ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের আওয়ামী অপশাসনের অবসান ঘটেছিল ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। সেই গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১৪০০ শহীদের আত্মত্যাগ এবং ২০ হাজার মানুষের পঙ্গুত্ব বরণের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছিল এক নতুন বাংলাদেশ। জনরোষের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর দেশে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। টানা তিন দিন রাষ্ট্র ছিল সরকারহীন, যা দেশবাসীকে চরম উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কের মধ্যে ফেলে দিয়েছিল।
এমন এক সংকটময় মুহূর্তে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে এগিয়ে আসেন শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট তিনি প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করেন। প্যারিসে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ছাত্র-জনতার আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনি দেশে ফিরে বঙ্গভবনে শপথ নেন। তার সঙ্গে আরও ১৬ জন উপদেষ্টা এবং পরবর্তীতে তিনজন ছাত্র প্রতিনিধিও সরকারে যুক্ত হন।
সাবেক এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্র সংস্কার, জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা এবং ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ১১টি সংস্কার কমিশন গঠনের মাধ্যমে তারা দীর্ঘমেয়াদী সংস্কারের ভিত্তি স্থাপন করেছিল। রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে দীর্ঘ আলোচনার পর ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ প্রণয়ন ছিল সেই সরকারের অন্যতম বড় সাফল্য। সেই ধারাবাহিকতায় আজ দেশে নির্বাচিত বিএনপি সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করছে, যার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল ২০২৪ সালের এই দিনে।
রিপোর্টারের নাম 





















