বিগত ২০২৪ সালের সেই উত্তাল আগস্ট। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান যখন তুঙ্গে, তখন মাগুরার রাজপথে অকাতরে প্রাণ দিয়েছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী ফরহাদ হোসেন। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আজও সেই বীরত্বগাথা বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে অমলিন।
স্বপ্ন ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার। নম্র ও শান্ত স্বভাবের ফরহাদ পড়াশোনা আর ইবাদতেই মগ্ন থাকতেন। কিন্তু দেশের প্রয়োজনে ঘর ছেড়ে রাজপথে নেমে এসেছিলেন তিনি। ৪ আগস্ট মাগুরায় আন্দোলন চলাকালে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডারদের ছোড়া গুলি তার মাথায় বিদ্ধ হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার সময়ও তার মুখে ছিল পবিত্র কালেমা।
পরিবার ও সহযোদ্ধাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফরহাদের শেষ অনুরোধ ছিল তার ব্যবহৃত ফোন এবং নিথর দেহটি যেন তার মায়ের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। মা শিরিনা বেগমের ছোট সন্তান ফরহাদ ছিলেন পরিবারের নয়নমণি। তার বাবা গোলাম মোস্তফা একজন সাধারণ গাড়িচালক হয়েও সন্তানদের উচ্চশিক্ষিত করার যে সংগ্রাম করেছিলেন, ফরহাদ ছিলেন সেই সংগ্রামের সার্থক প্রতিচ্ছবি।
আন্দোলনে যাওয়ার আগে বড় ভাইকে ফরহাদ বলেছিলেন, ‘চলেন ভাই, শহীদ হয়ে আসি। এমন সময় জীবনে আর পাওয়া যাবে না।’ দেশের স্বাধীনতার দ্বিতীয় সূর্য উদয়ের সেই মাহেন্দ্রক্ষণে ফরহাদের মতো তরুণদের আত্মত্যাগই আজকের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের ভিত্তি। বর্তমান নির্বাচিত সরকারের আমলে এই শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 






















