারলে উদ্ধারকৃত অর্থের একটি নির্দিষ্ট অংশ পারিশ্রমিক হিসেবে পাবে, যা ‘নো উইন, নো পে’ নীতিতে পরিচালিত হবে।

প্রাথমিকভাবে যেসব দেশে অর্থ পাচার বা সম্পদ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা, সিঙ্গাপুর, বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড, হংকং, চীন, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়া অন্যতম। বিদেশি আইনি প্রতিষ্ঠানগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে বিদেশে থাকা সম্পদের অবস্থান, প্রকৃতি ও পরিমাণ শনাক্ত করবে এবং এরপর সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো সম্পদ শনাক্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জব্দ বা অ্যাটাচ করা সম্ভব হলে, পরবর্তীতে তা বিক্রি বা নিষ্পত্তির মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পাওনা পরিশোধে ব্যবহার করা হবে।

এর পূর্বে, শেখ হাসিনার পরিবার ও ১০টি শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পাচার করা অর্থ পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে এই কার্যক্রমে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), কাস্টমসের সংশ্লিষ্ট ইউনিট এবং আয়কর বিভাগের সংশ্লিষ্ট ইউনিট কাজ করছে। পাশাপাশি, খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোও বিদেশি আইনি প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নিচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে ইরানকে আশ্বস্ত করল তুরস্ক, তেহরানের উদ্বেগ নিরসনের চেষ্টা

খেলাপি ঋণ আদায়ে বিদেশে সম্পদ অনুসন্ধানে আট আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সক্রিয়তা

আপডেট সময় : ০৩:৫৫:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের আমলে খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যে দুই শতাধিক কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে এমন ৪২টি প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে বিদেশে তাদের সম্পদ অনুসন্ধানের কাজ শুরু হয়েছে। আটটি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান এই অনুসন্ধানে নিয়োজিত আছে, যার উদ্দেশ্য হলো এসব সম্পদ শনাক্ত করার পাশাপাশি আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা জব্দ করে দেশে ফিরিয়ে আনা।

সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের বিদেশে থাকা সম্পদের অবস্থান, ধরন এবং পরিমাণ শনাক্ত করছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এসব সম্পদ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

এই কার্যক্রমে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে গ্রান্ট থর্নটন, আরআই কনসোর্টিয়াম, বেকার ম্যাকেঞ্জি অ্যান্ড পিডব্লিউসি, ডিএলএ পাইপার অ্যান্ড ক্রল, ইওয়াই অ্যান্ড ডেন্টনস, রহমান রাভেল্লি অ্যান্ড ইন্টারপাথ, বিসিজি অ্যান্ড এইচএইচআর এবং অ্যানিমাস অ্যাসোসিয়েটস। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো অগ্রিম ফি বা খরচ নেবে না; বরং বিদেশে থাকা সম্পদ শনাক্ত ও উদ্ধার করতে পারলে উদ্ধারকৃত অর্থের একটি নির্দিষ্ট অংশ পারিশ্রমিক হিসেবে পাবে, যা ‘নো উইন, নো পে’ নীতিতে পরিচালিত হবে।

প্রাথমিকভাবে যেসব দেশে অর্থ পাচার বা সম্পদ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা, সিঙ্গাপুর, বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড, হংকং, চীন, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়া অন্যতম। বিদেশি আইনি প্রতিষ্ঠানগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে বিদেশে থাকা সম্পদের অবস্থান, প্রকৃতি ও পরিমাণ শনাক্ত করবে এবং এরপর সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো সম্পদ শনাক্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জব্দ বা অ্যাটাচ করা সম্ভব হলে, পরবর্তীতে তা বিক্রি বা নিষ্পত্তির মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পাওনা পরিশোধে ব্যবহার করা হবে।

এর পূর্বে, শেখ হাসিনার পরিবার ও ১০টি শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পাচার করা অর্থ পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে এই কার্যক্রমে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), কাস্টমসের সংশ্লিষ্ট ইউনিট এবং আয়কর বিভাগের সংশ্লিষ্ট ইউনিট কাজ করছে। পাশাপাশি, খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোও বিদেশি আইনি প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নিচ্ছে।