মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৪:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রামের নতুন মহাপরিকল্পনা: অতীতের ব্যর্থতা ও বর্তমান চ্যালেঞ্জ

চট্টগ্রামকে একটি পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে নতুন করে ২৫ বছরের মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। তবে এই উদ্যোগ এমন এক সময়ে নেওয়া হলো, যখন ১৯৬১ ও ১৯৯৫ সালে প্রণীত পূর্ববর্তী দুটি মাস্টারপ্ল্যানের প্রায় ৮০ শতাংশই বাস্তবায়িত হয়নি। নগর বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং সংশ্লিষ্ট আইনের সংস্কার না হলে এই নতুন পরিকল্পনাও আগেরগুলোর মতো ফাইলবন্দী হয়ে থাকতে পারে।

গত তিন দশকে চট্টগ্রাম নগরী অপরিকল্পিত উন্নয়নের শিকার হয়েছে। মাস্টারপ্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত না থাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মতো ব্যয়বহুল অবকাঠামো নির্মাণ হলেও, খাল-নালা দখল, অনিয়ন্ত্রিত ভবন নির্মাণ, যানজট, পাহাড় কাটা, পুকুর ভরাট ও সবুজ এলাকা ধ্বংসের ঘটনা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। পরিবেশবাদী সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৫ সালের মাস্টারপ্ল্যানে পাহাড় সংরক্ষণ, বাসযোগ্য আবাসন, কৃষিজমি রক্ষা, পর্যাপ্ত সবুজ এলাকা এবং পরিবহন অবকাঠামোর পরিকল্পনা থাকলেও, গত ৩০ বছরে এর অধিকাংশই উপেক্ষিত হয়েছে।

গবেষণা ও পরিবেশবাদী সংগঠনের তথ্যমতে, নগরীর প্রায় ১২০টি পাহাড় বিলীন হয়ে গেছে। প্রভাবশালীরা এসব পাহাড় কেটে আবাসিক এলাকা বা বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন। গত দুই দশকে ২৩ হাজার পুকুর হারিয়ে গেছে, যার মধ্যে লালদীঘি, আসকারদীঘি, কমলদীঘি, আগ্রাবাদ দীঘি, ভেলুয়া সুন্দরীর দীঘি, রানির দীঘি, রাজাপুকুরসহ বহু ঐতিহ্যবাহী জলাশয় ভরাট করে ভবন তোলা হয়েছে।

এছাড়া, নগরীর অন্তত ৫০০ ভবন খালের ওপর নির্মিত হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় সেনাবাহিনী কিছু স্থাপনা উচ্ছেদ করলেও বহু খাল এখনো দখলমুক্ত হয়নি। অবকাঠামো নির্মাণে শতবর্ষী বহু গাছ কাটা হয়েছে এবং ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণ করা হয়নি। মাস্টারপ্ল্যানে উল্লেখ থাকা ১১টি রেলওয়ে ওভারব্রিজও নির্মিত হয়নি; বরং সবুজ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত স্থানে গড়ে উঠেছে আবাসিক প্রকল্প।

সিডিএ দাবি করছে, নতুন মহাপরিকল্পনার ইতোমধ্যে ৮৭ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তবে নগরীর ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য এই পরিকল্পনা কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে এর কঠোর বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফের মদতে ভূমি দখলের অভিযোগ, রামগড়ে সেনাক্যাম্প স্থাপনের দাবি

চট্টগ্রামের নতুন মহাপরিকল্পনা: অতীতের ব্যর্থতা ও বর্তমান চ্যালেঞ্জ

আপডেট সময় : ০২:২৫:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রামকে একটি পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে নতুন করে ২৫ বছরের মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। তবে এই উদ্যোগ এমন এক সময়ে নেওয়া হলো, যখন ১৯৬১ ও ১৯৯৫ সালে প্রণীত পূর্ববর্তী দুটি মাস্টারপ্ল্যানের প্রায় ৮০ শতাংশই বাস্তবায়িত হয়নি। নগর বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং সংশ্লিষ্ট আইনের সংস্কার না হলে এই নতুন পরিকল্পনাও আগেরগুলোর মতো ফাইলবন্দী হয়ে থাকতে পারে।

গত তিন দশকে চট্টগ্রাম নগরী অপরিকল্পিত উন্নয়নের শিকার হয়েছে। মাস্টারপ্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত না থাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মতো ব্যয়বহুল অবকাঠামো নির্মাণ হলেও, খাল-নালা দখল, অনিয়ন্ত্রিত ভবন নির্মাণ, যানজট, পাহাড় কাটা, পুকুর ভরাট ও সবুজ এলাকা ধ্বংসের ঘটনা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। পরিবেশবাদী সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৫ সালের মাস্টারপ্ল্যানে পাহাড় সংরক্ষণ, বাসযোগ্য আবাসন, কৃষিজমি রক্ষা, পর্যাপ্ত সবুজ এলাকা এবং পরিবহন অবকাঠামোর পরিকল্পনা থাকলেও, গত ৩০ বছরে এর অধিকাংশই উপেক্ষিত হয়েছে।

গবেষণা ও পরিবেশবাদী সংগঠনের তথ্যমতে, নগরীর প্রায় ১২০টি পাহাড় বিলীন হয়ে গেছে। প্রভাবশালীরা এসব পাহাড় কেটে আবাসিক এলাকা বা বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন। গত দুই দশকে ২৩ হাজার পুকুর হারিয়ে গেছে, যার মধ্যে লালদীঘি, আসকারদীঘি, কমলদীঘি, আগ্রাবাদ দীঘি, ভেলুয়া সুন্দরীর দীঘি, রানির দীঘি, রাজাপুকুরসহ বহু ঐতিহ্যবাহী জলাশয় ভরাট করে ভবন তোলা হয়েছে।

এছাড়া, নগরীর অন্তত ৫০০ ভবন খালের ওপর নির্মিত হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় সেনাবাহিনী কিছু স্থাপনা উচ্ছেদ করলেও বহু খাল এখনো দখলমুক্ত হয়নি। অবকাঠামো নির্মাণে শতবর্ষী বহু গাছ কাটা হয়েছে এবং ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণ করা হয়নি। মাস্টারপ্ল্যানে উল্লেখ থাকা ১১টি রেলওয়ে ওভারব্রিজও নির্মিত হয়নি; বরং সবুজ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত স্থানে গড়ে উঠেছে আবাসিক প্রকল্প।

সিডিএ দাবি করছে, নতুন মহাপরিকল্পনার ইতোমধ্যে ৮৭ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তবে নগরীর ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য এই পরিকল্পনা কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে এর কঠোর বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।