প্রাকৃতিক গ্যাসের আমদানিনির্ভরতার কারণে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বর্তমানে চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ না থাকা এবং নতুন সংযোগ বন্ধ থাকায় শিল্প উৎপাদনে মারাত্মক ধস নেমেছে। একই সঙ্গে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসায় দেশজুড়ে তীব্র লোডশেডিংয়ের শিকার হচ্ছেন গ্রাহকরা। এছাড়া গৃহস্থালিতে রান্নাবান্নার ভোগান্তির পাশাপাশি সিএনজি পাম্পগুলোতে অটোগ্যাসের জন্য দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই সংকট আগামী দিনে আরও তীব্র হতে পারে।
জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান গ্যাস সংকট থেকে আশু মুক্তির সম্ভাবনা কম। সংকট মোকাবিলায় বর্তমান সরকারের নেওয়া বিকল্প পদক্ষেপগুলোর সুফল পেতে আরও তিন থেকে চার বছর সময় লাগতে পারে। বর্তমান সরকারের নীতিনির্ধারকরা এই চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের জন্য বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ভুল নীতি, বিদেশনির্ভরতা, সীমাহীন দুর্নীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধাবস্থাকে দায়ী করছেন।
জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই দশক ধরে দেশে নতুন অনুসন্ধান কার্যক্রম না থাকায় গ্যাসের মজুত দ্রুত কমেছে। এর ফলে জ্বালানি খাত ধীরে ধীরে আমদানিনির্ভর হয়ে পড়েছে। গ্যাস অনুসন্ধান বন্ধ রেখে ঘাটতি মেটাতে ২০১৮ সালের পর মাত্র আট বছরে আড়াই লাখ কোটি টাকার উচ্চ মূল্যের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করতে হয়েছে। দেশে উৎপাদিত যে গ্যাসের দাম তিন থেকে চার টাকা, তা বিদেশ থেকে আমদানি করতে ৭০ টাকার বেশি ব্যয় হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, উচ্চমূল্যের এলএনজি আমদানিকে কেন্দ্র করে একটি বিশাল দুর্নীতিবাজ মাফিয়া সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল।
জ্বালানি বিভাগ সূত্র আরও জানিয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশীয় উৎস থেকে পাওয়া প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের গড় মূল্য ছিল তিন দশমিক ৩৯ টাকা। একই পরিমাণ গ্যাস আমদানিতে খরচ পড়েছে ৬৮ দশমিক ৭১ টাকা। ঐ অর্থবছরে দেশীয় উৎস থেকে পাওয়া ৭২ দশমিক ২১ শতাংশ গ্যাসের দাম পড়েছে ছয় হাজার ৬২৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। একই সময়ে আমদানিকৃত ২৬ দশমিক ৮৯ শতাংশ গ্যাসের দাম পড়েছে ৪৩ হাজার ৫৯১ কোটি ১৬ লাখ টাকা। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় চলতি বছর এলএনজি আমদানি ব্যয় ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 
























