রাজধানীর জলসিঁড়ি এলাকায় সেনাবাহিনী পরিচালিত নতুন ধারার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট’ (AIII) উদ্বোধনী সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এক অর্থবহ ও সময়োপযোগী বক্তব্য পেশ করেন। তিনি সমাজে বহুল প্রচলিত ধর্মীয় অনিয়ম, অসঙ্গতি ও বিদআত পরিহার করে সঠিক কোরআন-সুন্নাহ নির্দেশিত জীবনাচারে ফিরে আসার আকুল আহ্বান জানান। সেনাপ্রধান তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, প্রচলিত ধারার আধুনিক শিক্ষায় পর্যাপ্ত নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের অভাব যেমন রয়েছে, তেমনি অনেক ক্ষেত্রে প্রথাগত ধর্মীয় শিক্ষায় আধুনিক জ্ঞান ও কারিগরি দক্ষতার ঘাটতি বিদ্যমান। উভয় ব্যবস্থার এই শূন্যতা পূরণ করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও সুসংগঠিত ভবিষ্যৎ নৈতিক প্রজন্ম গড়ে তোলাই তাঁর মূল স্বপ্ন।
অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান দৃঢ়তার সাথে মন্তব্য করেন, “বিদআত ছেয়ে গেছে এদেশে। দোয়ার মধ্যে বিদআত, নামাজের মধ্যে বিদআত। সবখানে বিদআতে ছেয়ে গেছে। এগুলো থেকে বের হয়ে আসতে হবে। একটি সুস্থ সমাজ, ইসলামিক সমাজ আমরা চাচ্ছি এই এডুকেশন সিস্টেমের মাধ্যমে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে আধুনিক ও ধর্মীয় সমন্বিত শিক্ষা রূপরেখা গ্রহণ করতে পারলে আগামী ৩০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি সম্পূর্ণ সুশিক্ষিত, প্রজ্ঞাবান ও আদর্শ সমাজ উপহার দেওয়া সম্ভব হবে। জলসিঁড়ি ক্যাম্পাস ছাড়াও একই দিনে ভিডিও টেলিকনফারেন্সের (VTC) মাধ্যমে সাভার, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, সিলেট, যশোর, বগুড়া ও বরিশালে আরও সাতটি শাখা প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি।
সেনাপ্রধানের এমন স্পষ্ট ও সাহসী বক্তব্য প্রকাশিত হওয়ার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিশেষ করে ফেসবুকে তা এক ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাধারণ নেটিজেন থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশাজীবীরা সেনাপ্রধানের ধর্মীয় অনুভূতি, সততা এবং শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন দর্শনকে সাধুবাদ জানিয়ে মন্তব্য করছেন। নেটিজেনদের অনেকেই মনে করছেন, একজন উচ্চপদস্থ সামরিক নেতৃত্বের মুখে ধর্মীয় বিকৃতি পরিহারের আহ্বান এবং নতুন প্রজন্মের আত্মিক সমৃদ্ধির এই অঙ্গীকার এদেশের শিক্ষাঙ্গনে এক নতুন ইতিবাচক অধ্যায়ের সূচনা করবে।
রিপোর্টারের নাম 
























