২০২৪ সালের ৪ আগস্ট কুমিল্লার রাজপথে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে এক অভূতপূর্ব ছাত্র-জনতার প্রতিরোধ গড়ে উঠেছিল। আন্দোলন সংশ্লিষ্টদের মতে, এই ঘটনাপ্রবাহ কেবল কুমিল্লায় আন্দোলনের গতিপথই পাল্টে দেয়নি, বরং পরদিন ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট তৈরিতেও এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আন্দোলনকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেদিনের সকাল থেকেই কুমিল্লার কোটবাড়ী বিশ্বরোড, আলেখারচর বিশ্বরোড, ঝাগুরঝুলি এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে ছাত্র-জনতার অবস্থান ক্রমশ জোরদার হতে থাকে। বেলা প্রায় ১১টার দিকে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে একটি মিছিল আলেখারচর বিশ্বরোডের দিকে অগ্রসর হলে সেখানে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এই সময় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা গুলি চালায়, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
প্রত্যক্ষদর্শী এবং আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের দাবি, সংঘর্ষ চলাকালে সেনাবাহিনী প্রাথমিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলেও পরবর্তীতে সাঁজোয়া যান নিয়ে ঘটনাস্থলের দিকে অগ্রসর হয়। তাদের ভাষ্যমতে, দুপুরের দিকে সেনাবাহিনী এলাকায় অবস্থান নিলে আন্দোলনকারীরা নতুন করে সাহস সঞ্চয় করে এবং পরবর্তীতে আলেখারচর বিশ্বরোড, ঝাগুরঝুলি এবং কোটবাড়ী বিশ্বরোড এলাকায় ছাত্র-জনতার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়।
ওই দিন কুমিল্লা আলেখারচর বিশ্বরোড এলাকায় আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন কুমিল্লা-৫ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য হাজী জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘যখন দেখেছি ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হচ্ছে, তখন আর স্থির থাকতে পারিনি। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ছাত্র-জনতার পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও আমরা সহযোগিতা পেয়েছি।’
আন্দোলনের সময় মাঠে থাকা কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবু বলেন, ‘৪ আগস্ট চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে আমাদের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়েছিল। ছাত্র সংগঠনগুলোও আগে থেকেই ছাত্র-জনতার সঙ্গে ছিল। পরে সেনাবাহিনী মাঠে নামায় পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পিছু হটে।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুমিল্লার আহ্বায়ক আবু রায়হান এই দিনটিকে কুমিল্লার জন্য ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘৪ আগস্ট কুমিল্লার জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। এদিনের প্রতিরোধের মধ্য দিয়ে আমরা কুমিল্লায় আওয়ামী লীগকে মাঠ থেকে বিদায় করি।’
রিপোর্টারের নাম 























