২০২৪ সালের বহুল আলোচিত জুলাই বিপ্লবকে কেন্দ্র করে ইসলামপন্থী একটি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, এই গণঅভ্যুত্থানকে সফল করার পেছনে তাদের গোষ্ঠীগতভাবে সবচেয়ে বেশি ত্যাগ, কোরবানি, রক্ত এবং জীবনের নজরানা দিতে হয়েছে। তারা যুক্তি দিয়েছেন, ইতিহাসের সাধারণ নীতি অনুযায়ী, যে ঐতিহাসিক ঘটনার পেছনে যাদের যত বেশি ত্যাগ ও শ্রম নিহিত থাকে, স্বাভাবিকভাবেই সেই ঘটনার প্রতি এবং তার অর্জিত ফলাফলের প্রতি তাদের দরদ ও দায়বদ্ধতাও অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি থাকে।
এই দাবির সপক্ষে বলা হয়েছে, চব্বিশের জুলাই বিপ্লব বা অভ্যুত্থান হুট করে একদিনে আকাশ থেকে পড়েনি; বরং এই দীর্ঘদিনের স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণ-আন্দোলনের মনস্তাত্ত্বিক ভিত্তি বা পাটাতন তৈরি হয়েছিল ২০১৩ সালের ৫ মে ঐতিহাসিক শাপলা চত্বরে। তাদের মতে, ২০১৩ সালেই বাংলাদেশে প্রথম ফ্যাসিবাদের ভয়াবহ পদধ্বনি শোনা গিয়েছিল এবং তৎকালীন সময়ে শাহবাগের ফ্যাসিবাদী বয়ান ও আধিপত্যবাদের মোকাবেলায় শাপলা চত্বরে যে ঈমানী জাগরণ ঘটেছিল, সেটাই ফ্যাসিবাদ বিরোধী এই জুলাই বিপ্লবের ভিত্তি।
লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়, ২০১৩ সালের সেই ঐতিহাসিক শাপলা চত্বরের নির্মম ট্র্যাজেডি ও রাষ্ট্রীয় জুলুমের মূল শিকার ছিলেন তারাই। শাপলার সেই ভয়াবহ গণহত্যায় যারা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন এবং রাজপথে যে পবিত্র রক্ত ঝরেছিল, তা মূলত তাদেরই আলেম সমাজ ও তাওহীদী জনতার। সেই ত্যাগের ওপর ভিত্তি করেই ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের চূড়ান্ত সৌধ নির্মিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
তারা আরও উল্লেখ করেন, কেবল ২০১৩ সালেই নয়, ২০১৩ সাল থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ‘৩৬শে জুলাই’ (৫ই আগস্ট) তথা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগ পর্যন্ত প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে, প্রতিটি আন্দোলনে ধারাবাহিকভাবে আলেম সমাজ ও ইসলামপন্থীদের পক্ষ থেকে অকাতরে ত্যাগ, কোরবানি এবং রক্তের নজরানা পেশ করা হয়েছে। প্রবন্ধে ২০২১ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফর বিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষিতে তাদের ওপর চালানো রাষ্ট্রীয় জুলুমের কথাও উল্লেখ করা হয়।
রিপোর্টারের নাম 

























