শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) ‘জুলাই বিপ্লবের’ পর ছাত্ররাজনীতির এক নতুন দৃশ্যপট তৈরি হয়েছে। বর্তমানে ক্যাম্পাসে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্র ইউনিয়ন, জাতীয় ছাত্রশক্তি সহ একাধিক ছাত্রসংগঠনের সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। তবে এই বহুমতের পরিবেশ সহাবস্থানের চেয়ে আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে বেশি পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ছাত্রদলের অভিযোগ, একসময় যারা সাধারণ শিক্ষার্থী সেজে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করার পক্ষে ছিল, তাদের একটি অংশ এখন ‘ছাত্রশক্তি’ নামে সক্রিয়। অন্যদিকে, ছাত্রশক্তির অভিযোগ, ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সমান সুযোগ নেই। ছাত্র ইউনিয়নের মতে, ছাত্রদল তুলনামূলকভাবে সহনশীল হলেও ছাত্রশক্তির একটি অংশ উগ্র আচরণ করছে। তাদের আরও অভিযোগ, ছাত্রশিবিরকে ব্যবহার করে ছাত্র ইউনিয়ন কিছু লিখলে আক্রমণ করে। ছাত্রশিবির অবশ্য ছাত্র ইউনিয়নের এই অভিযোগকে ‘ঈর্ষান্বিত অপপ্রচার’ বলে দাবি করেছে এবং ছাত্রদলকে অভিযুক্ত করে বলেছে যে তাদের প্রত্যক্ষ মদতে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণার পর ছাত্রশিবিরের আংশিক কমিটিও প্রকাশ্যে এসেছে। ছাত্র ইউনিয়ন সংগঠকদের মাধ্যমে দলের কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং চলতি মাসে জাতীয় ছাত্রশক্তিও তাদের আংশিক কমিটি ঘোষণা করেছে। এছাড়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কমিটি থাকলেও তাদের কোনো কার্যক্রম দৃশ্যমান নয়।
স্বৈরাচার পতনের পর ছাত্র সংগঠনগুলোর হলকেন্দ্রিক রাজনীতি আগের মতো নেই। হলের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী মেধা, অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা সহ কয়েকটি ক্যাটাগরিতে শিক্ষার্থীদের সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়, যা ছাত্র সংগঠনগুলোকে হল সিটকেন্দ্রিক বাণিজ্যের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেছে। তবে গত বছরের ১২ অক্টোবর নবীন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শাহপরাণ হলের কয়েকটি সিট ছাত্রদলের নেতাকর্মীদেরও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। সেই সময় হলে বরাদ্দকৃত সিটের তালিকা প্রকাশের দাবি জানানো হলেও প্রশাসন তা করেনি। গণমাধ্যমে হল প্রাধ্যক্ষ্য জানিয়েছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আদেশে সিট বণ্টন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ-মিছিলের ধরনেও পরিবর্তন এসেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা দেশ ও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে সোচ্চার ছিলেন। কিন্তু নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই প্রতিবাদমুখর শিক্ষার্থীদের অংশটি অনেকটাই নীরব হয়ে গেছে।
রিপোর্টারের নাম 



















