কুমিল্লার লালমাইয়ে রাতের আঁধারে এক নার্সারির ৫ শতাধিক ফলের চারা কেটে সাবাড় করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। রোববার দিবাগত রাতে উপজেলার ভুলইন দক্ষিণ ইউনিয়নের কাঁছিয়াপুকুরিয়া মুজিবনগর সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত ওমর নগর নার্সারিতে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন নার্সারির স্বত্বাধিকারী প্রবাসফেরত মিজানুর রহমান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ভুশ্চি বাজার তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ প্রদীপ চক্রবর্তী। এ বিষয়ে লালমাই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।
জানা গেছে, কাছিয়াপুকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা মিজানুর রহমান গত দেড় বছর আগে ৩০ শতক জমিতে বিভিন্ন জাতের ফুল, ফল, সবজি গাছ ও কলমের চারা উৎপাদন এবং বিক্রির জন্য নার্সারি সৃষ্টি করেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বাগানের প্রায় সব চারাগাছই ধারালো অস্ত্র দিয়ে কাটা হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ চারাগাছ মাঝামাঝি অংশ থেকে সম্পূর্ণ কেটে ফেলা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত মিজানুর রহমান জানান, ‘আমার ইচ্ছা ছিল উদ্যোক্তা হওয়ার। তাই আমি দুই বছর আগে সৌদি আরব থেকে দেশে এসে নিজের কেনা জমিতে চারা উৎপাদনকে পেশা হিসেবে বেছে নিই। তাই দেড় বছর আগে এখানে একটি বড় নার্সারি গড়ে তুলি। অনেক কষ্টে পরিচর্যা করে চারাগাছগুলো বড় করেছি। কিন্তু রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা আমার নার্সারিতে উৎপাদিত এবং উত্তরাঞ্চল থেকে ক্রয়কৃত উন্নত জাতের আম, মালটা, পেঁপে, জলপাই, কলা, লটকনসহ পাঁচ শতাধিক চারাগাছ কেটে ফেলে। সকালে নার্সারিতে গিয়ে দেখি চারাগাছগুলো গোড়া থেকে কাটা। আমার লাখ টাকার ফল উৎপাদনের স্বপ্ন আজ শেষ হয়ে গেল।’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, ‘প্রবাস থেকে দেশে আসার পর গাছগুলো বিক্রি করে আমার সংসার চলত। বৃদ্ধ মা-বাবা ও চার সন্তান নিয়ে চলতে আমার খুব কষ্ট হয়। এর মধ্যে আমার ৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়ে গেল। আমার সঙ্গে কারও শত্রুতা নেই, কিন্তু আগেও রাতের আঁধারে নার্সারির পাশে আমার ফিশারিতে বিষ দিয়ে মাছ মেরে ফেলেছে এবং নার্সারির ঘরে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে।’ চারার সঙ্গে শত্রুতাকারীদের খুঁজে বের করে প্রশাসনের কাছে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ফজলুর রহমান মিন্টু বলেন, তার নার্সারিতে আগেও এরকম দুটি ঘটনা ঘটেছে। তবে এবারে ক্ষতির পরিমাণটা বেশি। তিনি এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
রিপোর্টারের নাম 
























