বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দুঃশাসন বিরোধী আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট সিলেটের গোলাপগঞ্জে সংঘটিত নারকীয় হত্যাকাণ্ডের দুই বছর পূর্ণ হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সেই রক্তঝরা দিনে পুলিশ ও বিজিবির নির্বিচার গুলিবর্ষণে গোলাপগঞ্জে সাতজন মুক্তিকামী মানুষ শাহাদাতবরণ করেছিলেন। বর্তমানে ২০২৬ সালে দেশে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় থাকলেও শহীদ পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ—বিগত দুই বছরেও সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া দৃশ্যমান হয়নি।
সেদিনের ঘটনার স্মৃতিচারণ করে স্থানীয়রা জানান, তৎকালীন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘এক দফা’ দাবির সমর্থনে গোলাপগঞ্জ সেদিন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে সমবেত হতে শুরু করলে তৎকালীন প্রশাসনের নির্দেশে বিজিবি ও পুলিশ তাদের ওপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে বিজিবি ও পুলিশের পাশাপাশি তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা ছাত্র-জনতার ওপর বৃষ্টির মতো গুলি ছুড়তে থাকে।
ঐতিহাসিক সেই আন্দোলনে গোলাপগঞ্জের বারোকোট ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় গুলিবর্ষণের ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নাজমুল ইসলাম, তাজউদ্দীন ও সানি আহমদ নামের তিন তরুণ শাহাদাতবরণ করেন। এছাড়া গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে জয় আহমদসহ আরও চারজন প্রাণ হারান। এই ঘটনায় শতাধিক মানুষ গুলিবিদ্ধ ও পঙ্গুত্ব বরণ করেন। সেদিনের সেই বিভীষিকাময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় মসজিদের মাইক থেকে ঘোষণা দিয়ে সাধারণ মানুষকে আন্দোলনে শরিক হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল।
সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হলেও বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারের আমলে তা দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা। শহীদ তাজউদ্দীনের পরিবার জানায়, দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও যারা তাদের সন্তানদের বুকে গুলি চালিয়েছে, তাদের কঠোর শাস্তি এখনো নিশ্চিত হয়নি। জুলাই বিপ্লবের এই মহান শহীদদের আত্মত্যাগের সঠিক মূল্যায়নে দ্রুত বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার সম্পন্ন করার দাবি এখন পুরো গোলাপগঞ্জবাসীর।
রিপোর্টারের নাম 





















