নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীদের আটকে রেখে জোরপূর্বক পর্নো ভিডিও তৈরিতে বাধ্য করার অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে চৌমুহনী পৌরসভার রাবেয়া হাসপাতালের পাশের একটি আবাসিক ভবনে অভিযান চালিয়ে স্বামী-স্ত্রী ও তাদের দুই ছেলেসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় ওই ভবন থেকে পাচারের উদ্দেশ্যে আটকে রাখা চার তরুণীকে উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—মো. সালাউদ্দিন বিপ্লব, তার স্ত্রী পারভিন আক্তার, দুই ছেলে ফাহাদ হাসান ও আরাফাত ইয়াসিন ফাহিম এবং সহযোগী আব্দুর রহিম। তাদের স্থায়ী বাড়ি কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলায় হলেও তারা দীর্ঘদিন ধরে নোয়াখালীতে ভাড়া বাসায় অবস্থান করে এই অপরাধমূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। শুক্রবার বিকেলে আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া এক তরুণী কৌশলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে সাহায্য চাইলে তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে ঘটনাস্থল থেকে ভিডিও ধারণের আধুনিক ক্যামেরা, ৬টি মোবাইল ফোন, চাবুক, ছুরি, কাঁচি এবং নগদ ১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা জব্দ করে পুলিশ। বর্তমানে ২০২৬ সালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত সরকারের অধীনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ ধরনের সামাজিক অপরাধ ও নারী নির্যাতন দমনে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।
ভুক্তভোগী এক তরুণীর দায়ের করা মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিউটি পার্লারে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে গত ২ আগস্ট তাকে ওই বাসায় আনা হয়। সেখানে আটকে রেখে তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে জোরপূর্বক পর্নো ভিডিও ধারণ করা হয়। এসব ভিডিও একটি বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইনে প্রচার করে বিপুল অর্থ উপার্জন করত চক্রটি।
বেগমগঞ্জ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাবীবুর রহমান জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মানব পাচার ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া তরুণীরা বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে নিরাপদ রয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত অন্য কারো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 





















