মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১২:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬

২০২৬ বিশ্বকাপ: ১৯-এর কোঠায় বিশ্বজয়, ইয়ামাল-কুবার্সিরা যোগ দিলেন পেলের অভিজাত তালিকায়

সতেরো বছর বয়সে এডসন আরান্তেস দো নাসিমেন্তো স্টকহোমের আকাশে উঁচিয়ে ধরেছিলেন জুলে রিমে ট্রফি। সেদিন ফুটবলের ইতিহাস তাকে পৃথিবীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল নতুন এক নামেÑপেলে। সে মুহূর্তটি শুধু একটি বিশ্বকাপ জয়ের গল্পই ছিল না; সেটি ছিল ফুটবল ইতিহাসে তারুণ্যের সবচেয়ে উজ্জ্বল ঘোষণাপত্রও। এরপর কেটে গেছে প্রায় সাত দশক। অসংখ্য কিংবদন্তি জন্ম নিয়েছেন, শত শত তারকা বিশ্বকাপ জিতেছেন। কিন্তু ২০ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে হাতেগোনা কয়েকজনেরই, যার শুরুটা করেছিলেন ব্রাজিলের ‘কালো মানিক’।

২০২৬ বিশ্বকাপ সেই অভিজাত তালিকায় যোগ করেছে আরো দুটি নতুন নাম; স্পেনের লামিন ইয়ামাল ও পাও কুবার্সি। নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সির ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে দুজনই নিজেদের নাম লিখিয়েছেন ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে কম বয়সি বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের কাতারে। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের শিরোপা উঁচিয়ে ধরার সময় ইয়ামাল মাত্র ১৯ বছর ছয়দিনের তরুণ, আর কুবার্সির বয়স ১৯ বছর ১৭৮ দিন।

তবে এই গল্পের শুরু পেলের হাত ধরেই। ১৯৫৮ সালের সুইডেন বিশ্বকাপে ১৭ বছর ২৪৯ দিন বয়সে বিশ্বকাপ জিতে তিনি আজও সর্বকনিষ্ঠ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। শুধু শিরোপাই নয়, সেমিফাইনালে হ্যাটট্রিক ও ফাইনালে জোড়া গোল করে বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছিলেন ফুটবলের নতুন যুগের আগমনী বার্তা। আজও সেই রেকর্ড অটুট। পেলের ঠিক পরেই আছেন আরেক ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিও। ১৯৯৪ বিশ্বকাপ জয়ের সময় তার বয়স ছিল ১৭ বছর ২৯৮ দিন। যদিও সে আসরে মাঠে নামার সুযোগ পাননি, তবুও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নেন। ১৯৮২ সালে ইতালির বিশ্বজয়ী অভিযানে ১৮ বছর ১৭৪ দিন বয়সি জিউসেপ্পে বার্গোমি ছিলেন রক্ষণভাগের অন্যতম স্তম্ভ। তার পরের নাম ব্রাজিলের কৌতিনহো, যিনি ১৯৬২ সালে ১৯ বছর ছয়দিন বয়সে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হন। একই আসরে সতীর্থ মার্কো আন্তোনিওর বয়স ছিল ১৯ বছর ১৩৫ দিন। এরপর তালিকায় যোগ দেন ইতালির সান্দ্রো মাজ্জোলা (১৯ বছর ৩০৯ দিন), উরুগুয়ের রুবেন মোরান (১৯ বছর ৩৪৪ দিন) এবং ২০১৮ সালে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে (১৯ বছর ২০৭ দিন)। বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ তারা পেয়েছেন কৈশোরের শেষ প্রান্তে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রাইভেট সেক্টরে যাচ্ছে কক্সবাজারের আইকনিক রেলস্টেশন, পর্যটন হাব করার পরিকল্পনা সরকারের

২০২৬ বিশ্বকাপ: ১৯-এর কোঠায় বিশ্বজয়, ইয়ামাল-কুবার্সিরা যোগ দিলেন পেলের অভিজাত তালিকায়

আপডেট সময় : ১০:২৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

সতেরো বছর বয়সে এডসন আরান্তেস দো নাসিমেন্তো স্টকহোমের আকাশে উঁচিয়ে ধরেছিলেন জুলে রিমে ট্রফি। সেদিন ফুটবলের ইতিহাস তাকে পৃথিবীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল নতুন এক নামেÑপেলে। সে মুহূর্তটি শুধু একটি বিশ্বকাপ জয়ের গল্পই ছিল না; সেটি ছিল ফুটবল ইতিহাসে তারুণ্যের সবচেয়ে উজ্জ্বল ঘোষণাপত্রও। এরপর কেটে গেছে প্রায় সাত দশক। অসংখ্য কিংবদন্তি জন্ম নিয়েছেন, শত শত তারকা বিশ্বকাপ জিতেছেন। কিন্তু ২০ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে হাতেগোনা কয়েকজনেরই, যার শুরুটা করেছিলেন ব্রাজিলের ‘কালো মানিক’।

২০২৬ বিশ্বকাপ সেই অভিজাত তালিকায় যোগ করেছে আরো দুটি নতুন নাম; স্পেনের লামিন ইয়ামাল ও পাও কুবার্সি। নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সির ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে দুজনই নিজেদের নাম লিখিয়েছেন ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে কম বয়সি বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের কাতারে। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের শিরোপা উঁচিয়ে ধরার সময় ইয়ামাল মাত্র ১৯ বছর ছয়দিনের তরুণ, আর কুবার্সির বয়স ১৯ বছর ১৭৮ দিন।

তবে এই গল্পের শুরু পেলের হাত ধরেই। ১৯৫৮ সালের সুইডেন বিশ্বকাপে ১৭ বছর ২৪৯ দিন বয়সে বিশ্বকাপ জিতে তিনি আজও সর্বকনিষ্ঠ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। শুধু শিরোপাই নয়, সেমিফাইনালে হ্যাটট্রিক ও ফাইনালে জোড়া গোল করে বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছিলেন ফুটবলের নতুন যুগের আগমনী বার্তা। আজও সেই রেকর্ড অটুট। পেলের ঠিক পরেই আছেন আরেক ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিও। ১৯৯৪ বিশ্বকাপ জয়ের সময় তার বয়স ছিল ১৭ বছর ২৯৮ দিন। যদিও সে আসরে মাঠে নামার সুযোগ পাননি, তবুও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নেন। ১৯৮২ সালে ইতালির বিশ্বজয়ী অভিযানে ১৮ বছর ১৭৪ দিন বয়সি জিউসেপ্পে বার্গোমি ছিলেন রক্ষণভাগের অন্যতম স্তম্ভ। তার পরের নাম ব্রাজিলের কৌতিনহো, যিনি ১৯৬২ সালে ১৯ বছর ছয়দিন বয়সে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হন। একই আসরে সতীর্থ মার্কো আন্তোনিওর বয়স ছিল ১৯ বছর ১৩৫ দিন। এরপর তালিকায় যোগ দেন ইতালির সান্দ্রো মাজ্জোলা (১৯ বছর ৩০৯ দিন), উরুগুয়ের রুবেন মোরান (১৯ বছর ৩৪৪ দিন) এবং ২০১৮ সালে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে (১৯ বছর ২০৭ দিন)। বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ তারা পেয়েছেন কৈশোরের শেষ প্রান্তে।