মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০১:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬

ডিজিএফআইয়ের ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শন করলেন ট্রাইব্যুনালের বিচারকরা: উঠে এলো লোমহর্ষক নির্যাতনের চিত্র

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম ও অমানবিক নির্যাতনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত ঢাকা সেনানিবাসের ভেতরে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) কুখ্যাত বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তিন বিচারক। শনিবার দুপুরে বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তারা এই জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল (জেআইসি) সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শনকারী দলে ছিলেন ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার, সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। তাদের সঙ্গে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামসহ প্রসিকিউশন টিমের অন্যান্য সদস্য ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিগত আমলের এসব মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হয়েছে।

প্রসিকিউশন সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, এই বন্দিশালায় মোট ২৬টি অত্যন্ত সংকীর্ণ ও নির্জন কক্ষ ছিল। অন্ধকারাচ্ছন্ন ও আদিম প্রকৃতির এই কক্ষগুলোতে বিগত সরকারের রোষানলে পড়া দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও বিরোধী মতাদর্শের মানুষদের বছরের পর বছর আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন চালানো হতো। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আজমী, লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিনুর রহমান এবং হুমাম কাদের চৌধুরীর মতো ব্যক্তিদের এখানে দীর্ঘ সময় বন্দি রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ভয়াবহ তথ্য পাওয়া গেছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকা সেনানিবাসের কাফরুল এলাকায় অবস্থিত এই বন্দিশালাটি একটি পুরোনো দোতলা ভবনের নিচতলায় অত্যন্ত গোপনে পরিচালিত হতো। এখানে ১৬ ফুট বাই ৬ ফুট এবং ১২ ফুট বাই ৮ ফুট আকারের বিভিন্ন সেল ছিল, যেখানে কোনো জানালা বা আলো-বাতাস চলাচলের স্বাভাবিক ব্যবস্থা ছিল না। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছিল বিশেষ সাউন্ডপ্রুফ কক্ষ। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সামরিক বাহিনীর তৎকালীন কিছু বিপথগামী সদস্যের মাধ্যমে এসব অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় এসব কক্ষের অস্তিত্ব জনসমক্ষে আসার পর এখন নিয়মিত আইনি প্রক্রিয়ায় এর বিচার কাজ এগিয়ে চলছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর থেকে ভাস্কর্য অপসারণের দাবি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের

ডিজিএফআইয়ের ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শন করলেন ট্রাইব্যুনালের বিচারকরা: উঠে এলো লোমহর্ষক নির্যাতনের চিত্র

আপডেট সময় : ১১:৫২:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম ও অমানবিক নির্যাতনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত ঢাকা সেনানিবাসের ভেতরে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) কুখ্যাত বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তিন বিচারক। শনিবার দুপুরে বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তারা এই জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল (জেআইসি) সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শনকারী দলে ছিলেন ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার, সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। তাদের সঙ্গে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামসহ প্রসিকিউশন টিমের অন্যান্য সদস্য ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিগত আমলের এসব মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হয়েছে।

প্রসিকিউশন সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, এই বন্দিশালায় মোট ২৬টি অত্যন্ত সংকীর্ণ ও নির্জন কক্ষ ছিল। অন্ধকারাচ্ছন্ন ও আদিম প্রকৃতির এই কক্ষগুলোতে বিগত সরকারের রোষানলে পড়া দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও বিরোধী মতাদর্শের মানুষদের বছরের পর বছর আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন চালানো হতো। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আজমী, লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিনুর রহমান এবং হুমাম কাদের চৌধুরীর মতো ব্যক্তিদের এখানে দীর্ঘ সময় বন্দি রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ভয়াবহ তথ্য পাওয়া গেছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকা সেনানিবাসের কাফরুল এলাকায় অবস্থিত এই বন্দিশালাটি একটি পুরোনো দোতলা ভবনের নিচতলায় অত্যন্ত গোপনে পরিচালিত হতো। এখানে ১৬ ফুট বাই ৬ ফুট এবং ১২ ফুট বাই ৮ ফুট আকারের বিভিন্ন সেল ছিল, যেখানে কোনো জানালা বা আলো-বাতাস চলাচলের স্বাভাবিক ব্যবস্থা ছিল না। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছিল বিশেষ সাউন্ডপ্রুফ কক্ষ। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সামরিক বাহিনীর তৎকালীন কিছু বিপথগামী সদস্যের মাধ্যমে এসব অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় এসব কক্ষের অস্তিত্ব জনসমক্ষে আসার পর এখন নিয়মিত আইনি প্রক্রিয়ায় এর বিচার কাজ এগিয়ে চলছে।