মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৪:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬

মেঘনা নদীতে ইজারা ছাড়াই বালু উত্তোলনের মহোৎসব, নদীভাঙন ও স্থাপনার নিরাপত্তা ঝুঁকি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মেঘনা নদীর তলদেশ থেকে ইজারা ছাড়াই চলছে অবাধে বালু উত্তোলনের মহোৎসব। অভিযোগ রয়েছে, ভৈরব ও আশুগঞ্জের একটি প্রভাবশালী চক্র প্রতিদিন অর্ধশতাধিক ড্রেজারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার বালু উত্তোলন করছে। এর ফলে চর সোনারামপুর গ্রাম নদীভাঙনের মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে আশুগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্রের জাতীয় গ্রিড লাইনের টাওয়ার, তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র, দুটি রেলসেতু এবং একটি সড়ক সেতুর নিরাপত্তা নিয়েও গুরুতর শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার মেঘনা নদীর টুক চাঁনপুর, মেন্দিপুর ও লইন্দা মৌজার বালুমহাল ইজারা নেওয়া হলেও ইজারাদারেরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ অংশে প্রবেশ করে নির্বিচারে বালু উত্তোলন করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আশুগঞ্জের প্রভাবশালী একটি মহলকে সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চর সোনারামপুর, সোহাগপুর এবং আশুগঞ্জ বন্দর সংলগ্ন এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করছে একটি সিন্ডিকেট।

চর সোনারামপুর গ্রামের বাসিন্দা রানা সরকার বলেন, ‘আমরা এখন অসহায়। প্রভাবশালীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছি। প্রশাসন যদি আমাদের কথা ভাবত, তাহলে দিনরাত এভাবে বালু তুলে আমাদের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে ফেলতে পারত না।’ একই গ্রামের রাণী দাস বলেন, ‘আমাদের দুটি ঘর ইতোমধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনে চর আগের তুলনায় অর্ধেক হয়ে গেছে। এভাবে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে চর ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।’

আশুগঞ্জ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জহিরুল ইসলাম জারু মিয়া বলেন, ‘কিশোরগঞ্জের ডিসি কীভাবে ওই জলমহাল মাটি কাটার জন্য ইজারা দিলেন, তা আমাদের বোধগম্য নয়। তারা ইজারা নিয়েছে মেন্দিপুর ও টুক চাঁনপুর এলাকায়, অথচ বালু তুলছে চর সোনারামপুর থেকে। কয়েক দিন আগে ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু এখনো কোনো সুরাহা হয়নি।’

আশুগঞ্জের সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাফে মোহাম্মদ ছড়া বলেন, ‘২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর অভিযান চালিয়ে ১০টি ড্রেজার জব্দ করা হয়েছিল। সে সময় আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে একটি ড্রেজার ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং চার্জশিটও দাখিল করা হয়েছে। এর পরও নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছি। তবে আমরা অভিযান চালাতে গেলে তারা আশুগঞ্জের সীমানা ছেড়ে ভৈরব অংশে চলে যায়। ফলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না।’ প্রশাসনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আশুগঞ্জ উপ-

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফের মদতে ভূমি দখলের অভিযোগ, রামগড়ে সেনাক্যাম্প স্থাপনের দাবি

মেঘনা নদীতে ইজারা ছাড়াই বালু উত্তোলনের মহোৎসব, নদীভাঙন ও স্থাপনার নিরাপত্তা ঝুঁকি

আপডেট সময় : ০১:০৯:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মেঘনা নদীর তলদেশ থেকে ইজারা ছাড়াই চলছে অবাধে বালু উত্তোলনের মহোৎসব। অভিযোগ রয়েছে, ভৈরব ও আশুগঞ্জের একটি প্রভাবশালী চক্র প্রতিদিন অর্ধশতাধিক ড্রেজারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার বালু উত্তোলন করছে। এর ফলে চর সোনারামপুর গ্রাম নদীভাঙনের মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে আশুগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্রের জাতীয় গ্রিড লাইনের টাওয়ার, তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র, দুটি রেলসেতু এবং একটি সড়ক সেতুর নিরাপত্তা নিয়েও গুরুতর শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার মেঘনা নদীর টুক চাঁনপুর, মেন্দিপুর ও লইন্দা মৌজার বালুমহাল ইজারা নেওয়া হলেও ইজারাদারেরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ অংশে প্রবেশ করে নির্বিচারে বালু উত্তোলন করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আশুগঞ্জের প্রভাবশালী একটি মহলকে সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চর সোনারামপুর, সোহাগপুর এবং আশুগঞ্জ বন্দর সংলগ্ন এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করছে একটি সিন্ডিকেট।

চর সোনারামপুর গ্রামের বাসিন্দা রানা সরকার বলেন, ‘আমরা এখন অসহায়। প্রভাবশালীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছি। প্রশাসন যদি আমাদের কথা ভাবত, তাহলে দিনরাত এভাবে বালু তুলে আমাদের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে ফেলতে পারত না।’ একই গ্রামের রাণী দাস বলেন, ‘আমাদের দুটি ঘর ইতোমধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনে চর আগের তুলনায় অর্ধেক হয়ে গেছে। এভাবে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে চর ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।’

আশুগঞ্জ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জহিরুল ইসলাম জারু মিয়া বলেন, ‘কিশোরগঞ্জের ডিসি কীভাবে ওই জলমহাল মাটি কাটার জন্য ইজারা দিলেন, তা আমাদের বোধগম্য নয়। তারা ইজারা নিয়েছে মেন্দিপুর ও টুক চাঁনপুর এলাকায়, অথচ বালু তুলছে চর সোনারামপুর থেকে। কয়েক দিন আগে ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু এখনো কোনো সুরাহা হয়নি।’

আশুগঞ্জের সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাফে মোহাম্মদ ছড়া বলেন, ‘২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর অভিযান চালিয়ে ১০টি ড্রেজার জব্দ করা হয়েছিল। সে সময় আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে একটি ড্রেজার ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং চার্জশিটও দাখিল করা হয়েছে। এর পরও নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছি। তবে আমরা অভিযান চালাতে গেলে তারা আশুগঞ্জের সীমানা ছেড়ে ভৈরব অংশে চলে যায়। ফলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না।’ প্রশাসনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আশুগঞ্জ উপ-