মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৪:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬

মোহনগঞ্জে ২০০ গজের মধ্যে ৪ ব্রিজ: বিগত সরকারের অপরিকল্পিত প্রকল্পে ৮ কোটি টাকার অপচয়

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত চারটি আরসিসি গার্ডার ব্রিজ এখন রাষ্ট্রের অর্থের চরম অপচয়ের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাত্র ২০০ গজের ব্যবধানে নির্মিত এই সেতুগুলোর নিচ দিয়ে পানি চলাচলের কোনো সুযোগ নেই, এমনকি বর্ষা মৌসুমেও এলাকাটি পুরোপুরি শুষ্ক থাকে। প্রায় ৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ‘শো-পিস’ ব্রিজগুলো কোনো কাজেই আসছে না স্থানীয়দের।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ‘সুপ্রব’ (SupRB) প্রকল্পের আওতায় বিশ্বব্যাংক ও তৎকালীন সরকারের অর্থায়নে এই ব্রিজগুলো নির্মাণ করা হয়। ২০২৪ সালের শুরুর দিকে কাজ শেষ হওয়া এই প্রকল্পটির প্রতিটি ব্রিজের দৈর্ঘ্য ২০ মিটার। সরেজমিনে দেখা গেছে, ব্রিজের দুই পাশে সংযোগ সড়ক থাকলেও নিচে কোনো খাল বা নালার অস্তিত্ব নেই। নির্মাণের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও ডাইভারশনের মাটি পর্যন্ত সরানো হয়নি, যা প্রমাণ করে প্রকল্পটির পরিকল্পনা ছিল সম্পূর্ণ ত্রুটিপূর্ণ।

বর্তমান এলজিইডি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই প্রকল্পগুলো বিগত সরকারের আমলে অনুমোদিত ও বাস্তবায়িত হয়েছে। ২০২৫ সালে কর্মস্থলে যোগ দেওয়া বর্তমান প্রকৌশলীদের মতে, সঠিক সমীক্ষা ছাড়াই রাজনৈতিক বিবেচনায় এসব প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিটিশ আমলের ছোট ব্রিজগুলোকে বড় করার নামে মূলত অর্থ আত্মসাতের সুযোগ তৈরি করা হয়েছিল। বর্তমানে এই স্থাপনাগুলো কোনো সুফল দিচ্ছে না, বরং জনগণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফের মদতে ভূমি দখলের অভিযোগ, রামগড়ে সেনাক্যাম্প স্থাপনের দাবি

মোহনগঞ্জে ২০০ গজের মধ্যে ৪ ব্রিজ: বিগত সরকারের অপরিকল্পিত প্রকল্পে ৮ কোটি টাকার অপচয়

আপডেট সময় : ০২:২৯:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত চারটি আরসিসি গার্ডার ব্রিজ এখন রাষ্ট্রের অর্থের চরম অপচয়ের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাত্র ২০০ গজের ব্যবধানে নির্মিত এই সেতুগুলোর নিচ দিয়ে পানি চলাচলের কোনো সুযোগ নেই, এমনকি বর্ষা মৌসুমেও এলাকাটি পুরোপুরি শুষ্ক থাকে। প্রায় ৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ‘শো-পিস’ ব্রিজগুলো কোনো কাজেই আসছে না স্থানীয়দের।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ‘সুপ্রব’ (SupRB) প্রকল্পের আওতায় বিশ্বব্যাংক ও তৎকালীন সরকারের অর্থায়নে এই ব্রিজগুলো নির্মাণ করা হয়। ২০২৪ সালের শুরুর দিকে কাজ শেষ হওয়া এই প্রকল্পটির প্রতিটি ব্রিজের দৈর্ঘ্য ২০ মিটার। সরেজমিনে দেখা গেছে, ব্রিজের দুই পাশে সংযোগ সড়ক থাকলেও নিচে কোনো খাল বা নালার অস্তিত্ব নেই। নির্মাণের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও ডাইভারশনের মাটি পর্যন্ত সরানো হয়নি, যা প্রমাণ করে প্রকল্পটির পরিকল্পনা ছিল সম্পূর্ণ ত্রুটিপূর্ণ।

বর্তমান এলজিইডি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই প্রকল্পগুলো বিগত সরকারের আমলে অনুমোদিত ও বাস্তবায়িত হয়েছে। ২০২৫ সালে কর্মস্থলে যোগ দেওয়া বর্তমান প্রকৌশলীদের মতে, সঠিক সমীক্ষা ছাড়াই রাজনৈতিক বিবেচনায় এসব প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিটিশ আমলের ছোট ব্রিজগুলোকে বড় করার নামে মূলত অর্থ আত্মসাতের সুযোগ তৈরি করা হয়েছিল। বর্তমানে এই স্থাপনাগুলো কোনো সুফল দিচ্ছে না, বরং জনগণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।