দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা গভীর ও অগভীর সমুদ্রের মোট ২৬টি ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য বাংলাদেশ সরকার যে আন্তর্জাতিক দরপত্র (Offshore Bidding Round) আহ্বান করেছে, তাতে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা দিয়েছে। পেট্রোবাংলার তথ্যমতে, তুরস্কের শীর্ষস্থানীয় রাষ্ট্রীয় কোম্পানি ‘টার্কিশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন’ (TPAO) ইতোমধ্যে এই কাজের জন্য দরপত্র প্রস্তুতের সিডিউল ও নথি কিনে নিয়েছে। বিশ্বে অন্যতম পরাশক্তি হিসেবে বিবেচিত এই প্রতিষ্ঠানটি এর আগে কৃষ্ণ সাগরে ২৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট ক্ষমতার ঐতিহাসিক ‘সাকারিয়া’ গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করেছিল, যা বাংলাদেশের এ যাবতকালের সর্বমোট আবিষ্কৃত গ্যাসের প্রায় সমান।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (পিএসসি) প্রকৌশলী মো. শোয়েব বার্তা২৪.কম-কে নিশ্চিত করেছেন যে, দরপত্র কেনা টিপিএও ছাড়াও সিঙ্গাপুরের ক্রিসএনার্জি, যুক্তরাষ্ট্রের বিরিংগিয়া এনার্জি গ্লোবালের লোকাল এজেন্ট বিরিংগিয়া পাওয়ার বাংলাদেশ লিমিটেড, পিয়াল এনার্জি, জাপানি প্রতিষ্ঠান অনোডা ইনকরপোরেটেড এবং নরওয়েজিয়ান গবেষণা সংস্থা রিস্টাড এনার্জি অনুসন্ধানসংক্রান্ত উপাত্ত ও ডাটা কিনেছে। আগামী ৩০ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত আগ্রহী দেশি-বিদেশি কোম্পানিগুলো তাদের চূড়ান্ত দরপত্র জমা দিতে পারবে।
পূর্বে ২০২৪ সালের দরপত্র প্রক্রিয়া রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও পিএসসি (생산 ও বণ্টন চুক্তি) নীতিমালার কিছু জটিলতার দরুন বাতিল ঘোষিত হয়েছিল। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠিত কারণ উদ্ঘাটন কমিটির সুপারিশে মডেলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। নতুন মডেলে আন্তর্জাতিক ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের সাথে সমন্বয় রেখে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে—যা গভীর সমুদ্রে ১১ শতাংশ এবং অগভীর সমুদ্রে ১০.৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যবসায়িক কর (WPPF) ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১.৫ শতাংশ করা এবং স্থলভাগ পর্যন্ত পাইপলাইন ব্যয়ের ওপর বাড়তি সুবিধা ঘোষণা করা হয়েছে।
মিয়ানমার তাদের নিজস্ব সমুদ্রসীমা থেকে দীর্ঘদিন গ্যাস উত্তোলন করলেও সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তির পর ১২ বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ তা করতে ব্যর্থ হওয়ায় দেশে বর্তমানে দৈনিক ১,৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ভয়াবহ ঘাটতি রয়েছে। চাহিদার বিপরীতে বর্তমানে দেশে উৎপাদিত গ্যাসের পরিমাণ দিন দিন কমছে। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু আশাবাদ ব্যক্ত করে জানিয়েছেন যে, বিশ্বমানের আমেরিকান ও চীনা একাধিক কোম্পানি যোগাযোগ শুরু করেছে এবং এই বিডিং রাউন্ডের মাধ্যমে সাগরের অমূল্য খনিজ সম্পদ আহরণে বড় সাফল্য আসবে।
রিপোর্টারের নাম 
























