ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোনো বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচার করা হলে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকে আদালতের আদেশ মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে এ সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, এ নির্দেশ অমান্য করা হলে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
ডা. জাহেদ উর রহমান উল্লেখ করেন, সরকার এর আগেও এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে সতর্ক করেছিল। তিনি জানান, কেউ যদি আগাম ঘোষণা দিয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রকাশ বা সম্প্রচার করে, তাহলে তা আদালতের আদেশ অমান্য করার শামিল হবে। তিনি আরও বলেন, আদালতের নির্দেশনা মেনে চলা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সাংবিধানিক দায়িত্ব এবং সরকারের দায়িত্ব হলো আদালতের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
তবে ব্যক্তিগত মতামত তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা না থাকলে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে বাধা দেওয়ার পক্ষে তিনি নন। কারও যদি আদালতের আদেশের বিষয়ে আপত্তি থাকে, তাহলে আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতেই তা চ্যালেঞ্জ করা উচিত। কিন্তু আদেশ বহাল থাকা পর্যন্ত সেটি মেনে চলতে হবে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক দেশে ফেরার ঘোষণার প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে চায়। এ লক্ষ্যে ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের আবেদন করা হয়েছে এবং বিষয়টি বিভিন্ন পর্যায়ে উত্থাপন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে এবং আইন অনুযায়ী আত্মপক্ষ সমর্থন, আইনজীবী নিয়োগসহ সব ধরনের আইনি অধিকার নিশ্চিত করা হবে। আদালতের চূড়ান্ত রায় সরকার মেনে চলবে।
শেখ হাসিনার সম্ভাব্য রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, অতীতেও তার বিভিন্ন আহ্বানের বাস্তব প্রভাব দেখা যায়নি। এখনও কেউ কেউ তাকে সমর্থন করতে পারেন, তবে বর্তমান সরকারকে রাজনৈতিকভাবে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো সাংগঠনিক বা নৈতিক সক্ষমতা তাদের নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে শেখ হাসিনার দেশত্যাগে সহযোগিতাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সে সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল ব্যতিক্রমধর্মী। এ মুহূর্তে ওই ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন, তা নিয়ে সরকারের কোনো তদন্ত কার্যক্রম চলছে না।
রিপোর্টারের নাম 























