মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০২:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬

হাবিপ্রবিতে পুরোনো ছাত্ররাজনীতির সংস্কৃতি ফিরে আসার আশঙ্কা: হল গ্রুপে বিতর্কিত নির্দেশনা

চব্বিশের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও (হাবিপ্রবি) গণরুম, গেস্টরুম বা ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক উপস্থিতির মতো সংস্কৃতি অনেকটাই বিলুপ্ত হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ছিল, নতুন বাস্তবতায় ক্যাম্পাসে আর জবরদস্তিমূলক ছাত্ররাজনীতি ফিরে আসবে না।

তবে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় চব্বিশ হল ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হলের ম্যাসেঞ্জার গ্রুপের দুটি স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ছাত্রদলের হাত ধরে পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি ফিরে আসার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে শিক্ষার্থীদের একাংশের মধ্যে।

ভাইরাল হওয়া একটি স্ক্রিনশটে দেখা যায়, এক শিক্ষার্থী হলের ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে লিখেছেন, ‘আগামীকাল শুক্রবার রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে ছাত্রদল, হাবিপ্রবির নতুন কমিটিকে আমাদের হলের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে। ২৪ ব্যাচের প্রত্যেককে রাত ৮টা ৪৫ মিনিটের আগেই হলের টিভি রুমে উপস্থিত থাকতে হবে।’ স্ক্রিনশটে আরও উল্লেখ রয়েছে, নির্দেশনাটি দিয়েছেন বিজয় চব্বিশ হলের ২০২০ ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী। সেখানে বলা হয়, হলে অবস্থান করেও কেউ অনুষ্ঠানে অংশ না নিলে সেটি তার ব্যক্তিগত দায় হিসেবে বিবেচিত হবে।

অপর স্ক্রিনশটটিতে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি ও যন্ত্রপ্রকৌশল বিভাগের ২৪ ব্যাচের এক শিক্ষার্থী লিখেছেন, ‘সবাই হলের নিচে আয়। তাজমুল ভাই আসতে বলছে। না আসলে রাতে মিটিং দেবে বলছে।’ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্ক্রিনশটে উল্লেখ থাকা তাজমুল বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ২২ ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং সম্প্রতি ঘোষিত বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি এহেসানুল কবির অর্ণবের অনুসারী।

একাধিক সূত্র জানায়, গত ৭ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণার পর সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারের অংশ হিসেবে গত ৯ জুলাই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হলে যান সভাপতি অর্ণব। পরে বিজয় চব্বিশ হলেও যাওয়ার কথা ছিল। শিক্ষার্থীদের দাবি, তার আগমনকে কেন্দ্র করেই ওই নির্দেশনাগুলো দেওয়া হয়েছিল। কমিটি ঘোষণার কয়েক দিনের মধ্যেই হল গ্রুপে এমন বার্তা ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। তাদের ভাষ্য, যে কেউ নিজ ইচ্ছায় যে কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন। তবে কাউকে কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাধ্য করা বা অন্যথায় ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়া হলে তা ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিটি শিক্ষার্থীর একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

হাবিপ্রবিতে পুরোনো ছাত্ররাজনীতির সংস্কৃতি ফিরে আসার আশঙ্কা: হল গ্রুপে বিতর্কিত নির্দেশনা

আপডেট সময় : ১২:৩৯:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

চব্বিশের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও (হাবিপ্রবি) গণরুম, গেস্টরুম বা ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক উপস্থিতির মতো সংস্কৃতি অনেকটাই বিলুপ্ত হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ছিল, নতুন বাস্তবতায় ক্যাম্পাসে আর জবরদস্তিমূলক ছাত্ররাজনীতি ফিরে আসবে না।

তবে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় চব্বিশ হল ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হলের ম্যাসেঞ্জার গ্রুপের দুটি স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ছাত্রদলের হাত ধরে পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি ফিরে আসার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে শিক্ষার্থীদের একাংশের মধ্যে।

ভাইরাল হওয়া একটি স্ক্রিনশটে দেখা যায়, এক শিক্ষার্থী হলের ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে লিখেছেন, ‘আগামীকাল শুক্রবার রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে ছাত্রদল, হাবিপ্রবির নতুন কমিটিকে আমাদের হলের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে। ২৪ ব্যাচের প্রত্যেককে রাত ৮টা ৪৫ মিনিটের আগেই হলের টিভি রুমে উপস্থিত থাকতে হবে।’ স্ক্রিনশটে আরও উল্লেখ রয়েছে, নির্দেশনাটি দিয়েছেন বিজয় চব্বিশ হলের ২০২০ ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী। সেখানে বলা হয়, হলে অবস্থান করেও কেউ অনুষ্ঠানে অংশ না নিলে সেটি তার ব্যক্তিগত দায় হিসেবে বিবেচিত হবে।

অপর স্ক্রিনশটটিতে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি ও যন্ত্রপ্রকৌশল বিভাগের ২৪ ব্যাচের এক শিক্ষার্থী লিখেছেন, ‘সবাই হলের নিচে আয়। তাজমুল ভাই আসতে বলছে। না আসলে রাতে মিটিং দেবে বলছে।’ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্ক্রিনশটে উল্লেখ থাকা তাজমুল বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ২২ ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং সম্প্রতি ঘোষিত বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি এহেসানুল কবির অর্ণবের অনুসারী।

একাধিক সূত্র জানায়, গত ৭ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণার পর সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারের অংশ হিসেবে গত ৯ জুলাই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হলে যান সভাপতি অর্ণব। পরে বিজয় চব্বিশ হলেও যাওয়ার কথা ছিল। শিক্ষার্থীদের দাবি, তার আগমনকে কেন্দ্র করেই ওই নির্দেশনাগুলো দেওয়া হয়েছিল। কমিটি ঘোষণার কয়েক দিনের মধ্যেই হল গ্রুপে এমন বার্তা ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। তাদের ভাষ্য, যে কেউ নিজ ইচ্ছায় যে কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন। তবে কাউকে কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাধ্য করা বা অন্যথায় ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়া হলে তা ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।