ভবিষ্যতে যেকোনো সম্ভাব্য সংঘাত বা যুদ্ধ মোকাবেলার জন্য ইরান তার সামরিক ও প্রতিরক্ষা খাতের চারটি প্রধান অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছে। দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মজিদ ইবন আল-রেজা বলেছেন, মার্কিন সামরিক উদ্দেশ্য ব্যর্থ হলেও আত্মতুষ্টিতে ভোগার কোনো সুযোগ নেই এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদার করতে হবে।
ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-এর বরাতে জানা গেছে, প্রতিরক্ষা শিল্প খাতের বিজ্ঞানীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে মজিদ ইবন আল-রেজা এই চারটি অগ্রাধিকার চিহ্নিত করেন। এগুলো হলো—মহাকাশভিত্তিক প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্যের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন, দেশের শিল্প অবকাঠামোর স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি এবং ‘প্রতিরক্ষা অর্থনীতি’।
প্রতিরক্ষা অর্থনীতির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, দেশীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে কার্যকর, সাশ্রয়ী, সুসংগঠিত এবং বিপুল পরিমাণে সামরিক সরঞ্জাম প্রস্তুত করাই এর মূল লক্ষ্য।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও সতর্ক করে বলেন, শত্রুভাবাপন্ন দেশগুলো, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, তাদের সামরিক লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হলেও এখনই নিশ্চিন্ত হয়ে বসে থাকার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ‘আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সাফল্য এবং শত্রুর লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থতার কারণে অনেকে হয়তো শত্রুর কৌশলগত অচলাবস্থা নিয়ে কথা বলতে পারেন। তবে এসব মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে আমাদের বসে থাকলে চলবে না বা আত্মতুষ্ট হওয়া যাবে না। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পকে আগের চেয়েও দ্বিগুণ গতিতে উদ্ভাবন, প্রস্তুতি ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে যেতে হবে।’
উল্লেখ্য, কয়েক দশক ধরে পশ্চিমাদের অর্থনৈতিক ও সামরিক নিষেধাজ্ঞার মুখেও ইরান নিজেদের প্রযুক্তিতে কম খরচে ক্ষিপ্রগতির ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। এই সক্ষমতা ইরানকে প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করতে সাহায্য করে, যেখানে শত্রুপক্ষকে তা ঠেকাতে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়। ইরানি প্রতিরক্ষামন্ত্রী দেশীয় এই উৎপাদন সক্ষমতা ও প্রযুক্তি আরও বৃদ্ধি করার ওপর জোর দিয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 






















